Skip to main content

ঈশান বাংলার অবিসম্বাদিত সাহিত্যিক মনোমোহন মিশ্র ও তাঁর ‘খেয়াঘাট’


অপ্রিয় সত্য কথাটি প্রথমেই বলে ফেলা ভালো। কথায় আছে আগে তেতো, পরে মিঠে। ইতিহাস বড়ই বিচিত্র। এবং বিতর্কিতও বটে। ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই পাওয়া খুব সহজ কথা নয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই কাজে ব্যক্তিবিশেষের কোনও অবদান কিংবা কর্মকাণ্ড কোনও প্রতিপাদ্য বিষয় নয়। প্রতিপাদ্য হচ্ছে সেই ব্যক্তিবিশেষের মূল্যায়ন। মূল্যায়নকারী বা ইতিহাসকারগণের অবদান বা কর্মকাণ্ডই মূল প্রতিপাদ্য। এবং এটাও নিশ্চিত সত্য যে ইতিহাসকারদের মূল্যায়ন বহুলাংশে ইজম্‌ দ্বারা নির্ধারিত। যুগ যুগ ধরে চলে আসা এক বিশেষ গোষ্ঠীর এক গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। তারই ফলশ্রুতি বহু বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম ও কর্মারাজির ইতিহাসে ঠাঁই না পাওয়া এবং অপেক্ষাকৃত নিম্ন মেধার, নিম্ন কার্যক্ষমতাধর ব্যক্তিদের নাম ইতিহাসের পাতায় সংযোজন আর এখানেই বিড়ম্বনা।
ব্যতিক্রম নয় সাহিত্য-সংস্কৃতির ক্ষেত্রটিও বিশেষ করে সাহিত্য-ক্ষেত্রে এই বিড়ম্বনার বাড়বাড়ন্ত সেকাল থেকে একাল অবধি। এবং ওপার থেকে এপার বাংলা এমনকি আমাদের একান্ত নিজস্ব এই উত্তরপূর্ব বা বলা ভালো ঈশান বাংলার ক্ষেত্রেও। গুণমানসম্পন্ন সাহিত্যসৃষ্টির ক্ষেত্রটিতে বড়ই দৃষ্টিকটুভাবে লক্ষ করা যায় এক বিশেষ লেখক গোষ্ঠীর লেখালেখিকে সমক্ষে তুলে ধরার নিরন্তর প্রচেষ্টায় ব্রতী হতে এক বিশেষ আদর্শে প্রাণিত স্তাবকগোষ্ঠীকে। সীমিত এই পরিসরের বাইরে গুণী কবি সাহিত্যিকদের প্রচারের বাইরে রেখে একঘরে করে রেখে দেওয়ার এই প্রবণতা আবহমান কাল ধরেই চলে আসছে এবং আজও সমান হারে বর্তমান। তথাকথিত বহু বিশিষ্ট ও প্রথিতযশা কবি সাহিত্যিকের সাহিত্য যে পাতে দেওয়ার যোগ্য নয় তা সবাই অনুধাবন করলেও স্রোতের বিপক্ষে কথা বলার সাহস স্বভাবতই সঞ্চয় করা হয়ে ওঠে না। আর অপরদিকে কত যে প্রতিভা শুধু প্রচারের অভাবে পাণ্ডুলিপিবদ্ধ হয়ে রইল এই পৃথিবীর বুকে, কে তার হিসেব রাখে ?
এমনই এক সংগঠিত অবহেলার শিকার সাহিত্যিক মনোমোহন মিশ্র। তাঁর সর্বশেষ প্রকাশিত পরমোৎকর্ষের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ খেয়াঘাট’-এ প্রবেশ করার আগে লেখকের সাহিত্যকৃতির দিকে এবং সার্বিক সাহিত্যিক-জীবনের প্রতি সামান্য অবলোকন করা প্রাসঙ্গিক হবে। মনোমোহন মিশ্র মহাশয় কেন্দ্রীয় সরকারের ডিফেন্স অ্যাকাউন্টস বিভাগে কৃতিত্বের সঙ্গে চাকরি শেষ করে অবসর জীবনে মূলত লেখালেখি ও পত্রিকা সম্পাদনার কাজে নিজেকে নিযুক্ত করে রেখেছিলেন। কর্মদক্ষতার জন্য পেয়েছেন বিভাগীয় পুরস্কার। দৈনিক যুগশঙ্খ পত্রিকায় সহ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন বহু দিন। এর পর শিলচর থেকে প্রকাশিত গতি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন আমৃত্যু। তাঁর হাত ধরে উঠে এসেছেন বহু নবীন প্রবীণ অনাবিষ্কৃত কবি, সাহিত্যিক। প্রতিটি দায়িত্বে তিনি ছিলেন নিষ্ঠাবান, আত্মনিবেদিত।   
