Skip to main content

কৃশতনু হলেও কেতায় প্রকাশিত ১৬০তম সংখ্যা ‘মজলিশ সংলাপ’


নবর্ষায় স্বস্তিসুখের ঝমঝম বারিধারার মতোই নববর্ষ আবহমান বাঙালির জীবনে বয়ে আনে এক অন্তর্লীন সুখানুভূতির দমক জীবনে আধুনিকতার ছাপ যতই পড়ুক, যতই আসুক বেলাগাম পরিবর্তনের ঢেউ, চিরন্তন সংস্কারবোধ ও আত্মগরিমার, আত্মোপলব্ধির, আত্মগত যাপনের নির্ঘণ্টযাপন এক ভিন্নতর সন্তুষ্টির জন্ম দেয় হৃদয়ে আসন্ন বা আগত বৈশাখ তাই অজান্তেই যেন উদ্বুদ্ধ করে , উজ্জ্বলিত করে আমাদের বোধের জগৎ আমাদের অস্থিমজ্জায় সযত্নে লালিত উদ্যাপন তাই অবধারিত হয়ে ধরা দেয় মনন জুড়ে হিন্দোল জাগে মনে, এক নূতনত্বের অদেখা আনন্দে পুরোনো দু:খব্যথাকে দূরে সরিয়ে নূতনের আবাহনে এক সুখযাপন যেন প্রতিবিম্ব হয়ে জায়গা করে নেয় চোখের মণিতে….
- এভাবেই নান্দনিক ও ললিত সৌন্দর্যে লিখিত সম্পাদকীয়, ‘মজলিশ সংলাপপত্রিকার ধারাবাহিক সম্পদ হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে একের পর এক সংখ্যায় আর শুধু সম্পাদকীয়ই কেন, সুচয়িত রচনাসম্ভারও এই পত্রিকার নিয়মিত অন্তর্ভুক্তি একে একে ১৬০তম সংখ্যাও প্রকাশিত হয়ে গেল কিছুদিন আগে - ১৪৩৩ নবর্ষ সংখ্যা হিসেবে পলাক্ষী দাসের অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক প্রচ্ছদচিত্রটিও ঠিক ততটাই নান্দনিক সম্ভার বলা হলেও আলোচ্য সংখ্যাটি সম্ভবত কৃশকায় হয়েছে পৃষ্ঠাসংখ্যার বিচারে অপরাপর সংখ্যাসমূহের তুলনায়।
‘সংলাপ’-এর সূচিপত্র বরাবরই সুবিন্যস্ত। এবারেও ব্যত্যয় হয়নি তাতে। এবং অন্যান্য সংখ্যার মতোই বিভাগবিন্যাস নেই। তাই প্রবন্ধ নিবন্ধ, কবিতা, গল্প ইত্যাদি এসেছে ইতস্তত। লেখালেখির শুরুতেই যদিও রয়েছে তিনটি প্রচ্ছদ নিবন্ধ। প্রথম নিবন্ধকার শৈলেন সাহা - ‘বাংলা নববর্ষ ও বাঙালি’। নিবিড় পাঠের যোগ্য তথ্যাদির সুষম প্রতিস্থাপনে সমৃদ্ধ এই নিবন্ধটি। অশোক সরকারের ‘হালখাতার সেকাল-একাল’ও সমপরিমাণেই সুখপাঠ্য। তথ্যাদির পুনরোল্লেখে ছত্রে ছত্রে নস্টালজিয়া। এছাড়া রয়েছে বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর একটি বিহু বিষয়ক অনুবাদ-নিবন্ধ। মূল অসমিয়া নিবন্ধ - মামণি ডেকাপ্রাসঙ্গিক নিঃসন্দেহে।
মদনগোপাল গোস্বামী রম্যরচনা লেখক হিসেবে প্রথিতযশা নি:সন্দেহে। তারই আরও একটি দুর্দান্ত পরিবেশন - ‘হ্যাপি নববর্ষ’। এরপর - পরপর রয়েছে দুটি অনূদিত নিবন্ধ। সুন্দর সাংমার অসমিয়া নিবন্ধ ‘ইয়ান্ডাবু সন্ধির দু’শ বছরের পরিক্রমা ও অসম’ - এর বাংলা অনুবাদ করেছেন সত্যজিৎ চৌধুরী। এখানে কিছু শব্দ ও বাক্যের মধ্যে রয়ে গেছে কিছু জট - বানান ও বক্তব্যের। সজল পাল অনুবাদ করেছেন আজিজুল হকের অসমিয়া নিবন্ধ ‘অসমিয়া ভাষার উদ্ধারকর্তা মাইলস ব্রনসন’। বিস্তৃত নিবন্ধ। অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও অধ্যয়নযোগ্য। ইতিহাস যেন কথা বলেছে নিবন্ধে। ‘বিশেষ আলোচনা বিভাগ-নামে সংখ্যাটির শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সায়ন্তন চৌধুরীর - ‘’মতিলাল পাদরি’ : ধর্ম ও মহাপ্রাণতার দ্বান্দ্বিক আখ্যান’। ১৩৪৪ বঙ্গাব্দে ‘উষ্ণীষ’ পত্রিকায় প্রকাশিত কমলকুমার মজুমদারের গল্প ‘মতিলাল পাদরি’র উপর চোদ্দ-পৃষ্ঠাব্যাপী একটি বিস্তৃত আলোচনা মর্যাদা বাড়য়েছে সংখ্যাটির।
রয়েছে একে একে তিনটি গল্প। ভাবায় সবক’টি। রচনার শৈলীতে তারতম্য থাকলেও বিষয়, বিন্যাস ও বর্ণনায় উজ্জ্বল প্রতিটি গল্প। লিখেছেন সত্যজিৎ নাথ, তুষারকান্তি সাহা ও পূর্বিতা পুরকায়স্থ। ‘কবিতার বারান্দা’ বিভাগনামে যাঁদের কবিতা অনর্ভুক্ত হয়েছে তাঁরা হলেন - শ্যামলী বর্ধন (দুটি কবিতা), তন্ময় মণ্ডল, অমৃত মাইতি (তিনটি কবিতা), অভিজিৎ দাস, নীতিশ বর্মন ও সুব্রত চৌধুরী। বিশেষ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় গদাধর সরকারের ‘গুচ্ছ ছড়া’। চারটি ছড়াতেই ছন্দের মোহনীয়তা, যা অবশ্য-পালনীয়, তা পালিত হয়েছে যথাযথ।
ছাপা, অক্ষর বিন্যাস, বানানের শুদ্ধতা বরাবরের মতোই যথাযথ। দু’একটি বানান থেকেই যায় অনেকগুলো চোখকে ফাঁকি দিয়ে। কিমাশর্যম!! সব মিলিয়ে ছিমছাম এক নান্দনিকতার আন্তরিক প্রকাশ।

