‘নবর্ষায় স্বস্তিসুখের ঝমঝম বারিধারার মতোই নববর্ষ আবহমান বাঙালির জীবনে বয়ে
আনে এক অন্তর্লীন সুখানুভূতির দমক। জীবনে
আধুনিকতার ছাপ যতই পড়ুক, যতই আসুক বেলাগাম পরিবর্তনের ঢেউ, চিরন্তন সংস্কারবোধ ও আত্মগরিমার, আত্মোপলব্ধির,
আত্মগত যাপনের নির্ঘণ্টযাপন এক ভিন্নতর সন্তুষ্টির জন্ম দেয় হৃদয়ে। আসন্ন
বা আগত বৈশাখ তাই অজান্তেই যেন উদ্বুদ্ধ করে , উজ্জ্বলিত করে আমাদের বোধের জগৎ। আমাদের
অস্থিমজ্জায় সযত্নে লালিত উদ্যাপন তাই অবধারিত হয়ে ধরা দেয় মনন
জুড়ে। হিন্দোল জাগে মনে, এক নূতনত্বের অদেখা আনন্দে। পুরোনো
দু:খব্যথাকে দূরে সরিয়ে নূতনের আবাহনে এক সুখযাপন যেন প্রতিবিম্ব হয়ে
জায়গা করে নেয় চোখের মণিতে….।’
- এভাবেই নান্দনিক ও ললিত সৌন্দর্যে লিখিত সম্পাদকীয়, ‘মজলিশ সংলাপ’ পত্রিকার ধারাবাহিক সম্পদ হিসেবে পরিগণিত
হয়ে আসছে একের পর এক সংখ্যায়। আর শুধু
সম্পাদকীয়ই কেন, সুচয়িত রচনাসম্ভারও এই পত্রিকার নিয়মিত অন্তর্ভুক্তি। একে
একে ১৬০তম সংখ্যাও প্রকাশিত হয়ে গেল কিছুদিন আগে - ১৪৩৩ নবর্ষ সংখ্যা
হিসেবে। পলাক্ষী দাসের অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক প্রচ্ছদচিত্রটিও
ঠিক ততটাই নান্দনিক। সম্ভার বলা হলেও আলোচ্য সংখ্যাটি
সম্ভবত কৃশকায় হয়েছে পৃষ্ঠাসংখ্যার বিচারে অপরাপর সংখ্যাসমূহের তুলনায়।
‘সংলাপ’-এর সূচিপত্র বরাবরই সুবিন্যস্ত। এবারেও ব্যত্যয় হয়নি তাতে। এবং অন্যান্য সংখ্যার মতোই বিভাগবিন্যাস নেই। তাই প্রবন্ধ নিবন্ধ, কবিতা, গল্প ইত্যাদি এসেছে ইতস্তত। লেখালেখির শুরুতেই যদিও রয়েছে তিনটি প্রচ্ছদ নিবন্ধ। প্রথম নিবন্ধকার শৈলেন সাহা - ‘বাংলা নববর্ষ ও বাঙালি’। নিবিড় পাঠের যোগ্য তথ্যাদির সুষম প্রতিস্থাপনে সমৃদ্ধ এই নিবন্ধটি। অশোক সরকারের ‘হালখাতার সেকাল-একাল’ও সমপরিমাণেই সুখপাঠ্য। তথ্যাদির পুনরোল্লেখে ছত্রে ছত্রে নস্টালজিয়া। এছাড়া রয়েছে বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর একটি বিহু বিষয়ক অনুবাদ-নিবন্ধ। মূল অসমিয়া নিবন্ধ - মামণি ডেকা। প্রাসঙ্গিক নিঃসন্দেহে।