তাঁর সাহিত্যকৃতির পরিসর বহু বিস্তৃত। প্রকাশিত হয়েছে ৯টি গ্রন্থ। প্রকাশিত গ্রন্থের তালিকা -
শ্রীহট্টের মিশ্রবংশ কথা - ইতিহাসমূলক গবেষণা গ্রন্থ।
বেঁচে আছি আমরা কজন - কবিতা ও ছোটগল্প।
কিছু আশা ভালোবাসা - বাংলা ফিচার।
উড়ান - প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ীর হিন্দি কবিতার বাংলা অনুবাদ।
খেয়ালি মন - প্রবন্ধ সংকলন।
বিয়ে নিয়ে বিরাশি - রম্য প্রবন্ধ সংকলন।
মিঠে রোদ্দুর - উপন্যাস।
কুসুমলতা - উপন্যাস।
খেয়াঘাট - মৃত্যুর কিছুদিন পূর্বে প্রকাশিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।
এছাড়া রয়েছে সিলেটি কুট্টি মহাভারত - মাত্র ৭৫০ শব্দর মধ্যে পুরো মহাভারতের কথা ছন্দের মাধ্যমে লেখা পুস্তিকা।
এর বাইরেও বহু রসাত্মক কবিতা, সিলেটি কবিতা তিনি লিখেছেন। পেয়েছেন সিলেটি সাহিত্য রথী - ২০২৩ পুরস্কারও। হয়েছে তাঁর চারটি কবিতার চলচ্চিত্রায়ন। প্রকাশিত হয়েছে সিডি।  
অতীত থেকে বর্তমান সমাজের নানা রকম সমস্যা ও সমাজের ভিতরের কথা খুব সুন্দর করে তাঁর লেখার মধ্যে ফুটে উঠেছিল। ২৯ নভেম্বর ১৯৫০ থেকে ৮ এপ্রিল ২০২৪ - যবনিকা পড়ল এক শুদ্ধ, সংস্কৃত জীবনযাত্রার। আচমকাই যেন খেয়াঘাটহয়ে ঘরেই চলে গেলেন ৭৪ বছর বয়সেও অফুরান প্রাণচাঞ্চল্যের অধিকারী শ্রীহট্টের বিখ্যাত মিশ্র বংশের এই বহুমুখী প্রতিভাধর ব্যক্তি, এই বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, সম্পাদক, চিত্রশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শ্রী মনোমোহন মিশ্র, যাঁর ঘরের দেয়ালে শোভা পেত নিজের সৃষ্ট গুচ্ছ গুচ্ছ চিত্রশিল্প। বিশেষ করে শাস্ত্রীয় ঘরানার বাদ্য সংগীতে তাঁর যোগদান ছিল উচ্চস্তরের।
যেখানে একটিমাত্র গ্রন্থ লিখেই ‘স্বনামধন্য’ হয়ে যান বহু সৌভাগ্যবান লেখক - সৌজন্যে সেই স্তাবক গোষ্ঠী, বিশেষ করে যদি দেশভাগের উপর দু=এক লাইন কান্নাকাটি করা যায়, সেখানে এত এত সাহিত্যকৃতির পরেও অনুচ্চারিতই রয়ে গেল মনোমোহনের নাম - সৌজন্যে স্তাবকহীনতা। হলেন না তিনি কোনও বিশিষ্টতার অধিকারী, পেলেন না কোনও পুরস্কার। তবে জীবনের শেষ পর্বে এসে কিছুটা প্রশংসা জুটেছে তাঁর ভাগ্যে - সৌজন্যে নবজাগরণের কাণ্ডারি কিছু তরুণ দল।
