Skip to main content

উত্তরপূর্বের গল্পবিশ্বে মা-বিষয়ক এক ব্যতিক্রমী গল্প সংকলন


‘মা সব বোঝে’ ? নাকি ‘বোঝেন’ ? মা এমন একটি সম্পর্ক যেখানে স্বার্থের কোন স্থান নেই। মা হচ্ছেন সেই নদী যাঁর থেকে জলরূপী স্নেহধারা অনন্তকাল ধরে বয়ে চলে সন্তানের পানে, কোনও কৃতজ্ঞতার প্রত্যাশা ছাড়াই। মায়ের প্রতি তবে সন্তানের চিন্তাধারা, কর্মধারা কেমন হওয়া উচিত ? মাকে দেওয়ার মতো সন্তানের কাছে এমন সম্পদ কিছুই নেই, আছে শুধু যত্ন, ভালোবাসা আর সম্মান। এই ‘বোঝে’ এবং ‘বোঝেন’-এর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে সম্মানের ব্যাপার। ভালোবাসা বড় নাকি সম্মান - এমন প্রশ্নও উঠতে পারে। সেক্ষেত্রে দেখা যায় নৈকট্যের সূত্রে সাধারণত মাকে সরাসরি হলে সবাই ‘তুমি’ বলেই সম্বোধন করে থাকেন। কিছু প্রান্তজন কিংবা আদিবাসী, উপজাতি সম্প্রদায়ের মধ্যে আবার মা-বাবাকে আরও আপন করে নিতে ‘তুই’ সম্বোধন করারও চল আছে। কিংবা মা নিজে যদি পুত্রকন্যার উদ্দেশে নিজেকে বোঝাতে গিয়ে এই উক্তি করেন সেক্ষেত্রে ‘বোঝে’। কিন্তু মাকে নিয়ে যখন অন্যের কাছে কিছু বলা হয় সেক্ষেত্রে ভালোবাসার চেয়ে সম্মানের ব্যাপারটাই বড় হয়ে দাঁড়ায় এবং তাই বাঞ্ছনীয়। সেক্ষেত্রে ‘বোঝেন’। তাই ভেতরের একাধিক গল্পে ব্যবহৃত ‘বোঝে’ জাতীয় শব্দের পরিবর্তে ‘বোঝেন’ জাতীয় শব্দের ব্যবহার হয়তো বাঞ্ছনীয় ছিল - যদিও অধুনা পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি সবক্ষেত্রেই ‘বোঝে’ জাতীয় শব্দের ব্যবহার করা শুরু করেছেন, অচিরেই যা হয়তো মান্যতা পেয়ে যাবে। আবার ঠিক তার বিপরীতে আলোচ্য গ্রন্থনাম যে যথাযথ তা বোঝা যাবে শেষের গল্পের শেষটায়।
সত্যজিৎ নাথ লেখালেখির প্রথম দিকে কবি হিসেবেই অধিক পরিচিত যদিও ইতিপূর্বে তাঁর আরও একটি গল্প সংকলন প্রকাশিত হয়েছিল। ইতিমধ্যে তাঁর উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে এবং পাঠকপ্রিয়তাও পেয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে তাঁর আরও একটি ছোটগল্প সংকলন। এবং বলা যেতেই পারে যে কবিতার চাইতেও গদ্যে তিনি অধিকতর পারদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন। ৬০ পৃষ্ঠার পাকা বাঁধাইযুক্ত আলোচ্য গ্রন্থটিতে সন্নিবিষ্ট হয়েছে ‘মা’ বিষয়ক মোট ১০টি গল্প। প্রতিটি গল্পই ভিন্ন ভিন্ন আবহে মায়েদের নিয়ে লেখা। এক আকাশ মমতা বুকে ধরে রেখে মায়েরা কীভাবে, কতভাবে যে নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছেন সন্তানের বা সন্তানসমদের পালনে, যাপনে, নিরাপত্তায় তারই সব অনবদ্য প্রকাশ এই গল্পগুলি।
