Skip to main content

Posts

আমি তাকেই পাশে চাই

কেউ নীরবে নিভৃতে থাকে পেছনে আমার সবটুকু শুষে নেয় নিঃশব্দে । এ এক অমোঘ , অঘোষিত লুকোচুরি । আমি দেখি নির্নিমেষে , জুড়ে আছে কেউ আষ্টেপৃষ্ঠে জুড়ে আছে । তার জুড়ে থাকা আমার পরম সুখের আকর - সে তো জানে না । কিংবা হয়তো জানে । তবু ... শরমের মাথা খেয়ে মরমের মোহে , সুখে থাকে সে , নখ - দর্পণে রাখে সব । আমি নিজেকে আরো বেশি উন্মোচিত করি সে দেখবে বলে , এ আমারও এক চোরাসুখ এই সুখেই তো আমার সকল যাপন । আমি নিঃসংকোচে তার চোখে সঁপে দিই আস্ত আমিকে । আমার সকল দুঃখ সুখে আমি তাকেই পাশে চাই , যে নিঃশব্দে বয়ে বেড়ায় আমার সকল যাপন । কোনো এক অঘোষিত জীবনে বক্ষ জুড়ে থাকা সে আমার একান্ত আপন । 

সুচয়িত সম্ভারে পরিপূর্ণ বিষয়ভিত্তিক পত্রিকা 'সেবা', ৩১/৩২ যুগ্ম সংখ্যা

একটি ষাণ্মাসিক পত্রিকার যখন যুগ্ম সংখ্যা প্রকাশিত হয় তখন এর মানে দাঁড়ায় বছরে একটি মাত্র সংখ্যা। নিয়মিত পাঠকের অপেক্ষা সেক্ষেত্রে দীর্ঘ হয়ে ওঠে। কিন্তু যখন একটিই সংখ্যা এমন উৎকর্ষে, ধারে ও ভারে সেজে ওঠে তখন সবুরে মেওয়া ফলে পাঠকের। প্রতীক্ষার প্রহর শেষে পুষিয়ে যায় কড়ায় গণ্ডায়। সাবেক করিমগঞ্জ, বর্তমান শ্রীভূমির ‘সেবা - এ হেল্প আজেড গ্রুপ’ থেকে প্রকাশিত - বরিষ্ঠ নাগরিকদের প্রতি নিবেদিত পত্রিকা ‘সেবা’র ষষ্ঠদশ বর্ষ, ৩১/৩২তম যুগ্ম সংখ্যা (অক্টোবর, ২০২৪ইং) প্রকাশিত হয়েছে খানিক বিলম্বে যদিও আগেই বলা মতো এমন একটি সংখ্যা হাতে পেতে প্রতীক্ষা দীর্ঘ হলেও ক্ষতি নেই পাঠকের। ১৩২ পৃষ্ঠার পরিমার্জিত এ-৪ সাইজের ঢাউস পত্রিকা একাধারে একটি জার্নাল এবং সাহিত্য পত্রিকা। উপর্যুক্ত প্রতিষ্ঠানটির দ্বারা পরিচালিত বৃদ্ধাবাস ‘বেলাভূমি’র পরিচালক তথা পত্রিকার সম্পাদক অপর্ণা দেব তাঁর দুই পৃষ্ঠাজোড়া সম্পাদকীয়ের প্রথম পৃষ্ঠাটি সাদা রেখেছেন ‘আর জি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক মৌমিতার অকাল প্রয়াণে একরাশ যন্ত্রণা, হাহাকার শুধু... শোক...’ প্রকাশ করে। পরবর্তী পৃষ্ঠায় রয়েছে ‘বেলাভূমি’ ও ‘সেবা’ বিষয়ক তথ্যাদি। লেখালেখির শুরু মৃন...