এবার আসা যাক এই সাহিত্যিকের জীবনের শেষ প্রকাশিত গ্রন্থটির ব্যাপারে। সৌভাগ্যবশত এই গ্রন্থটি প্রকাশের প্রাক্কালে এবং প্রকাশিত হওয়ার পর দুইবার তাঁর মুখোমুখি বসার সুযোগ হয়েছিল এই প্রতিবেদকের। সেই আলাপচারিতায় তিনি জানিয়েছিলেন এই গ্রন্থটি তাঁর বহু দিনের জমে থাকা ভাবনার ফসল। এটি উপন্যাস বলে মনে হলেও আসলে এ তাঁর আত্মজীবনী। মৃত্যুকে যেন দুয়ারে দেখতে পেরেছিলেন তিনি। বইটি প্রকাশে বিলম্ব ঘটায় তিনি অধীর হয়ে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছিলেন প্রকাশকের উপর এবং আশ্চর্যজনকভাবে প্রকাশের মাস দুয়েকের মধ্যেই আচম্বিতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি পাড়ি দেন পরপারে। কী আশ্চর্য এক গ্রন্থনাম। যেন পূর্ব পরিকল্পিত।
গ্রন্থটি তিনি অগতানুগতিকভাবে সচিত্র উৎসর্গ করেছিলেন ‘মহাপ্রভু শ্রী শ্রী চৈতন্যদেবের চরণকমলে’। যেন ঘরে ফেরার এক পরিকল্পিত আয়োজন। এই প্রতিবেদককে তিনি উপহার দিয়েছিলেন গ্রন্থটি। বস্তুত গ্রন্থটি হস্তান্তরের জন্য দস্তুর মতো তাড়া দিচ্ছিলেন তিনি। শুভেচ্ছা বার্তায় গ্রন্থে তিনি চমৎকার হস্তলিপিতে লিখেছিলেন কবিগুরুর কবিতা থেকে উদ্ধৃত দুটি পঙ্‌ক্তি -
এই খেয়া চিরদিন চলে নদীস্রোতে
কেহ যায় ঘরে, কেহ আসে ঘর হতে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
জীবন সম্পর্কে এক নস্টালজিক ধ্যান ধারণার অপূর্ব বয়ানে লিখিত গ্রন্থটিতে গদ্য ও পদ্যের সংমিশ্রণে রচিত হয়েছে এক পরম উৎকর্ষজনিত আত্মকথা। ‘প্রারম্ভিক কথা’ শিরোনামে ১৬০ পৃষ্ঠার এই সুগ্রথিত উপন্যাসোপম গ্রন্থের ভূমিকায় রবীন্দ্রনাথের ‘পনেরো আনা’ রচনাটির প্রেক্ষিতে তিনি লিখছেন - ...বিধাতার প্রসাদে হরিণের শিং ও ময়ূরের পুচ্ছের মতো সংসারে আমরা অধিকাংশ লোকই বাহুল্য, আমাদের অধিকাংশেরই জীবন জীবনচরিত লিখিবার যোগ্য নহে এবং সৌভাগ্যক্রমে আমাদের অধিকাংশেরই মৃত্যুর পরে পাথরের মূর্তি গড়িবার নিষ্ফল চেষ্টায় চাঁদার খাতা দ্বারে দ্বারে কাঁদিয়া ফিরিবে না। ...আমরা সাধারণ পনেরো আনা, আমরা নিজেদের যেন হেয় বলিয়া জ্ঞান না করি। আমরাই সংসারের গতি। পৃথিবীতে, মানুষের হৃদয়ে আমাদের জীবনস্বত্ব। ...জীবনে চলার পথে সুখ-দুঃখ, আশা-নিরাশা সবই রয়েছে আমাদের। রয়েছেন বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন। সবার সাথে রং মিশিয়ে আমরা বেশ আছি। আমাদের কথা আমরা ভাগ করে নেব - এটাই প্রত্যাশিত। সেই প্রত্যাশা নিয়েই নানা কথার মালা সাজিয়েছি -
জীবনের তরীখানি যায় ভেসে যে যায়
দু-কূলের মায়াছবি দূর গগনে মিলায়...
মায়াময় জীবনে কত সঙ্গসুধা পান...। এক ঘাটের প্রাপ্তি আরেক ঘাটের অপ্রাপ্তিকে ভোলায়... হারিয়ে যাওয়া সুন্দর সময় বার বার উঁকি মারে চোখের সামনে। হাতছানি দিয়ে বলে - আয়, যাবি ? বুকে এক যন্ত্রণা বোধ হয়। তখন শুধু তাঁর সাথে অলক্ষ্য আলাপন। পুরোনো ঘাটে নোঙর বেঁধে বহুদিন কাটানোর নানা ছোট, বড় ঘটনাকে শব্দরূপ দিই। ভাবীকালে কেউ হয়তো এ থেকে সামান্য কিছু রসদ পেলেও পেতে পারেন - ভাবনা এতটুকুই...।