‘গল্পের শুরু...’ শীর্ষক ভূমিকায় লেখক লিখছেন - ‘বোধ হবার পর থেকেই আমারও স্বপ্ন দেখার শুরু। আর এ স্বপ্নের কারিগর আমার মা। মায়ের প্রশ্রয়েই আমার স্বপ্নগুলো উড়েছে নীল আকাশে ডানা মেলে সময়ে সময়ে। ...মায়ের শরীরটা বিলীন হয়ে গেছে পঞ্চভূতে ঠিকই কিন্তু মা রয়ে গেছে আমার হৃদয়ে, মননে, আমার চারপাশে। আমার মন খারাপের মুহূর্তে, আমার কোনও কিছু পাবার আনন্দে আমি মায়ের উপস্থিতি ঠিক বুঝি অনুভবে। মাতৃত্ব, মায়ের মমতা, ভালোবাসা তো চিরন্তন। এগুলোকে পুঁজি করেই এ সংকলনের সবগুলো গল্প মাকে নিয়ে...।’
প্রথমেই রয়েছে সদ্যপ্রয়াত বিশিষ্ট গল্পকার মিথিলেশ ভট্টাচার্যের চোখে লেখকের এ অবধি লেখা সেরা গল্প ‘মাতৃত্ব’। ‘...পাগলির বুক ফাটা চিৎকার গোটা স্টেশনে প্রতিধ্বনিত হয়ে ঢুকে পড়ে একসময় সত্যমের কানে। মুহূর্তে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ায় সে। পাগলিকে ঘিরে ওর প্রতিবেশীরা। সদ্য পৃথিবীর আলো দেখেছে সন্তান। একটা নয়, দুটো। ফুটফুটে যমজ। পাগলির হাত সন্তানদের মাথায়। নিপুণ হাতে ঝাঁট দেওয়া লামডিংয়ের আকাশের মতোই গভীর প্রশান্তি পাগলির মুখে, মাতৃত্বের প্রশান্তি...।’ এক অসহনীয় বাস্তবকে গল্পকার তাঁর সহজাত দক্ষতায় ফুটিয়ে তুলেছেন ভাষার বন্ধনে। অন্যের চোখে ‘অবাঞ্ছিত মাতৃত্ব’ হলেও মা আর সন্তানের স্নেহের বন্ধন যে অবিচ্ছেদ্য তারই এক স্বরূপ উদ্‌ঘাটন করেছেন লেখক ঘটনাপ্রবাহের প্রাঞ্জল বর্ণনায় এবং স্থানীয় ভাষার কিছু সংলাপের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে। উল্লেখ্য যে এই একটি প্যারাগ্রাফেই যেন গল্পকার মিথিলেশের গল্পশৈলীর ছোঁয়া অনুভূত হয় সত্যজিতের লেখায়। এবং এই ধারা অধিকাংশ গল্পেই বিদ্যমান।
‘...সময় পালটেছে, পালটাতে হয়েছে মাসুমাকেও। আজ সে মজিদের ঘরনি, মাহিরার মা। তবে পরিচয়টা এখানেই শেষ হয়ে যায়নি। সে একজন ব্যর্থ স্ত্রী যে তার স্বামীকে একটা পুত্র সন্তান দিতে পারে না, সে এক ব্যর্থ মা যার কোলে খেলা করতে পারে না তার ঔরসজাত পুত্র সন্তান। এ পরিচয় যেচে নেওয়া নয়, তার শাশুড়ি নাফিসার দেওয়া। ...গর্ভের সন্তানের লিঙ্গ পরীক্ষা নাকি বেআইনি। কিন্তু কই, মাসুমার বেলায় সেটা তো হল না। ফতিমা ডাক্তারনির সহায়তায় দিব্যি লিঙ্গ নির্ধারণ পরীক্ষা হল। আবারও গর্ভে কন্যা সন্তান জেনেই সে কী আক্রোশ নাফিসার...।’ গ্রামীণ সমাজে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে কন্যা সন্তান আজও অনভিপ্রেত। এই আবহে এক চমৎকার গল্প ‘মুক্ত বিহঙ্গ’। অসাধারণ চলন গল্পের। দুঃখ, দুর্দশার আবহে মাতৃত্বের এক অনভিপ্রেত স্বরূপ উদ্‌ঘাটন এখানেও। তবে শেষের তিনটি প্যারা বাদ দিলেও দিব্যি দাঁড়িয়ে যেত গল্প। সমাপন হতো এক ভিন্নতর আঙ্গিকে।
