আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রোজ্জ্বল সংলাপ। আজ থেকে নয় দশক আগেই শরীর ও মনের রসায়ন, সম্পর্ককে এক প্রশ্নচিহ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ক্ল্যাসিক উপন্যাস ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’য়। স্বাধীনতাপূর্ব সময়ে সেই ১৯৩৬ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসের এই এক পঙ্ক্তি যুগ যুগ ধরে আজও সাহিত্য জগতে আলোচিত হয়ে আসছে। গ্রামের গৃহবধূ কুসুমকে উদ্দেশ করে শশী ডাক্তার নামক চরিত্রের মুখনিঃসৃত এই প্রশ্নবোধক বাক্যটি যে এভাবে কালের প্রবাহে এক বহুচর্চিত সংলাপ হয়ে উঠবে এমন কল্পনা হয়তো ঔপন্যাসিকের মনে উদয় হয়নি কখনও। আবার এই সংলাপটিতেই সমাপ্ত হয়েছে উপন্যাসের একটি অধ্যায়। অর্থাৎ এর কোনও ঝটিতি বিশ্লেষণ করার সুযোগ রাখেননি লেখক।
‘পুতুল নাচের ইতিকথা’ যাঁরা পড়েননি সেইসব ব্যগ্র পাঠক আজও ভাবেন পুতুলনাচের মতো সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিষয় নিয়েই এই উপন্যাস। তবে পাঠপর্বে অচিরেই সেই ধাঁধা থেকে বেরিয়ে আহৃদয় মগ্ন হয়ে পড়েন কাহিনিতে। মানুষ আসলে নিজের ইচ্ছেমতো জীবন নির্বাহ করতে পারে না। কোনও এক অদৃশ্য শিল্পী যেন হাতের সুতোয় মানুষকে চালান। সেই অর্থেই এখানে ‘পুতুলনাচ’। পাঠক একবার শুরু করেছেন পঠন তো সেখান থেকে বেরিয়ে আসা বড় সহজ কথা নয়। একের পর এক চরিত্র এসে দাঁড়ায় পাঠকের সামনে জীবন্ত হয়ে। তেমনই এক চরিত্র, বলা ভালো উপন্যাসের মুখ্য চরিত্র শশী ডাক্তার। শশী ও কুসুম নামের নারীচরিত্র - বলা যায় অন্যতম প্রধান চরিত্র। তাদের পরিচিতি কিংবা মানসিক অবস্থান না জানলে আলোচ্য সংলাপের যাথার্থ্য অনুধাবন করা সম্ভব নয়। কেমন মানুষ ছিলেন এই শশী ডাক্তার? পরিচিতি আছে উপন্যাসের পাতাতেই - ‘…শশীর চরিত্রে দুটি সুস্পষ্ট ভাগ আছে। একদিকে তাহার মধ্যে যেমন কল্পনা, ভাবাবেগ ও রসবোধের অভাব নাই, অন্যদিকে তেমনি সাধারণ সাংসারিক বুদ্ধি ও ধনসম্পত্তির প্রতি মমতাও তাহার যথেষ্ট। তাহার কল্পনাময় অংশটুকু গোপন ও মূক। অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে তাহার সঙ্গে না মিশিলে একথা কেহ টের পাইবে না যে, তার ভিতরেও জীবনের সৌন্দর্য ও শ্রীহীনতার একটা গভীর সহানুভূতিমূলক বিচারপদ্ধতি আছে। তাহার বুদ্ধি, সংযম ও হিসাবি প্রকৃতির পরিচয়ই মানুষ সাধারণত পায়। সংসারে টিকিবার জন্য দরকারি এই গুণাবলির জন্য শশীকে মানুষ ভয় ও খাতির করিয়া চলে।’
অন্যদিকে কুসুমের চরিত্রেও বৈচিত্রের অভাব নেই। বস্তুত তার চরিত্র, তার খামখেয়ালিপনা,, উদাসীনতা ও প্রগলভতার হদিশ পায় না কেউই। উপন্যাসে কুসুম চরিত্রের আগমনও স্বভাবতই অনেকটা নাটকীয়তায় উপস্থাপন করেছেন লেখক - ‘…কায়েতপাড়ার পথটি তিন ভাগ করিয়া গেলে শশীর বাড়ি। হারুর বাড়ি পথের একেবারে শেষে। সেই হারু ঘোষ। খালের ধারে বটগাছটার তলে যে সেদিন অপরাহ্নে বজ্রাঘাতে মরিয়া গিয়াছে।
মতির জ্বর কমে নাই। (মতি হারু ঘোষের ডাগর কিশোরী কন্যা)। সন্ধ্যার সময় শশী তাহাকে দেখিতে গেল। সারাদিন শশীর সময় ছিল না।
সন্ধ্যার সময় হারুর বাড়িতে প্রদীপ জ্বলে নাই। হারুর বউ মোক্ষদা হারুর ছেলে পরানের বউ কুসুমের উপর ভারী খাপ্পা হইয়া উঠিয়াছিল। ব্যাপারটা বুঝিয়া দ্যাখো। গৃহস্থবাড়ি। সন্ধ্যা আসিয়াছে। বাড়িতে একটা বউ আছে। অথচ সন্ধ্যাদীপ জ্বলে নাই। গলায় দড়ি দিয়া বউটা মরিয়া যায় না কেন ?
