Skip to main content

আয়নাভাই

একগাদা বই আছে - এখনও অপঠিত। বই পড়ার জন্য একটা উপযুক্ত পরিবেশ চাই - মনোনিবেশ যাতে বিঘ্নিত না হয়। তাই ঘর থেকে বেরোলে বই সঙ্গে নিয়ে বেরোই না। দূরে গেলে অবশ্যই থাকে।
ক'দিন থেকে খুব গরম পড়েছে এদিকটায়। তবু ঘর থেকে বেরোতেই হয় নানা কাজে। আজ এখন যেখানে এসেছি সেখানে বসতে হবে কিছুক্ষণ। কিছুক্ষণ মানে অনেকটা সময়ই বসতে হবে। ভাগ্যিস এসি আছে রুমগুলোতে। বসে আছি তাই। কিন্তু শুধু শুধু কি আর এভাবে বসে থাকা যায় ? অগত্যা ভরসা সেই অগতির গতি ফেসবুক বা মুখবই - যার কোনও পৃষ্ঠাসংখ্যা নেই। অনন্ত সময় ধরে আপনি উলটে যেতে পারেন (পড়ুন স্ক্রল করে যেতে পারেন) পৃষ্ঠা।
সত্যি কত যে বিচিত্র এই মুখবই। এখানে মুখটাই বড় কথা। বইটা গৌণ। তবু বইপত্রের খবরাখবর, লেখালেখিও থাকে দেদার। সেসব পড়ে কাটানো যায় অনেকটা সময়। নবরসের সবক'টা রসই পাওয়া যায় খুঁজলে। 
এই মুহূর্তে এটাই করছি। এক ফাঁকে মনে পড়ে গেল ফেসবুক নিয়ে আমার ব্যক্তিগত একটি চমকপ্রদ অভিজ্ঞতা। সেটাই নাহয় একটু শেয়ার করা যাক তবে। আমার এক ফেসবুক বন্ধু আছে। আছেন বললাম না কারণ সে আমার চেয়ে বয়সে ছোট। আমাকে দাদা বলে সম্বোধন করে - যদিও অনায়াসে ওর চাইতে বয়সে বড়রাও যেমন 'কাকু কিংবা আঙ্কল' বলে নিজেদের অনেকটা 'কচি' পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার রুচি রাখে তাদের মতোই সম্বোধন করতে পারত। 
তো আমার এই ফেসবুক বন্ধু, ধরা যাক নাম তার প্রসেনজিৎ (এখন থেকে ভাই বলব) বিভিন্ন বিষয়ে অনেকটাই অভিজ্ঞতা রাখে এবং মাঝে মাঝেই আমার পোস্টে সরাসরি মন্তব্য করে। মেসেঞ্জারেও যোগাযোগ রাখে প্রায়শ। ওর মন্তব্যগুলো খুবই স্পষ্ট এবং কাটাকাটা ধরনের। আমার লেখালেখির প্রশংসাও করে - সেও কেমন যেন। আমি সব সময় বুঝে উঠতে পারি না। ওর প্রোফাইল পিকচার দেখে ওর যে ছবি আমি মনের মধ্যে গেঁথে রেখেছি তাতে ওর উচ্চতা ন্যূনতম ছ'ফুট। মুখমণ্ডল অনেকটাই বড় এবং গালভর্তি দাড়ি। ভাই প্রায়শ আমাকে লিখে -'আমার শহরে এলে দেখা যেন পাই।'
আমি সত্যি সত্যি এতদিনে ওকে ভিতরে ভিতরে কিছুটা ভয় পেতে শুরু করেছি। আমি সচরাচর বিতর্কিত কিছু পোস্ট করি না। তবু অজ্ঞতাজনিত অনবধানতায় কী জানি কোথাও কিছু ভুল লিখেছি কিনা। সেসব নিয়ে হয়তো জবাবদিহি করতে চাইছে। তাই আমি একটু একটু করে ওকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেছি। 
কিন্তু ওই যে বলে না - যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যা হয় ? 
ততদিনে ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ প্রায় 'নেই'-এর পর্যায়ে চলে এসেছে। আমিও প্রায় ভুলতেই বসেছি তাকে। একদিন সেই শহর - যেখানে ও থাকে - সেখানকার এক সাহিত্য প্রতিষ্ঠান থেকে আমন্ত্রণ পেলাম একটি অনুষ্ঠানের মুখ্য অতিথি হবার। সময় ছিল হাতে। তাই রাজি হয়ে গেলাম। এমন মহৎ প্রচেষ্টা, সাধুসঙ্গ বরাবরই আমাকে যে টানে। হাতে দিন দশেকের ফুরসত ছিল। সেই হিসেবে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম এমন পর্যায়েই ঘটে গেল 'অঘটন'। আমন্ত্রণ গ্রহণ করার চার-পাঁচ দিনের মাথায় মেসেঞ্জারে ভেসে এল ভাইয়ের বার্তা - 'খবর পেয়েছি আপনি আসছেন। আমিও থাকব অনুষ্ঠানে। এবার দেখা হচ্ছেই।' 