পরবর্তী তিনটি গল্প - ‘শেষ শ্রাবণের ধারা’, ‘মায়ের মতো’ ও ‘শিখার মা’র দুর্গা’ - ভিন্নতর আবহে মাতৃত্বের ভিন্ন ধারার প্রকাশ। প্রথমটিতে খুব সূক্ষ্মভাবে নিহিত আছে বিষয়ভাবনা। থিম, চলন ও সংলাপে অধিকতর মজবুত দ্বিতীয় গল্প। তৃতীয় গল্পে মায়ের উপস্থিতি পাঠকমনে নিশ্চিতভাবেই দাগ রেখে যাবে।
পরবর্তী ‘পালটে যাওয়া সময়’ গল্পটি সংকলনের শ্রেষ্ঠ গল্প হিসেবেও আখ্যায়িত হতে পারে। এক অন্য মা বা বিপ্রতীপে মায়ের এক অন্য রূপ। মাকে যে গর্ভধারিণীই হতে হবে এমন নয়, এটাই উঠে এসেছে গল্পে। অন্য মাও যে মা হতে পারেন - বিষয়ে, বুনোটে, সংলাপে তারই এক অনবদ্য প্রকাশ। ‘বিসর্জনের মা’ গল্পটিও ভীষণ প্রাসঙ্গিক ও নান্দনিক চিন্তাধারাযুক্ত থিমের উপর প্রতিষ্ঠিত। ভিন্নতর প্রেক্ষাপট, ভিন্নতর চিন্তা। অসম্ভব ভালো এক মননশীলতার গল্প।
অষ্টম গল্প ‘অপয়া’ সমসাময়িক বাংলা ছোটগল্পের জগতে অনায়াসে স্থান করে নিতে পারে নানা সংকলনে। যেমন থিম তেমনি তার রূপায়ন। গল্প লেখার হাত মজবুত না হলে এমন সম্ভব নয়। মাকে নিয়ে লেখা গল্পের মধ্যে অন্যতম সেরা গল্প এবং পাশাপাশি কুসংস্কারের মুখে এক জোরালো চপেটাঘাত। 
‘ভুখ ও লটারি টিকিট’ গল্পে দু-একটি সংলাপ ছাড়া বিষয়ভাবনা সেভাবে ফুটে ওঠেনি। তবু ঘটনার ঘনঘটায় উতরে গেছে যদিও এই গল্পটিকে সংকলনের অন্যান্য গল্পের তুলনায় কিছুটা দুর্বল মনে হয়েছে।  সংকলনের শেষ গল্প গ্রন্থনাম শীর্ষক - ‘মা সব বোঝে’। আক্ষরিক অর্থেই এক সার্থক শিরোনাম। মা আর সন্তানের নাড়ি ছেঁড়া সম্পর্ক যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে গল্পে - ‘...মাখা ভাত বান্টির মুখে দিয়ে বৃন্দা বলে ওঠে - ‘এত তাড়াতাড়ি বড় হয়ে গেছিস তুই বাবা ? ভালো কথা। কিন্তু ভুলে যাস না আমি তোর মা। আর মা সব বোঝে।’ ছোটগল্পের তথা সংকলনের এক সার্থক সমাপন।
গল্পগুলি খুব বড় নয় তাই অনায়াসে পড়ে নেওয়া যেতে পারে এক পঠনেই। কাগজ, ছাপার স্পষ্টতা, অক্ষর বিন্যাস যথাযথ। তবে বেশ কিছু বানান তথা কিছু বাক্যবিন্যাসে অধিকতর মনোযোগী হওয়ার পরিসর ছিল। ঋতুপর্ণা খাটোয়ার প্রচ্ছদ প্রাসঙ্গিক। গ্রন্থকার এই বইটি উৎসর্গ করেছেন তাঁর মা ও পৃথিবীর সব মায়েদের। মা-বিষয়ক এমন একটি সংকলন একাধারে সুখপঠনের এবং সমৃদ্ধ করে আঞ্চলিক সাহিত্যকে।
বিদ্যুৎ চক্রবর্তী
‘মা সব বোঝে’
সত্যজিৎ নাথ
প্রকাশক - শীতালং পাবলিকেশন, শিলচর
মূল্য - ২৫০ টাকা

