৩৪ পৃষ্ঠার কাব্য সংকলনে ৩২ টি
কবিতা। স্বভাবতই কলেবরে নাদুসনুদুস নয় মোটেও। তবু মাঝে মাঝে স্বকীয়তার দাবি নিয়ে আলোচনায়
এসে যায় কিছু ক্ষীণতনু সম্ভারও। এমনই একটি সংকলন কবি অশোক বার্মার
‘মেঘের ফাঁকে ফাঁকে আলো’।
অশোক বার্মা অসমের বরাক উপত্যকাই শুধু নয় উত্তর পূর্বের এই সাহিত্য আকাশের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। বাংলা ও হিন্দি উভয় ভাষায় তাঁর সমান্তরাল সৃষ্টি একাধারে আকর্ষণীয় এবং ঈর্ষনীয়ও বটে। একইভাবে সাহিত্যের প্রায় সবক’টি ধারায় তাঁর অবাধ বিচরণ। কবিতা, গদ্যসাহিত্য, সম্পাদনা এবং অনুবাদ সাহিত্যের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য তাঁর অবদান ও অবস্থান। উৎকর্ষ ও জ্ঞানের সমান্তরাল চলন তাঁর লেখায় প্রত্যক্ষ করা যায়। স্বাভাবিক ভাবেই আলোচ্য সংকলনে আলোর বিচ্ছুরণ ঘটিয়েছেন কবি, তবে তা কালো মেঘের ফাঁকে ফাঁকে নয়। পুরো সংকলন জুড়েই শুভ্র মেঘদলে ঝলমলে আলোকরশ্মির আলোকমালার মতো।
কবির ‘নারায়ণদা হীরেন্দ্র চন্দ্র চক্রবর্তী’কে উৎসর্গ করা এই কাব্য সংকলনের ভূমিকায় কবি লিখছেন - ‘আকাশে নিরন্তর টুকরো টুকরো মেঘের ঘোরাঘুরি। পেছনে সূর্যচ্ছটায় কখনো মেঘের অপূর্ব রংবাহার। ......গোধূলির বিচিত্র বর্ণালি আকাশকে মনোমুগ্ধ করে। কভু কভু মেঘের ফাঁকে ফাঁকে আলো। (কবি ভূমিকাতেই স্পষ্টত কাব্যিক) ...মনাকাশেও ভাবনা-মেঘের পায়চারি। বিভিন্ন সময়ে রচিত কবিতাগুলি সংগ্রহ করে, কাটছাঁট করে, কভু সম্পূর্ণ বদলে এই সংকলনে সংকলিত করা হয়েছে।’ .........
ভেতরের পৃষ্ঠাসমূহে বিচ্ছুরিত বর্ণালির দিকে আলোকপাত এবং কবিতা পাঠ শুরু করলেই যে বোধ অনতিবিলম্বে পাঠক হৃদয়ে পাকাপোক্ত ভাবে বাসা বাঁধবে তা হল কবির ইচ্ছেনদীতে ভাসমান হয়ে আসা অকপট স্মৃতিকথনের ছবি। প্রায় প্রতিটি কবিতাতেই কবি ছুঁয়ে গেছেন কিছু ব্যতিক্রমী স্মৃতিগাথা, এঁকেছেন কিছু আপন স্মৃতিতে ভাস্বর হয়ে থাকা মনন-যাপন এবং ধরে রাখতে চেয়েছেন কবিতার মহাফেজখানায় কখনও সরল - সহজ আবার কখনও কাব্যময় কথনচিত্রে। স্মৃতিতেই বিভোর হয়ে যান কবি কবিতার ছত্রে ছত্রে -
সন্ধ্যাবেলা তুলসী তলায় প্রদীপ জ্বালিয়ে
গুনগুন স্তব-স্তুতি করা মায়ের
ছবি, বসে একা একা আমি দেখি......