মদনগোপাল গোস্বামী রম্যরচনা লেখক হিসেবে প্রথিতযশা নি:সন্দেহে। তারই আরও একটি দুর্দান্ত পরিবেশন - ‘হ্যাপি নববর্ষ’। এরপর - পরপর রয়েছে দুটি অনূদিত নিবন্ধ। সুন্দর সাংমার অসমিয়া নিবন্ধ ‘ইয়ান্ডাবু সন্ধির দু’শ বছরের পরিক্রমা ও অসম’ - এর বাংলা অনুবাদ করেছেন সত্যজিৎ চৌধুরী। এখানে কিছু শব্দ ও বাক্যের মধ্যে রয়ে গেছে কিছু জট - বানান ও বক্তব্যের। সজল পাল অনুবাদ করেছেন আজিজুল হকের অসমিয়া নিবন্ধ ‘অসমিয়া ভাষার উদ্ধারকর্তা মাইলস ব্রনসন’। বিস্তৃত নিবন্ধ। অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও অধ্যয়নযোগ্য। ইতিহাস যেন কথা বলেছে নিবন্ধে। ‘বিশেষ আলোচনা বিভাগ-নামে সংখ্যাটির শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সায়ন্তন চৌধুরীর - ‘’মতিলাল পাদরি’ : ধর্ম ও মহাপ্রাণতার দ্বান্দ্বিক আখ্যান’। ১৩৪৪ বঙ্গাব্দে ‘উষ্ণীষ’ পত্রিকায় প্রকাশিত কমলকুমার মজুমদারের গল্প ‘মতিলাল পাদরি’র উপর চোদ্দ-পৃষ্ঠাব্যাপী একটি বিস্তৃত আলোচনা মর্যাদা বাড়য়েছে সংখ্যাটির।
রয়েছে একে একে তিনটি গল্প। ভাবায় সবক’টি। রচনার শৈলীতে তারতম্য থাকলেও বিষয়, বিন্যাস ও বর্ণনায় উজ্জ্বল প্রতিটি গল্প। লিখেছেন সত্যজিৎ নাথ, তুষারকান্তি সাহা ও পূর্বিতা পুরকায়স্থ। ‘কবিতার বারান্দা’ বিভাগনামে যাঁদের কবিতা অনর্ভুক্ত হয়েছে তাঁরা হলেন - শ্যামলী বর্ধন (দুটি কবিতা), তন্ময় মণ্ডল, অমৃত মাইতি (তিনটি কবিতা), অভিজিৎ দাস, নীতিশ বর্মন ও সুব্রত চৌধুরী। বিশেষ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় গদাধর সরকারের ‘গুচ্ছ ছড়া’। চারটি ছড়াতেই ছন্দের মোহনীয়তা, যা অবশ্য-পালনীয়, তা পালিত হয়েছে যথাযথ।
ছাপা, অক্ষর বিন্যাস, বানানের শুদ্ধতা বরাবরের মতোই যথাযথ। দু’একটি বানান থেকেই যায় অনেকগুলো চোখকে ফাঁকি দিয়ে। কিমাশর্যম!! সব মিলিয়ে ছিমছাম এক নান্দনিকতার আন্তরিক প্রকাশ।
‘সংলাপ’-এর সূচিপত্র বরাবরই সুবিন্যস্ত। এবারেও ব্যত্যয় হয়নি তাতে। এবং অন্যান্য সংখ্যার মতোই বিভাগবিন্যাস নেই। তাই প্রবন্ধ নিবন্ধ, কবিতা, গল্প ইত্যাদি এসেছে ইতস্তত। লেখালেখির শুরুতেই যদিও রয়েছে তিনটি প্রচ্ছদ নিবন্ধ। প্রথম নিবন্ধকার শৈলেন সাহা - ‘বাংলা নববর্ষ ও বাঙালি’। নিবিড় পাঠের যোগ্য তথ্যাদির সুষম প্রতিস্থাপনে সমৃদ্ধ এই নিবন্ধটি। অশোক সরকারের ‘হালখাতার সেকাল-একাল’ও সমপরিমাণেই সুখপাঠ্য। তথ্যাদির পুনরোল্লেখে ছত্রে ছত্রে নস্টালজিয়া। এছাড়া রয়েছে বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর একটি বিহু বিষয়ক অনুবাদ-নিবন্ধ। মূল অসমিয়া নিবন্ধ - মামণি ডেকা। প্রাসঙ্গিক নিঃসন্দেহে।
