Skip to main content

Posts

ভুল

প্রথমেই বলে নেওয়া ভালো, আমার নাম - ভোলানাথ দাস । দাস । নাকি দাশ - সেটা মনে পড়ছে না এই মুহুর্তে। এ নিয়ে সম্ভবত কিছু বিতর্কও আছে। মা বলেছিলেন একদিন। কিন্তু ঠিক কি বলেছিলেন তা ভুলে গেছি বিলকুল। তাই নিজের নামটি বলে ফেললাম। কারণ যখন যে কথাটি মনে আসবে তা বলে নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। নাহলে ভুলের খেসারত দিতে দিতে শেষ হয়ে যাবে জীবনটা। এই অভিজ্ঞতা বোধ করি আমার চাইতে বেশি আর কারোরই নেই। তো যা বলছিলাম , ওই ভোলানাথ - মানে আমি , এই ভুলের পাল্লায় পড়ে যতটা নাকানিচোবানি খেয়েছি তার বোধ করি কোনও লেখাজোখা নেই । ভুল মানুষ মাত্রই হয় । ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত - ভুল হওয়াটা মানুষের জীবনে একটি অতি স্বাভাবিক ঘটনা । তবে বিচক্ষণ ব্যক্তিরা ভুল করেন অপেক্ষাকৃত কম । আমার মতো যারা ছাপোষা প্রাণী , তারা সংসারের যাঁতাকলে পিষ্ট হতে হতে নুন আনতে পান্তা ভুলে । অর্থাৎ প্রতিদিনই অন্তত একবার হলেও জড়ায় ভুলের ফাঁদে । কখনো ছোটখাটো তো কখনো বড় রকমের ভুল । আর সেই ভুলের জের মেটাতে জেরবার । এক ভুল ঢাকতে গিয়ে আরেক ভুলের আশ্রয় । কখনো পরিণতি হয় করুণ তো কখনো হাস্যকর । বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই শেষোক্ত ভুলের ফাঁদে পড়ে নাজে...

শ্রাবণ শেষে

আজ শ্রাবণ শেষের বিষাদ বেলায় উদ্বেলিত মন খারাপের স্মৃতি মেদুর চাপান উতোর ,   সত্ত্বা জুড়ে তোমার ছবি - কাঁদায় শুধু ,   বাজে সুর বিষাদ বীণায়।     আমার যে কোন ভুবন আছে জানি না তা - শুধু জানি আছে আমার হৃদয় জুড়ে অহংকারে অনন্ত এক ভালোবাসা ,   এক জীবন জোড়া অস্মিতা পরিচয় আমি তোমার প্রজন্ম।   যে পথ ধরে যুগ যুগ ধরে   তোমার আসা যাওয়া -   স্বপ্নে আমার অহর্নিশি সেই সে পথের ছবি উচাটন মন গগনে অস্ত বিহীন রবি।     একেবারেই কি গেছ চলে , রুদ্ধ হয়েছে দ্বার ?   আরেকটি বার এসো প্রভু , পথে পথ চলে শ্রাবণ শেষের অশ্রু ধারায়   হার মানা হার পরাবো তোমার গলে।     ( ছবি সৌজন্যে - অনুষ্কা দেবরায় - শিলচর , আসাম।)

শ্রাবণ অশ্রু ধারা

কেন শ্রাবণ শুধু কাঁদায় আমারে,  কেন শ্রাবণ জুড়ে অশ্রু ঝরায় আকাশ ?  সে কি তোমার চলে যাওয়ার ছল,  কেন শ্রাবণ মানেই মন খারাপের ঢল ? হায় রে বিধাতা, নিঠুর ইতিহাস -  একটি দিনে অনাথ যে করেছো অগণিত জনে দীন হীন করেছো অজস্র হৃদয়ে ঢেলেছ  শোক প্লাবন ধারা,  সেই কথাটি আছে কি লিখা -  তোমার কালের পাতায় ?  যুগ যুগান্ত ধরে শ্রাবণ এলেই তাই স্মৃতি বিস্মৃতি জুড়ে, দুরুদুরু বুকে আমি নীরবে নিভৃতে পথপানে চেয়ে রই,  চোখের জলে অবগাহনে -  তোমারই গান গাই।  বাইশে শ্রাবণে মহাকাল জুড়ে চিরদিন যেন- 'তব দেখা পাই'।  (ছবি সৌজন্যে - অনুষ্কা দেবরায় - শিলচর, আসাম।)  