গ্রন্থটি জুড়ে রয়েছে মোট ১৩টি অধ্যায়। শিরোনাম যথাক্রমে - খেয়াঘাট, পড়াশোনার দিনগুলি, কর্মজীবনের ডাক, বরাকপারে সাংস্কৃতিক আঙিনায়, ডাওকি নদীর ধারে মেঘবালিকার দেশে, মহানন্দার তীরে, লুইত পারে, আবারও বরাকের কূলে, যমুনা পারে, বরাক পারে প্রিয় ঠিকানায়, করোনাকাল, গঙ্গা-কোপাই তীরে এবং শেষের কথা। প্রতিটি অধ্যায়ে যে চিত্তাকর্ষক ধারায় তুলে ধরেছেন তাঁর অনুভব, তাঁর জীবনধারা তাতে এই গ্রন্থটিকে অনায়াসে এক উপন্যাসের মর্যাদায় অভিষিক্ত করা যায়। যেখানেই গেছেন, যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন তার এক যৌক্তিক ও অনায়াস-দক্ষ লিখনশৈলীতে রচিত ব্যাখ্যায় পাঠকের চোখের সামনে একাধারে সৃষ্টি করেছেন এক দর্পণ, এক ভালোলাগা পঠনসুখ। শেষের আগের অধ্যায়ে তিনি নিঃশঙ্কচিত্তে তুলে ধরেছেন কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তিকে কীভাবে বিস্মৃতির অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছেন কিছু স্তাবক ইতিহাসবিদ তার প্রতিবাদী বয়ানএসব সপাট কথার জেরেই লেখক নিজেই রয়ে গেলেন উল্লেখের বাইরে, বিস্মৃতির ঘেরাটোপেএই তো ধারা চিরপ্রবহমান।
‘শেষের কথা’য় তাঁর বয়ান চিরস্থায়ী দাগ রেখে যায় পাঠকের অন্তরে - ‘এবার কোন কূলে ভিড়বে তরী - জানা নেই। খেয়াঘাটে বাঁধা তরণীখানার পাল খুলে আবারও পাড়ি জমাতে হবে কোনও অজানা ঠিকানায়। এই নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটার জো নেই। রবিঠাকুরের ভাষায় -
খেয়া নৌকা পারাপার করে নদীস্রোতে,
কেহ যায় ঘরে, কেহ আসে ঘর হতে...
এই খেয়া চিরদিন চলে নদীস্রোতে
কেহ যায় ঘরে, কেহ আসে ঘর হতে...’
শেষ পারানির কড়ি হাতে কি কিছু রইল, তা ভেবে উঠতে পারি না। জীবনসায়াহ্নে ঘরে ফিরে কেবলই সেই হিসেব নিকেশ। অঙ্ক মেলে কি ? কে জানে। - কী ঘোর লাগা উচ্চারণ, সাহিত্যগুণে ভরপুর কী নির্মোহ জবানবন্দি।  
অত্যন্ত উচ্চমানের কাগজ, ছাপা, অলংকরণ (শেষের কয়েক পাতা জুড়ে লেখকের জীবনের কিছু সচিত্র মুহূর্ত সহ) শব্দবিন্যাস, প্রায় একশো শতাংশ শুদ্ধ বানান গ্রন্থটিকে প্রদান করেছে এক অনন্য মর্যাদা। ‘সৃজন’-এর প্রাসঙ্গিক প্রচ্ছদযুক্ত গ্রন্থটির প্রকাশক পান্থজন প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশন, শিলচর। সব মিলিয়ে এক সফল কথা-সাহিত্যিকের আশ্চর্য সমাপতনের গ্রন্থ ‘খেয়াঘাট’ যা ভাবনায়, বোধে, উপস্থাপনায় এক চিরকালীন মর্যাদার আসনে আসীন হয়ে থাকবে তা সে যতই আসুক অবহেলা কিংবা অস্বীকৃতির কুটিল ষড়যন্ত্র। সাহিত্য-মানেই গ্রন্থ সহ ভাস্বর হয়ে থাকবেন গ্রন্থকার মনোমোহন - সময়ের মহাফেজখানায়, পাঠকের হৃদয়ে।