Comments

Post a Comment

Popular posts from this blog

গুয়াহাটিতে বিদ্বৎসমাজের দেশ, ধর্ম ও সমাজ ভাবনা বিষয়ক আলোচনা সভা

সম্প্রতি গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও প্রাবন্ধিক খগেনচন্দ্র দাসের আহ্বানে গুয়াহাটি, লালগণেশ অঞ্চলের শান্তিনগরে অবস্থিত পূর্বাশা বিদ্যানিকেতনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়েছিলেন মহানগরের বিদ্বৎসমাজের একাধিক ব্যক্তি। আলোচনার বিষয় ছিল ‘বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মের অবস্থান ও প্রয়োজনীয়তা’। সভায় সাহিত্য, সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে জড়িত বহু ব্যক্তির বাইরেও উপস্থিত ছিলেন সুশীল সমাজের একাধিক গুণীজন। এদিন এই সান্ধ্যসভায় আহ্বায়কের বাইরে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা হলেন - বিজয় ভূষণ দে, সিদ্ধার্থ কুমার দত্ত, মনতোষ চন্দ্র দাস, নির্মল চন্দ্র দাস, পীযূষ দেব, শংকর পণ্ডিত, অসিত কুমার সরকার, শাশ্বতী চৌধুরী, ঋতা চন্দ, সুচরিতা সান্যাল, রবিশংকর দত্ত, তাপসী চৌধুরী, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, মধুমিতা দত্ত, মীনাক্ষী চক্রবর্তী, রুদ্রাণী দত্ত, বীণা রায়, মুক্তা সরকার, অনুরাধা দাস পাত্র, জয়া নাথ ও স্বর্ণালি চৌধুরী।     মূল প্রসঙ্গের ধারাবাহিক আলোচনায় উঠে এসেছে একাধিক প্রসঙ্গ - আজকের দিনে ঋষি অরবিন্দের ভাবনার প্রয়োজনীয়তা, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের মানবিক দিক, হিন্দু সমাজে গুরুবাদ ও বিভেদ, ডিপস্টেটে...

রজতজয়ন্তী বর্ষে প্রকাশিত স্মরণ সংখ্যা ‘আলোহাওয়া’