সংগ্রহযোগ্য গল্প সংকলন ‘শনবিলের ছেলে’

এক ভিন্নতর আঙ্গিকের গল্প সংকলন ‘শনবিলের ছেলে’। শনবিল দেশের সর্ববৃহৎ বিল হওয়ার সূত্রে উত্তরপূর্ব ভারতের এক গর্ব যদিও প্রচার ও সরকারি স্তরে যথেষ্টই অবহেলার জন্য জনমানসে এর পরিচয় সেভাবে গড়ে ওঠেনি। অথচ এক উল্লেখযোগ্য ইতিহাস লুকিয়ে রয়েছে এই অঞ্চলটির পিছনে। সবই যেন ক্রমশ প্রকাশ্য। শনবিলের জৈববৈচিত্র এবং মনোহর শোভা তাই এখনও উপযুক্ত ভাবে মর্যাদা পায়নি বহিরাঞ্চলে। আলোচ্য গ্রন্থটি গল্পকার, কবি কল্লোল চৌধুরীর একটি উল্লেখযোগ্য প্রয়াস। গ্রন্থটির প্রথম সংকলনটি প্রকাশিত হয়েছিল বাংলাদেশের পারমিতা প্রকাশন থেকে ২০১৫ ইংরেজিতে। সম্প্রতি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়েছে এর ‘আজকাল সংস্করণ’। ৭২ পৃষ্ঠার এই গ্রন্থে সন্নিবিষ্ট হয়েছে মোট ১১টি গল্প। প্রতিটি গল্পেই উঠে এসেছে আঞ্চলিক সমস্যা, ইতিহাস থেকে বাস্তব। গল্পগুলিকে ঠিক কাহিনি বা গল্প না বলে তথ্যসমৃদ্ধ বাস্তব প্রতিবেদন বা নিবন্ধ হিসেবেও নেওয়া যেতে পারে। এসবকেই গল্পের আকারে পরিবেশন করেছেন লেখক। স্বভাবতই এক ভিন্নতর আঙ্গিকের অবতারণা। প্রথম গল্প ‘হাফলং-এর পাহাড় ও দীপঙ্কর-মিনতি’। উত্তর কাছাড় অর্থাৎ বর্তমান ডিমা হাসাও-এর এক সময়ের উগ্রপন্থী কার্যকলাপের বর্ণনা লেখক গল্পের...

ধ্রুপদী বাংলা ও রবীন্দ্রনাথ

বাংলা তো তখনই ধ্রুপদির মর্যাদা পেয়েছিল যখন কবিগুরুর কলম থেকে বর্ষাবারির মতো কিংবা শরতের শিশিরের মতো টুপটাপ ঝরে পড়ছিল কবিতা । কবিতা তো নয় , যেন গভীর জীবনবোধের নবতর উন্মোচন । সরল অথচ গভীর , গুরুগম্ভীর সব কবিতা । যেন বেদ , উপনিষদের অন্তর্নিহিত জীবনযাপনের মন্ত্র । জীবনের এমনকী মরণেরও ওপারে নিবদ্ধ ছিল তাঁর অন্তর্দৃষ্টি। উৎকৃষ্টতার পরাকাষ্ঠায় কবিতায় গানে গোটা বিশ্বকে ধরে রেখেছেন ভাবীকালের জন্য। অন্যদের কথা বাদ দিলেও এই একজন কবির গদ্য ও বিশেষ করে কবিতার হাত ধরেই বাংলা ভাষা সেজে উঠেছিল নব আঙ্গিকে , বিচ্ছিন্নতার হাত থেকে এক মুক্তচিন্তাসমৃদ্ধ সহজতর ধারায় , নতুনতর চিন্তাজগৎকে প্রকাশ্য দিবালোকের মতো উদ্ভাসিত করে । তাই তো তিনি কবিগুরু। চর্যাপদ থেকে রবীন্দ্রকাল অবধি উত্তরণের যে ধারা তার তীব্রতা হড়পা বানের মতো আছড়ে পড়েছিল সেদিন বাংলা ভাষা , সাহিত্যের বিশ্বব্যাপী আঙিনায় । যেন প্রতিমায় প্রাণপ্রতিষ্ঠাই শুধু নয় , সারস্বত সাধনালব্ধ প্রয়াসে সেই প্রাণে সিঞ্চিত হয়েছিল উৎকর্ষবারি । সেই ভাষাবন্ধন , সহজের কাছে নিগূঢ় তত্ত্বের সহজিয়া বিশ্লেষণ ও উপস্থাপন বাংলাকে করে গেছে মহিমান্বিত। এক জীবনে একটি জা...