ইতিউতি দৃষ্টি বুলাই
যদি কেউ সস্নেহে ডাকে। (কবিতা - আশা)
আবার - কোন কোন দিন সবকিছু অর্থহীন মনে হয়/ সমস্ত উদ্যম আয়োজন যেন অকেজো পাথর/ মনের ভিতর রিক্ততার প্রবাহ/ অতঃপর নদী হয়। ...... (কবিতা - কোন কোন দিন)
এভাবেই স্মৃতির পাতা, ভাবনার আবহমানতায় একে একে উঠে আসে সমকাল। উঠে আসে উদবিগ্নতা, শঙ্কা এবং অনাচার, অত্যাচারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ। আবার বৈচিত্র্যের ধারায় কবিতার শরীরে কবি এঁকে দেন ‘স্বীকারোক্তি’, ‘আগ্রহ’, ‘আশাপূরণ’, ‘অজানা অনন্ত’ - ‘ঘোর’।
নিশ্চিত অনবধানতায় কিছু বানানের শুদ্ধতায় খামতির বাইরে স্পষ্ট ছাপা (মুদ্রক নাম অনুল্লেখিত, যেমন অনুল্লেখিত প্রচ্ছদ শিল্পীর নামও) সম্বলিত এই সুপাঠ্য সংকলনের প্রকাশক বালার্ক প্রকাশন, শিলচর।
অশোক বার্মা অসমের বরাক উপত্যকাই শুধু নয় উত্তর পূর্বের এই সাহিত্য আকাশের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। বাংলা ও হিন্দি উভয় ভাষায় তাঁর সমান্তরাল সৃষ্টি একাধারে আকর্ষণীয় এবং ঈর্ষনীয়ও বটে। একইভাবে সাহিত্যের প্রায় সবক’টি ধারায় তাঁর অবাধ বিচরণ। কবিতা, গদ্যসাহিত্য, সম্পাদনা এবং অনুবাদ সাহিত্যের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য তাঁর অবদান ও অবস্থান। উৎকর্ষ ও জ্ঞানের সমান্তরাল চলন তাঁর লেখায় প্রত্যক্ষ করা যায়। স্বাভাবিক ভাবেই আলোচ্য সংকলনে আলোর বিচ্ছুরণ ঘটিয়েছেন কবি, তবে তা কালো মেঘের ফাঁকে ফাঁকে নয়। পুরো সংকলন জুড়েই শুভ্র মেঘদলে ঝলমলে আলোকরশ্মির আলোকমালার মতো।
কবির ‘নারায়ণদা হীরেন্দ্র চন্দ্র চক্রবর্তী’কে উৎসর্গ করা এই কাব্য সংকলনের ভূমিকায় কবি লিখছেন - ‘আকাশে নিরন্তর টুকরো টুকরো মেঘের ঘোরাঘুরি। পেছনে সূর্যচ্ছটায় কখনো মেঘের অপূর্ব রংবাহার। ......গোধূলির বিচিত্র বর্ণালি আকাশকে মনোমুগ্ধ করে। কভু কভু মেঘের ফাঁকে ফাঁকে আলো। (কবি ভূমিকাতেই স্পষ্টত কাব্যিক) ...মনাকাশেও ভাবনা-মেঘের পায়চারি। বিভিন্ন সময়ে রচিত কবিতাগুলি সংগ্রহ করে, কাটছাঁট করে, কভু সম্পূর্ণ বদলে এই সংকলনে সংকলিত করা হয়েছে।’ .........
ভেতরের পৃষ্ঠাসমূহে বিচ্ছুরিত বর্ণালির দিকে আলোকপাত এবং কবিতা পাঠ শুরু করলেই যে বোধ অনতিবিলম্বে পাঠক হৃদয়ে পাকাপোক্ত ভাবে বাসা বাঁধবে তা হল কবির ইচ্ছেনদীতে ভাসমান হয়ে আসা অকপট স্মৃতিকথনের ছবি। প্রায় প্রতিটি কবিতাতেই কবি ছুঁয়ে গেছেন কিছু ব্যতিক্রমী স্মৃতিগাথা, এঁকেছেন কিছু আপন স্মৃতিতে ভাস্বর হয়ে থাকা মনন-যাপন এবং ধরে রাখতে চেয়েছেন কবিতার মহাফেজখানায় কখনও সরল - সহজ আবার কখনও কাব্যময় কথনচিত্রে। স্মৃতিতেই বিভোর হয়ে যান কবি কবিতার ছত্রে ছত্রে -
সন্ধ্যাবেলা তুলসী তলায় প্রদীপ জ্বালিয়ে
গুনগুন স্তব-স্তুতি করা মায়ের
ছবি, বসে একা একা আমি দেখি......
ইতিউতি দৃষ্টি বুলাই
যদি কেউ সস্নেহে ডাকে। (কবিতা - আশা)
আবার - কোন কোন দিন সবকিছু অর্থহীন মনে হয়/ সমস্ত উদ্যম আয়োজন যেন অকেজো পাথর/ মনের ভিতর রিক্ততার প্রবাহ/ অতঃপর নদী হয়। ...... (কবিতা - কোন কোন দিন)
এভাবেই স্মৃতির পাতা, ভাবনার আবহমানতায় একে একে উঠে আসে সমকাল। উঠে আসে উদবিগ্নতা, শঙ্কা এবং অনাচার, অত্যাচারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ। আবার বৈচিত্র্যের ধারায় কবিতার শরীরে কবি এঁকে দেন ‘স্বীকারোক্তি’, ‘আগ্রহ’, ‘আশাপূরণ’, ‘অজানা অনন্ত’ - ‘ঘোর’।
নিশ্চিত অনবধানতায় কিছু বানানের শুদ্ধতায় খামতির বাইরে স্পষ্ট ছাপা (মুদ্রক নাম অনুল্লেখিত, যেমন অনুল্লেখিত প্রচ্ছদ শিল্পীর নামও) সম্বলিত এই সুপাঠ্য সংকলনের প্রকাশক বালার্ক প্রকাশন, শিলচর।
বিদ্যুৎ চক্রবর্তী
মূল্য - ৫০ টাকা, যোগাযোগ - ৯৯৫৪৯৬১৭২৯

Comments
Post a Comment