বাংলা বিষাদ

এই বাংলার মাটিতে মা গো - আবার জন্ম নেবো ? এ কোন বাংলা , মা ? এ কি সত্যি বাংলা ?   তাহলে শহিদের সংজ্ঞা কেন বদলায় বার বার , শহিদের সংখ্যা কেন বাড়ছে বারম্বার ? একটা রেল স্টেশনের নাম তো -   বদলায় না কখনো , কোন পাপের বোঝায় ? কেন তবে একা একা বিষণ্ণ ঘরে ওল্টাতে হয় গীতবিতানের পাতা ? রাস্তা নিঝুম , ফাঁকা - তবু এত লক্ষ লক্ষ নাম ওঠে তালিকায় ? বলতে পারিস মা -   এ কোন প্রহসনের বাংলা ? এখানে কৃত্রিম হাসিতে বাংলা ধরতে চাই লোকালয়ে ফিসফিস শুধু ঘরের ভেতর রাজসিক আস্ফালন।   গঙ্গা কিংবা মেঘনা থেকে ইলিশ হয়ে   বাংলা বাংলা সুগন্ধ আসে কড়ির বিনিময়ে   এর বাইরে বাংলা কিছু আসে কি আর ?   ওপারের দূরবীনের মুখ ঘুরেছে কখনো   এদিকে ?   এদিকে আর তাকায় কি কেউ বাংলা চোখে ?     অথচ বাংলাকেই তো করেছিলাম যত্নআত্তি , আদর সোহাগ , হৃদয় দিয়ে -   আজো যখন কান্না আসে বুকে দু ' চোখ বেয়ে শ্রাবণ ধারায় আসে নেমে অশ্রুধারা - নিটোল , নিখাদ   ঝাপসা চোখে এ তো নিরেট বাংলা বিষাদ।

নিষিদ্ধ দিনলিপি

প্রাত্যহিক দিনলিপিতে একটি নিষিদ্ধ ক্ষণ আসে নিভৃতও বটে - যখন চরাচর জুড়ে জীবন্মৃতের হিসেবে , উষ্ণ নিঃশ্বাসে বেঁচে থাকে শুধু এক জোড়া অবয় ব।   জীবনের স্তরে স্তরে আদল পাল্টায় সে দৃশ্যমান পরিপার্শ্ব থেকে সুচয়িত মুগ্ধতায় সরাসরি আসে বেদিমূলে।     বিলাস বেদিতে নিষিদ্ধ মন্ত্রে উচ্চারিত হয় গোপন জীবন কথা - যদিদং হৃদয়ং তব…। অশান্ত মননে রোজ সিঞ্চিত হয় পূর্ণাহুতির শীতল বারি -    অপ্রাপ্ত সুখের গোপন প্রাপ্তি জুড়ে, তৃষিত অবগাহনে........ নিষিদ্ধ অবয়বে। যে কথা হয় না বলা জীবন যাত্রা কালে রয়ে যায় অগোচরে অদাহ্য অস্থি-ভালে।

বিষণ্ণ এপিটাফ

সাতসকালে ঘুমের ঘোরে মৃদু হইচই ভোরের স্বপ্ন ভেঙে হলো খানখান। কত আর স্বপ্ন চাই তোর মেয়ে - ওই দূরের পাহাড়টির মতো স্বপ্নের পাহাড় দাঁড়িয়ে আছে মনে। অসমাপ্ত স্বপ্নের রেশ ধরে আসে - এপিটাফ আলোচনা - কে , কখন ? আৎকে উঠি - একদল লোক   গাঁইতি , শাবল খোঁড়াখুড়ির শব্দে নিঃশব্দ জীবনের অনুরণন। বিপন্ন বিস্ময়ে চেয়ে দেখি সন্ত্রাসের পরপারে এপিটাফের স্বরলিপি ,   শান্তি দূতের জীবনপঞ্জিতে ঢেকে যায় মিথ্যাচার আর পাপাচার -   জীবন মৃত্যু ফারাক। পাহাড় দেখে মেয়ে , কবরে নেমে আসে পাহাড়ি সন্ধ্যা , লালিমায় ঢেকে যায় কালো ছোপ , বিপন্ন সময়ের এপিটাফ।