আমি হতভম্ব। কী করব, কী লিখব বুঝে উঠতে পারছি না। এর কথাটি তো বেমালুম ভুলে বসে রয়েছিলাম। এখন কী হবে ? 
কী যে হবে তা জানি না। এক সময় বুঝালাম মনকে। যা হবার হবে। এখন আর পিছিয়ে যাওয়া যাবে না। খুবই অসৌজন্যকর হবে ব্যাপারটা। 
### 
যাচ্ছি ট্রেনে করে সম্মেলনের উদ্দেশে। গাড়িতে বসে আয়েস করে বসে স্ট্যাটাসও দিয়েছি -.... ইজ ট্র্যাভেলিং টু...। 
মুহূর্তে ভাইয়ের লাইক। আমার পালপিটেশন বাড়ছে। কী যে হবে.... কী যে হবে.... যা দশাসই চেহারা। 
পরদিন সকালে গিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে গেলাম। উদ্যোক্তারা এসেছেন হোটেলে। রুম দেখিয়ে দিয়ে খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করে চলে গেলেন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সারতে। আমি চান করে ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নিয়ে কিছুটা বিশ্রাম ও কিছুটা সান্ধ্য অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়ে একটা সময় ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ভয়ংকর এক বিপদের সামনে পড়ে চূড়ান্ত নাজেহাল হওয়ার দু:স্বপ্নে ভেঙে গেল ঘুম। 
###
তখন সন্ধ্যা নেমে আসছে শহর জুড়ে। না, সারা দিনে ভাইয়ের তরফ থেকে আর কোনও বার্তা আসেনি আমার উদ্দেশে। উদ্যোক্তারা হোটেলে এলেন আমাকে নিয়ে যেতে। আসার আগে ফোন করেছিলেন। তাই আমিও মুখ চোখ ধুয়ে কাপড় জামা পরে তৈরি হয়েই রয়েছিলাম। এর বাইরে উপায়ও ছিল না। নদীতীরবর্তী এই শহরে এসে শেষ মুহূর্তে তরী ডোবানোর কোনও ইচ্ছে ছিল না আমার। যা হবার হবে বলে বেরিয়ে পড়লাম তাঁদের সঙ্গে। বুকের ভেতর যতটা সম্ভব বল সঞ্চয় করে জয় মা বলে ভাসিয়ে দিলাম তরী। 
যথাসময়ে পৌঁছে গেলাম অনুষ্ঠান স্থলে। কিছুক্ষণ দর্শকাসনের প্রথম সারিতে বসিয়ে রেখে আমাকে মঞ্চে ডেকে নিলেন আয়োজকরা। এতক্ষণ এদিক ওদিক সতর্ক দৃষ্টি রেখে বসেছিলাম। এবার যেন সাময়িক ভাবে হলেও হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম মনে হল। 
মঞ্চ জুড়ে তীব্র আলোর ঝলক। আমি এক নির্গুণ ছাড়াও মঞ্চে আসীন হয়েছেন আরোও জনা চারেক গুণীজন। পাশের ভদ্রলোকের দিকে তাকিয়ে সৌজন্যের মুচকি ছড়িয়ে দিলাম আমি। তিনিও প্রত্যুত্তরে তেমনই করলেন। ফটোগ্রাফার এসে কিছুক্ষণ পর পরই ছবি তুলছিল আমাদের। সুতরাং মুচকিটাকে স্থায়ী ভাবেই রেখে দিতে হল ঠোঁটের কোণে। ভীষণ তৎপর এবং হাস্যময় উচ্ছল বলে মনে হল ফটোগ্রাফার ছেলেটিকে। একটু বেঁটে আকৃতির এবং তার মুখাবয়ব দেখে আংশিক প্রতিবন্ধী বলে মনে হল আমার। বুকের কোণে এক টুকরো কষ্ট এসে জায়গা করে নিল। তাছাড়া অবাক হলাম দেখে যে ফটোগ্রাফার ছেলেটির সঙ্গে কোনও ক্যামেরা নেই। মোবাইল দিয়েই ফ্ল্যাশ সহ ফটো তুলছে - ক্লিক ক্লিক। আজকাল অবশ্য ভীষণ হাই রিজল্যুশনের মোবাইল বেরিয়েছে যা ভালো ভালো ক্যামেরার সঙ্গে টেক্কা দিচ্ছে দস্তুরমতো। 