বিদ্যুৎ চক্রবর্তী

‘মজলিশ সংলাপ’ - ১৬০ত্ম সংখ্যা, নববর্ষ সংখ্যা ১৪৩৩।
সম্পাদক তুষারকান্তি সাহা
মূল্য - ১০০ টাকা
যোগাযোগ - ৯৮৬৪০৬৬৯৯৪

Comments

Popular posts from this blog

গুয়াহাটিতে বিদ্বৎসমাজের দেশ, ধর্ম ও সমাজ ভাবনা বিষয়ক আলোচনা সভা

সম্প্রতি গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও প্রাবন্ধিক খগেনচন্দ্র দাসের আহ্বানে গুয়াহাটি, লালগণেশ অঞ্চলের শান্তিনগরে অবস্থিত পূর্বাশা বিদ্যানিকেতনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়েছিলেন মহানগরের বিদ্বৎসমাজের একাধিক ব্যক্তি। আলোচনার বিষয় ছিল ‘বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মের অবস্থান ও প্রয়োজনীয়তা’। সভায় সাহিত্য, সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে জড়িত বহু ব্যক্তির বাইরেও উপস্থিত ছিলেন সুশীল সমাজের একাধিক গুণীজন। এদিন এই সান্ধ্যসভায় আহ্বায়কের বাইরে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা হলেন - বিজয় ভূষণ দে, সিদ্ধার্থ কুমার দত্ত, মনতোষ চন্দ্র দাস, নির্মল চন্দ্র দাস, পীযূষ দেব, শংকর পণ্ডিত, অসিত কুমার সরকার, শাশ্বতী চৌধুরী, ঋতা চন্দ, সুচরিতা সান্যাল, রবিশংকর দত্ত, তাপসী চৌধুরী, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, মধুমিতা দত্ত, মীনাক্ষী চক্রবর্তী, রুদ্রাণী দত্ত, বীণা রায়, মুক্তা সরকার, অনুরাধা দাস পাত্র, জয়া নাথ ও স্বর্ণালি চৌধুরী।     মূল প্রসঙ্গের ধারাবাহিক আলোচনায় উঠে এসেছে একাধিক প্রসঙ্গ - আজকের দিনে ঋষি অরবিন্দের ভাবনার প্রয়োজনীয়তা, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের মানবিক দিক, হিন্দু সমাজে গুরুবাদ ও বিভেদ, ডিপস্টেটে...