বিদ্যুৎ চক্রবর্তী

মূল্য - ২৫০ টাকা
যোগাযোগ - ৯১৬৭৮৫৬১৮৫ / ৬৯০০১০২২৫৫ 

Comments

Popular posts from this blog

গুয়াহাটিতে বিদ্বৎসমাজের দেশ, ধর্ম ও সমাজ ভাবনা বিষয়ক আলোচনা সভা

সম্প্রতি গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও প্রাবন্ধিক খগেনচন্দ্র দাসের আহ্বানে গুয়াহাটি, লালগণেশ অঞ্চলের শান্তিনগরে অবস্থিত পূর্বাশা বিদ্যানিকেতনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়েছিলেন মহানগরের বিদ্বৎসমাজের একাধিক ব্যক্তি। আলোচনার বিষয় ছিল ‘বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মের অবস্থান ও প্রয়োজনীয়তা’। সভায় সাহিত্য, সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে জড়িত বহু ব্যক্তির বাইরেও উপস্থিত ছিলেন সুশীল সমাজের একাধিক গুণীজন। এদিন এই সান্ধ্যসভায় আহ্বায়কের বাইরে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা হলেন - বিজয় ভূষণ দে, সিদ্ধার্থ কুমার দত্ত, মনতোষ চন্দ্র দাস, নির্মল চন্দ্র দাস, পীযূষ দেব, শংকর পণ্ডিত, অসিত কুমার সরকার, শাশ্বতী চৌধুরী, ঋতা চন্দ, সুচরিতা সান্যাল, রবিশংকর দত্ত, তাপসী চৌধুরী, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, মধুমিতা দত্ত, মীনাক্ষী চক্রবর্তী, রুদ্রাণী দত্ত, বীণা রায়, মুক্তা সরকার, অনুরাধা দাস পাত্র, জয়া নাথ ও স্বর্ণালি চৌধুরী।     মূল প্রসঙ্গের ধারাবাহিক আলোচনায় উঠে এসেছে একাধিক প্রসঙ্গ - আজকের দিনে ঋষি অরবিন্দের ভাবনার প্রয়োজনীয়তা, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের মানবিক দিক, হিন্দু সমাজে গুরুবাদ ও বিভেদ, ডিপস্টেটে...