অনুষ্ঠান শুরু হল যথা সময়ে। আমিও ততক্ষণে অনেকটা নির্ভয় হয়ে গিয়েছি। সুতরাং প্রস্তুতি মতোই ঘটে যেটুকু আছে, উপুড় করে দিলাম সব। হাততালি পড়ল অনেকটা, সে অবশ্য সৌজন্যের খাতিরে, কর্তব্যের খাতিরে এবং হাঁফ ছেড়ে বাঁচার আনন্দেও পড়ে থাকে। অনুষ্ঠান শেষে মঞ্চের পাশেই স্ক্রীন দিয়ে তৈরি করা এক অস্থায়ী আস্তানায় আমাদের বসিয়ে একটু চা-জলপানের বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। তো সেই চা-চক্রে যখন চক্রবর্তী হয়ে বসে গাল-গল্প করছি তখনও দেখলাম ফটোগ্রাফার ছেলেটি মাঝে মাঝেই এসে ছবি তুলছে। দেখলাম ছেলেটি সেখানে বেশ জনপ্রিয়। অনেকেই কথা বলছেন তার সঙ্গে। নামটাও শুনতে পেলাম - বিট্টু। 'এই বিট্টু চায়ের কাপগুলো ধর', 'এই বিট্টু ছবিগুলো পাঠিয়ে দিবি আমাকে'....। বিট্টুও হাসিমুখে মাথা নাড়ছে, কাজ করছে। আমারও একটু আলাপ করার ইচ্ছে ছিল বিট্টুর সঙ্গে। বিশেষ করে ছবিগুলো পাওয়ার জন্য। তাছাড়া মনে পড়ল যে এই ছেলেটার ছোটাছুটি দেখতে দেখতে এক সময় ‘ভাই’এর ভয় আমার উবেই গিয়েছিল। এখন আবার মনে পড়তে আবার সেই বিচলিত ভাব।
ভাই বলেছিল অনুষ্ঠানে আসবে। আসেনি রক্ষে। মান সম্মানের প্রশ্নে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম বটে অনেকটাই। এবার অনুষ্ঠান যখন শেষ তাহলে হোটেলে ফিরে যাওয়া যেতেই পারে। কাল সকালে আবার ফেরত যাত্রার টিকেট কাটা আছে। নির্বিঘ্নে ফিরতে পারলেই বিষম বাঁচন বেঁচে যাব। আয়োজকদের বিদায় জানিয়ে এবার হোটেলে ফিরে যেতে উঠে দাঁড়িয়েছি - দেখি ফটোগ্রাফার ছেলেটি এগিয়ে আসছে আমার দিকে। কাছে এসে বলল - ‘দাদা, চিনতে পেরেছেন ? আমি প্রসেনজিৎ। এখানে সবাই আমাকে বিট্টু বলে ডাকে।‘
ভাই ?? আমার বুক নয়, কেঁপে উঠেছে পুরো মাথাটাই। সেই ছ’ফুটের প্রসেনজিৎ এই ছেলে ? বড্ড মায়া লেগে গেল। স্পষ্ট বুঝতে পারছি ভাই শারীরিক এবং হয়তো খানিকটা মানসিক ভাবেও প্রতিবন্ধী। 
আবার বসে পড়লাম চেয়ারে। ভাইকে পাশে বসিয়ে অনেক অনেক কথা হল। সত্যিই ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে অগাধ জ্ঞান রাখে ভাই। কিন্তু তার অবয়বটা আমি যা ভেবেছিলাম ছবি দেখে, তার ধারে কাছেও নয়। কেন এমন হয় ? কেন আমার এই মিথ্যে ভয় ? ভাবছিলাম। 
তখনই মনে পড়ল - মহিলাদের নিয়ে এই ফেসবুকেই পড়েছিলাম, ‘প্রশ্ন - আয়নার বিপরীতার্থক শব্দ কী ? উত্তর - ফেসবুক প্রোফাইল।’ ভাই তো পুরুষ। সেই বা কম যায় কীসে ?
হোটেলে ফিরে গভীর রাত অবধি আন্তরিক কথাবার্তায় মগ্ন হয়ে রইলাম তার সঙ্গে - আমি ও আমার লেখালেখির পরম ভক্ত, আমার আয়নাভাই।