প্রতিবাদী শরৎ

এ কেমন শরৎ এল এবার ? বর্ষা শেষের পক্ষকাল আগে থেকে চারপাশ জুড়ে যে অস্থিরতার সূত্রপাত তা এসে নতুন করে প্রকাশিত হল শরতের সূচনায় । বাংলাদেশের পর পশ্চিমবঙ্গে । এমন শরৎ আগে দেখিনি কখনও । আমরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষদের জন্য শরতের এক অন্যরকম মাহাত্ম্য । পেঁজা তুলোর মেঘের ফাঁকে ফাঁকে একদিকে যেমন রংবেরং - এর ঘুড়ি ওড়ে আকাশে অন্যদিকে তেমনই শিশিরসিক্ত সকালের ঘাসবনে লুটিয়ে পড়ে রাতের বৃন্তচ্যুত শিউলি মা দুর্গার চরণপথে । দিকে দিকে এক গন্ধমাতন আলোড়ন । নদীচরে , পাহাড়ের ঢালে গুচ্ছ কাশের দোলায় দোলে ওঠে অঙ্গ । কাশের বনে খেলে বেড়ায় নব্যদুর্গারা।   আলোড়ন মনাকাশ জুড়েও । মাতন মনন জুড়েও । দোলন আবালবৃদ্ধের অঙ্গে অঙ্গে । আকাশে বাতাসে কান পাতলে , চোখ রাখলেই মাতৃমুখ - মননসুখ । মা আসছেন । দুর্গতিনাশিনী মা । বরাভয় হাতে তিনি ঘুচিয়ে দেবেন যত দুঃখশোক । অসুরশূন্য হবে এ পৃথিবী । প্রতিবারই এভাবে শরৎ আসে পৃথিবীর বুকে , প্রতিবারই আমরা এমনই ভাবনায় ডুবে থেকে এমনই কল্পনায় করি দিনাতিপাত । অথচ চোখের সামন...

নিবেদিত সাহিত্যচর্চার গর্বিত পুনরাবলোকন - ‘নির্বাচিত ঋতুপর্ণ’

সাধারণ অর্থে বা বলা যায় প্রচলিত অর্থে একটি সম্পাদনা গ্রন্থের মানে হচ্ছে মূলত অপ্রকাশিত লেখা একত্রিত করে তার ভুল শুদ্ধ বিচার করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সম্পাদনার পর গ্রন্থিত করা । যেমনটি করা হয় পত্রপত্রিকার ক্ষেত্রে । অপরদিকে সংকলন গ্রন্থের অর্থ হচ্ছে শুধুই ইতিপূর্বে প্রকাশিত লেখাসমূহ এক বা একাধিক পরিসর থেকে এনে হুবহু ( শুধুমাত্র বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে ন্যূনতম সংশোধনসাপেক্ষে ) একত্রীকরণ । সেই হিসেবে আলোচ্য গ্রন্থটি হয়তো সম্পাদনা গ্রন্থ নয় , একটি সংকলন গ্রন্থ । বিস্তারিত জানতে হলে যেতে হবে সম্পাদক ( সংকলক ) সত্যজিৎ নাথের বিস্তৃত ভূমিকায় । পুরো ভূমিকাটিই যদি লেখা যেতো তাহলে যথাযথ হতো যদিও পরিসর সে সায় দেয় না বলেই অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো এখানে - ‘ সালটা ১৯৯০ । ‘ দৈনিক সোনার কাছাড় ’- এ একবছর হল আসা - যাওয়া করছি । চাকরির বয়স হয়নি তাই চাকরি নয় , এই ‘ আসা - যাওয়া ’ । …. হঠাৎ করেই একদিন ভূত চাপল মাথায় - পত্রিকা বের করব । ‘… সেই শুরু । অক্টোবর ১৯৯০ সালে শারদ সংখ্যা দিয়ে পথচলা শুরু হল ‘ঋতুপর্ণ’র। পরপর দুমাস বের করার পর সেটা হয়ে গেল ত্রৈমাসিক। পুরো পাঁচশো কপি ছাপাতাম ‘মৈত্রী প্রকাশনী’ থেকে।...