একটি লিটল ম্যাগাজিন বা ছোটপত্রিকা হচ্ছে সমাজের সাহিত্যদর্পণ । শুধুই সমকালিক নয়। যুগান্তরের ভাষাসাহিত্য ও তার যুগন্ধর স্রষ্টাদের সঙ্গে সমকালকে পরিচিত করে দেওয়ার এক প্রতিষ্ঠিত মাধ্যম। আর একের পর এক এই লক্ষ্যেই উৎকৃষ্টতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে নিরন্তর কাজ করে চলেছে বরাক উপত্যকার হাইলাকান্দি শহর থেকে প্রকাশিত ‘ সাহিত্য শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ক ’ পত্রিকা ‘ আলোহাওয়া ’ । রজতজয়ন্তী বর্ষে প্রকাশিত হয়েছে এই পত্রিকার ১৯তম সংখ্যা - ২৫তম বর্ষ , পৌষ ১৪৩২ - ডিসেম্বর ২০২৫ সংখ্যা । কবি জিতেন্দ্র নাথ সম্পাদিত এই সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছে সাহিত্যিক ‘ তুষারকান্তি নাথ স্মরণ সংখ্যা ’ হিসেবে । তুষারকান্তি নাথ এমন একজন সাহিত্যিক যাঁকে আখ্যায়িত করা যায় একজন সার্বিক সাহিত্যিক হিসেবে। ধারে ও ভারে তাঁর সৃষ্টি শুধু বরাক উপত্যকাতেই নয় এর বাইরেও সমাদৃত। তাঁর লেখনী রত্নপ্রসবা। পক্ষান্তরে এটাও বলা যায় যে ঘরে বাইরে কিছু স্বীকৃতি , কিছু প্রতিষ্ঠা পেয়ে থাকলেও তাঁর লেখালেখি ও নানাবিধ সৃষ্টিকর্মের গভীরতার মূল্যায়ন যতটা হওয়ার প্রয়োজন ছিল ততটা কিন্তু হয়নি। আসলে প্রান্তিকতা সততই লেখক, কবি, সাহিত্যিকদের পরিচিতির পথে এক বৃহৎ অন্তরা...

প্রখর গরজ ও শ্রদ্ধায় নিবেদিত একটি ‘সুকান্ত সংখ্যা’ - শতদল

হাতে নিলে আর পাঁচটা নিয়মিত সংখ্যা পত্রিকার মতো মনে হলেও উত্তর ত্রিপুরার চুড়াইবাড়ী থেকে কবি, লেখক রতন চন্দ সম্পাদিত সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক ‘শতদল’ পত্রিকার সম্প্রতি প্রকাশিত ২৯তম বর্ষ, ১ম সংখ্যা, বৈশাখ ১৪৩৩, মে-২০২৬ (কবি সুকান্ত জন্মশতবর্ষ সংখ্যা) সত্যিকার অর্থেই ব্যতিক্রমী। সেই মাত্র ৪২ পৃষ্ঠার পেপারব্যাক সংস্করণ হলেও প্রচ্ছদ থেকে শেষ পৃষ্ঠা অবধি যতন, গরজ ও উৎকর্ষের এক সম্ভার বললেও বাড়িয়ে বলা হয় না মোটেও। বাংলা ভাষার কবিদের মধ্যে এক স্বতন্ত্র স্থান ধরে আছেন অকালপ্রয়াত কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য। তাঁর সময়কাল থেকে আজ অবধি এবং আগত-অনাগত চিরকালীন এক বিস্ময়কর প্রতিভার অধিকারী এই কবি মূলত একজন প্রতিবাদী কবি হিসেবেই সাহিত্যবিশ্বে পরিচিত হলেও তাঁর কবিতায় এর বাইরেও যে রয়ে গেছে বহুমাত্রিক এক বোধ, ভাষ্য - বোধ করি তার সঠিক মূল্যায়ন হয়নি আজও। তবে যতই তাঁকে নিয়ে চর্চা হবে ততই এক এক করে খুলবে বিস্ময়ের ঝাঁপি এ কথা অনস্বীকার্য। এবং তারই এক নির্মোহ প্রয়াস ও প্রকাশ আলোচ্য সংখ্যাটি। সুসজ্জিত কবি-প্রতিকৃতিযুক্ত একটি নান্দনিক প্রচ্ছদ - সজ্জায়, বর্ণ সংস্থাপনে প্রথমেই দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বাধ্য পাঠকের। সৌজন্যে মুদ...