Comments

Popular posts from this blog

গুয়াহাটিতে বিদ্বৎসমাজের দেশ, ধর্ম ও সমাজ ভাবনা বিষয়ক আলোচনা সভা

সম্প্রতি গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও প্রাবন্ধিক খগেনচন্দ্র দাসের আহ্বানে গুয়াহাটি, লালগণেশ অঞ্চলের শান্তিনগরে অবস্থিত পূর্বাশা বিদ্যানিকেতনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়েছিলেন মহানগরের বিদ্বৎসমাজের একাধিক ব্যক্তি। আলোচনার বিষয় ছিল ‘বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মের অবস্থান ও প্রয়োজনীয়তা’। সভায় সাহিত্য, সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে জড়িত বহু ব্যক্তির বাইরেও উপস্থিত ছিলেন সুশীল সমাজের একাধিক গুণীজন। এদিন এই সান্ধ্যসভায় আহ্বায়কের বাইরে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা হলেন - বিজয় ভূষণ দে, সিদ্ধার্থ কুমার দত্ত, মনতোষ চন্দ্র দাস, নির্মল চন্দ্র দাস, পীযূষ দেব, শংকর পণ্ডিত, অসিত কুমার সরকার, শাশ্বতী চৌধুরী, ঋতা চন্দ, সুচরিতা সান্যাল, রবিশংকর দত্ত, তাপসী চৌধুরী, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, মধুমিতা দত্ত, মীনাক্ষী চক্রবর্তী, রুদ্রাণী দত্ত, বীণা রায়, মুক্তা সরকার, অনুরাধা দাস পাত্র, জয়া নাথ ও স্বর্ণালি চৌধুরী।     মূল প্রসঙ্গের ধারাবাহিক আলোচনায় উঠে এসেছে একাধিক প্রসঙ্গ - আজকের দিনে ঋষি অরবিন্দের ভাবনার প্রয়োজনীয়তা, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের মানবিক দিক, হিন্দু সমাজে গুরুবাদ ও বিভেদ, ডিপস্টেটে...