কুসুম গিয়াছিল ঘাটে। ফিরিয়া আসিয়া জলের কলশি নামাইয়া ধীরে সুস্থে সে কাপড় ছাড়িল। তারপর জ্বালিতে গেল প্রদীপ। তাহার নির্লজ্জ ধীরতা মোক্ষদাকে একেবারে খ্যাপাইয়া তুলিল। কুসুমের হাত হইতে প্রদীপটা ছিনাইয়া লইয়া রান্নাঘরে গিয়া উনানে পাটখড়ি ধরাইয়া সে প্রদীপ জ্বালিল। তারপর তাড়াতাড়ি পার হইতে গিয়া শুকনো উঠানে সে কেমন করিয়া পড়িয়া গেল কে জানে।
কুসুম হাসিয়া উঠিল সশব্দে। তারপর আঁচলটা কোমরে জড়াইয়া মোক্ষদাকে আড় কোলে শূন্যে তুলিয়া শোবার ঘরের সামনে দাওয়ায় নামাইয়া দিল। তেইশ বছরের বাঁজা মেয়ে, গায়ে তাহার জোর কম নয়।
কিছুক্ষণ বাড়িতে আর কান পাতা যায় না। মোক্ষদা গলা ফাটাইয়া শাপিতে থাকে। …বড়ো ঘরের অন্ধকারে মতি শুইয়া ছিল, সেও তাহার ক্ষীণ কণ্ঠ যতটা পারে উঁচুতে তুলিয়া ব্যাপার জানিতে চায়। অবিচলিত থাকে শুধু কুসুম। দাওয়ার নীচে খানিকক্ষণ চুপচাপ দাঁড়াইয়া সে মোক্ষদার গাল শোনে। …কুসুমকে এ বাড়ির সকলে ভয় করে। এই বাস্তুভিটাটুকু ছাড়া হারুঘোষের সর্বস্ব কুসুমের বাবার কাছে বাঁধা আছে সাত বচ্ছর…। তাই বলিয়া কুসুম যে সব সময় বাড়ির লোকগুলিকে শাসন করিয়া বেড়ায় তা নয়। বরং সে অনেকটা নিরীহ সাজিয়াই থাকে। বকাবকি করিলে সবসময় কানেও তোলে না, নিজের মনে ঘরের কাজ করিয়া যায়। কাজ করিতে ভালো না লাগিলে খিড়কির দরজা দিয়া বাহির হইয়া গিয়া তালবনে তালপুকুরের ধারে ভূপতিত তালগাছটার গুঁড়িতে বসিয়া থাকে…। উনানে ডালভাত একটা কিছু চাপাইয়া হয়তো যায়। বাড়ির লোকে তাহার অনুপস্থিতি টের পায় পোড়া গন্ধে। মেজাজের কেহ তার হদিশ পায় না। কতখানি সে সহ্য করিবে, কখন রাগিয়া উঠিবে, আজ পর্যন্ত তাহা ঠিকমত বুঝিতে না পারিয়া সকলে একটু বিপদগ্রস্ত হইয়া থাকে।’
এই খ্যাপাটে, অবোধ্য স্বভাব ও চরিত্রের জন্যই কুসুম যেমন সহজে অন্যের মন জয় করতে পারে তেমনি অন্যের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুও হয়ে ওঠে। মতির চিকিৎসার জন্য প্রায়শ শশী ডাক্তারকে ওবাড়ি যেতে হয়। ভিন্ন ভিন্ন পরিসরে সহজেই শশী কুসুমের ভিন্নতর রূপের পরিচয় পেয়ে আসছিল। তবু প্রেম কিংবা তার চেয়ে বেশি কিছুর প্রত্যাশা কিংবা ইচ্ছে কোনোটাই হয়তো শশীর ছিল না। অন্যদিকে শশীর সঙ্গে অবাধ মেলামেশায় কুসুমের কোন রাখঢাক ছিল না। কুসুম সততই অবোধ্য। তার পাগলাটে কর্মকাণ্ডের তল শশীও খুঁজে পায় না। সে অনায়াসে মিথ্যা কথা বলে - ‘কুসুমের এরকম সরল মিথ্যাভাষণ সে মাঝে মাঝে লক্ষ করিয়াছে। ধরা পড়িবে জানিয়া শুনিয়াই সে যেন এই মিথ্যা কথাগুলো বলে। এ যেন তাহার এক ধরনের পরিহাস। কালোকে সাদা বলিয়া আড়ালে গিয়া সে হাসে।’ শশী ডাক্তার যখন ‘কানে নল লাগাইয়া’ অসুস্থ মতির বুক পরীক্ষা করে তখন চুপিচুপি কুসুম আসিয়া অনুযোগ করে বাঁকা কথায়। আবার পরক্ষণেই কথায় কথায় ‘গড়গড় করিয়া মুখস্থ বুলির মতো একরাশ তোষামোদের কথা কুসুম বলিয়া যায়, শুনিতে মন্দ লাগে না শশীর। কত বছর আজ সে কুসুমের এমনি পাগলামি দেখিতেছে। ওর এইসব খাপছাড়া কথায়, ব্যবহারে একটি যেন মিষ্টি ছন্দ আছে।’