প্রতিবাদী শরৎ

এ কেমন শরৎ এল এবার ? বর্ষা শেষের পক্ষকাল আগে থেকে চারপাশ জুড়ে যে অস্থিরতার সূত্রপাত তা এসে নতুন করে প্রকাশিত হল শরতের সূচনায় । বাংলাদেশের পর পশ্চিমবঙ্গে । এমন শরৎ আগে দেখিনি কখনও । আমরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষদের জন্য শরতের এক অন্যরকম মাহাত্ম্য । পেঁজা তুলোর মেঘের ফাঁকে ফাঁকে একদিকে যেমন রংবেরং - এর ঘুড়ি ওড়ে আকাশে অন্যদিকে তেমনই শিশিরসিক্ত সকালের ঘাসবনে লুটিয়ে পড়ে রাতের বৃন্তচ্যুত শিউলি মা দুর্গার চরণপথে । দিকে দিকে এক গন্ধমাতন আলোড়ন । নদীচরে , পাহাড়ের ঢালে গুচ্ছ কাশের দোলায় দোলে ওঠে অঙ্গ । কাশের বনে খেলে বেড়ায় নব্যদুর্গারা।   আলোড়ন মনাকাশ জুড়েও । মাতন মনন জুড়েও । দোলন আবালবৃদ্ধের অঙ্গে অঙ্গে । আকাশে বাতাসে কান পাতলে , চোখ রাখলেই মাতৃমুখ - মননসুখ । মা আসছেন । দুর্গতিনাশিনী মা । বরাভয় হাতে তিনি ঘুচিয়ে দেবেন যত দুঃখশোক । অসুরশূন্য হবে এ পৃথিবী । প্রতিবারই এভাবে শরৎ আসে পৃথিবীর বুকে , প্রতিবারই আমরা এমনই ভাবনায় ডুবে থেকে এমনই কল্পনায় করি দিনাতিপাত । অথচ চোখের সামন...

নিবেদিত সাহিত্যচর্চার গর্বিত পুনরাবলোকন - ‘নির্বাচিত ঋতুপর্ণ’

সাধারণ অর্থে বা বলা যায় প্রচলিত অর্থে একটি সম্পাদনা গ্রন্থের মানে হচ্ছে মূলত অপ্রকাশিত লেখা একত্রিত করে তার ভুল শুদ্ধ বিচার করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সম্পাদনার পর গ্রন্থিত করা । যেমনটি করা হয় পত্রপত্রিকার ক্ষেত্রে । অপরদিকে সংকলন গ্রন্থের অর্থ হচ্ছে শুধুই ইতিপূর্বে প্রকাশিত লেখাসমূহ এক বা একাধিক পরিসর থেকে এনে হুবহু ( শুধুমাত্র বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে ন্যূনতম সংশোধনসাপেক্ষে ) একত্রীকরণ । সেই হিসেবে আলোচ্য গ্রন্থটি হয়তো সম্পাদনা গ্রন্থ নয় , একটি সংকলন গ্রন্থ । বিস্তারিত জানতে হলে যেতে হবে সম্পাদক ( সংকলক ) সত্যজিৎ নাথের বিস্তৃত ভূমিকায় । পুরো ভূমিকাটিই যদি লেখা যেতো তাহলে যথাযথ হতো যদিও পরিসর সে সায় দেয় না বলেই অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো এখানে - ‘ সালটা ১৯৯০ । ‘ দৈনিক সোনার কাছাড় ’- এ একবছর হল আসা - যাওয়া করছি । চাকরির বয়স হয়নি তাই চাকরি নয় , এই ‘ আসা - যাওয়া ’ । …. হঠাৎ করেই একদিন ভূত চাপল মাথায় - পত্রিকা বের করব । ‘… সেই শুরু । অক্টোবর ১৯৯০ সালে শারদ সংখ্যা দিয়ে পথচলা শুরু হল ‘ঋতুপর্ণ’র। পরপর দুমাস বের করার পর সেটা হয়ে গেল ত্রৈমাসিক। পুরো পাঁচশো কপি ছাপাতাম ‘মৈত্রী প্রকাশনী’ থেকে।...