প্রতিবাদী শরৎ

এ কেমন শরৎ এল এবার ? বর্ষা শেষের পক্ষকাল আগে থেকে চারপাশ জুড়ে যে অস্থিরতার সূত্রপাত তা এসে নতুন করে প্রকাশিত হল শরতের সূচনায় । বাংলাদেশের পর পশ্চিমবঙ্গে । এমন শরৎ আগে দেখিনি কখনও । আমরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষদের জন্য শরতের এক অন্যরকম মাহাত্ম্য । পেঁজা তুলোর মেঘের ফাঁকে ফাঁকে একদিকে যেমন রংবেরং - এর ঘুড়ি ওড়ে আকাশে অন্যদিকে তেমনই শিশিরসিক্ত সকালের ঘাসবনে লুটিয়ে পড়ে রাতের বৃন্তচ্যুত শিউলি মা দুর্গার চরণপথে । দিকে দিকে এক গন্ধমাতন আলোড়ন । নদীচরে , পাহাড়ের ঢালে গুচ্ছ কাশের দোলায় দোলে ওঠে অঙ্গ । কাশের বনে খেলে বেড়ায় নব্যদুর্গারা।   আলোড়ন মনাকাশ জুড়েও । মাতন মনন জুড়েও । দোলন আবালবৃদ্ধের অঙ্গে অঙ্গে । আকাশে বাতাসে কান পাতলে , চোখ রাখলেই মাতৃমুখ - মননসুখ । মা আসছেন । দুর্গতিনাশিনী মা । বরাভয় হাতে তিনি ঘুচিয়ে দেবেন যত দুঃখশোক । অসুরশূন্য হবে এ পৃথিবী । প্রতিবারই এভাবে শরৎ আসে পৃথিবীর বুকে , প্রতিবারই আমরা এমনই ভাবনায় ডুবে থেকে এমনই কল্পনায় করি দিনাতিপাত । অথচ চোখের সামন...

নিবেদিত সাহিত্যচর্চার গর্বিত পুনরাবলোকন - ‘নির্বাচিত ঋতুপর্ণ’

সাধারণ অর্থে বা বলা যায় প্রচলিত অর্থে একটি সম্পাদনা গ্রন্থের মানে হচ্ছে মূলত অপ্রকাশিত লেখা একত্রিত করে তার ভুল শুদ্ধ বিচার করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সম্পাদনার পর গ্রন্থিত করা । যেমনটি করা হয় পত্রপত্রিকার ক্ষেত্রে । অপরদিকে সংকলন গ্রন্থের অর্থ হচ্ছে শুধুই ইতিপূর্বে প্রকাশিত লেখাসমূহ এক বা একাধিক পরিসর থেকে এনে হুবহু ( শুধুমাত্র বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে ন্যূনতম সংশোধনসাপেক্ষে ) একত্রীকরণ । সেই হিসেবে আলোচ্য গ্রন্থটি হয়তো সম্পাদনা গ্রন্থ নয় , একটি সংকলন গ্রন্থ । বিস্তারিত জানতে হলে যেতে হবে সম্পাদক ( সংকলক ) সত্যজিৎ নাথের বিস্তৃত ভূমিকায় । পুরো ভূমিকাটিই যদি লেখা যেতো তাহলে যথাযথ হতো যদিও পরিসর সে সায় দেয় না বলেই অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো এখানে - ‘ সালটা ১৯৯০ । ‘ দৈনিক সোনার কাছাড় ’- এ একবছর হল আসা - যাওয়া করছি । চাকরির বয়স হয়নি তাই চাকরি নয় , এই ‘ আসা - যাওয়া ’ । …. হঠাৎ করেই একদিন ভূত চাপল মাথায় - পত্রিকা বের করব । ‘… সেই শুরু । অক্টোবর ১৯৯০ সালে শারদ সংখ্যা দিয়ে পথচলা শুরু হল ‘ঋতুপর্ণ’র। পরপর দুমাস বের করার পর সেটা হয়ে গেল ত্রৈমাসিক। পুরো পাঁচশো কপি ছাপাতাম ‘মৈত্রী প্রকাশনী’ থেকে।...