মদনগোপাল গোস্বামী রম্যরচনা লেখক হিসেবে প্রথিতযশা নি:সন্দেহে। তারই আরও একটি দুর্দান্ত পরিবেশন - ‘হ্যাপি নববর্ষ’। এরপর - পরপর রয়েছে দুটি অনূদিত নিবন্ধ। সুন্দর সাংমার অসমিয়া নিবন্ধ ‘ইয়ান্ডাবু সন্ধির দু’শ বছরের পরিক্রমা ও অসম’ - এর বাংলা অনুবাদ করেছেন সত্যজিৎ চৌধুরী। এখানে কিছু শব্দ ও বাক্যের মধ্যে রয়ে গেছে কিছু জট - বানান ও বক্তব্যের। সজল পাল অনুবাদ করেছেন আজিজুল হকের অসমিয়া নিবন্ধ ‘অসমিয়া ভাষার উদ্ধারকর্তা মাইলস ব্রনসন’। বিস্তৃত নিবন্ধ। অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও অধ্যয়নযোগ্য। ইতিহাস যেন কথা বলেছে নিবন্ধে। ‘বিশেষ আলোচনা বিভাগ-নামে সংখ্যাটির শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সায়ন্তন চৌধুরীর - ‘’মতিলাল পাদরি’ : ধর্ম ও মহাপ্রাণতার দ্বান্দ্বিক আখ্যান’। ১৩৪৪ বঙ্গাব্দে ‘উষ্ণীষ’ পত্রিকায় প্রকাশিত কমলকুমার মজুমদারের গল্প ‘মতিলাল পাদরি’র উপর চোদ্দ-পৃষ্ঠাব্যাপী একটি বিস্তৃত আলোচনা মর্যাদা বাড়য়েছে সংখ্যাটির।
রয়েছে একে একে তিনটি গল্প। ভাবায় সবক’টি। রচনার শৈলীতে তারতম্য থাকলেও বিষয়, বিন্যাস ও বর্ণনায় উজ্জ্বল প্রতিটি গল্প। লিখেছেন সত্যজিৎ নাথ, তুষারকান্তি সাহা ও পূর্বিতা পুরকায়স্থ। ‘কবিতার বারান্দা’ বিভাগনামে যাঁদের কবিতা অনর্ভুক্ত হয়েছে তাঁরা হলেন - শ্যামলী বর্ধন (দুটি কবিতা), তন্ময় মণ্ডল, অমৃত মাইতি (তিনটি কবিতা), অভিজিৎ দাস, নীতিশ বর্মন ও সুব্রত চৌধুরী। বিশেষ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় গদাধর সরকারের ‘গুচ্ছ ছড়া’। চারটি ছড়াতেই ছন্দের মোহনীয়তা, যা অবশ্য-পালনীয়, তা পালিত হয়েছে যথাযথ।
ছাপা, অক্ষর বিন্যাস, বানানের শুদ্ধতা বরাবরের মতোই যথাযথ। দু’একটি বানান থেকেই যায় অনেকগুলো চোখকে ফাঁকি দিয়ে। কিমাশর্যম!! সব মিলিয়ে ছিমছাম এক নান্দনিকতার আন্তরিক প্রকাশ।
বিদ্যুৎ চক্রবর্তী
‘মজলিশ
সংলাপ’ - ১৬০ত্ম সংখ্যা, নববর্ষ সংখ্যা ১৪৩৩।
সম্পাদক তুষারকান্তি সাহা
মূল্য - ১০০ টাকা
যোগাযোগ - ৯৮৬৪০৬৬৯৯৪
সম্পাদক তুষারকান্তি সাহা
মূল্য - ১০০ টাকা
যোগাযোগ - ৯৮৬৪০৬৬৯৯৪

Comments
Post a Comment