শশীর মন্দ লাগে না কুসুমের এই ছলাকলা। সে উপভোগ করে দূরত্বে দাঁড়িয়ে। মাঝে একদিন - ‘কুসুমের সঙ্গে কিন্তু শশীর ঝগড়া হইয়া গিয়াছে। রাত্রে একদিন হঠাৎ কুসুমের পেটে ব্যথা ধরিয়াছিল। অসহ্য প্রাণঘাতী ব্যথা। শশীকে না ডাকিয়া উপায় ছিল না। রাত্রে, বিশেষত শীতের রাত্রে, ঘুম ভাঙিয়া বিছানা ছাড়িয়া উঠিয়া গিয়ে ডাক্তারি করাটা শশীর এখনও ভালোরকম অভ্যাস হয় নাই। প্রথমে সে একটু বিরক্তই হইয়াছিল। পেটে ব্যথা ! পেটে ব্যথার জন্য হারু ঘোষের বংশে কে কবে ডাক্তার ডাকিয়াছে ? একটু গরম তেল মালিশ করিয়া দিলেই হইত। কিন্তু কুসুমের ব্যথার প্রতাপ দেখিয়া শশীর বিরক্তি টেকে নাই।
কলিক ? কে জানে ? …কুসুমের কী হইয়াছে ? কলিক ? পেটের ব্যথাটা বড় রহস্যময় অসুখ…। কুসুমের বর্ণনা শুনিয়া শশী কিছুই বুঝিতে পারে নাই। পরানকে সে আড়ালে ডাকিয়া লইয়া গিয়াছিল। খানিক পরে বাড়ি গিয়া পাঠাইয়া দিয়াছিল ওষুধ। নিজে আর ফিরিয়া যায় নাই।
এই হইল তাহার অপরাধ। পরদিন খবর লইতে গিয়া দ্যাখে কুসুম আগুন হইয়া আছে। …শশী বলিল, ওষুধ খেয়ে কাল তোমার পেটব্যথা কমেনি নাকি বউ ?
ও ভারী ওষুদ ! কটা এই টুকুটুকু সাদা বড়ি…নিজে একবার আসতে পারেননি ? বড়ি খেয়ে ব্যথা যদি না কমত ?
এর নাম অকৃতজ্ঞতা। ব্যথা তাহা হইলে কমিয়াছিল। রাত্রে একবার উঠিয়া আসিয়া দেখিয়া গিয়া ওষুধ দিল, ওষুধ খাইয়া ব্যথাও কমিল, তবু কুসুমের মন উঠে নাই…।
তোমার সব বিষয়ে একটু বাড়াবাড়ি আছে বউ।
কী আছে ? বাড়াবাড়ি ? হ্যাঁগো ছোটবাবু, আছেই তো। তা যাই বলেন, এক ঘণ্টা ধরে বুক পরীক্ষা ম্যালেরিয়া জ্বর হলে, আমি করি না।
সে বুক পরীক্ষা করিবে ? সে কি ডাক্তার ? কুসুমের মনটা শশীর বোধগম্য হয় না। পেটব্যথার জন্য কাল এক ঘণ্টা স্টেথোস্কোপটা ওর বুকে লাগাইয়া হৃৎস্পন্দন শুনিলে ও কি সুখী হইত ?’
কুসুমের মন সত্যিই বোধগম্য হয় না শশী ডাক্তারের। মন তার আছে কিনা সেও চিন্তনীয় বটে। এরই মধ্যে মতি ও শশীর বন্ধু কুমুদের পরিচয় অনেকটাই ঘনিষ্ঠতায় পর্যবসিত হয়েছে। গ্রামের কোমলমতি মতিকে কুমুদ বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে। এ কথা শুনে শশী বিরক্ত হয়ে আছে। কুমুদের মতো এক বাউন্ডুলের সাথে মতির বিয়ে হলে জীবনটা তার ছারখার হয়ে যাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তাই শশী এই সম্বন্ধের তীব্র বিরোধী। তেমন হলে কুমুদের হাত থেকে মতিকে বাঁচাতে এমনকী মতিকে শশী ডাক্তার নিজেই বিয়ে করবে।
কুসুমের কাছে মতির বিষয়ে শশীর এই প্রস্তাব একেবারেই অভাবিত। এর ঘোর বিরোধী কুসুম। কুসুম তাই কুমুদ ও মতির বিয়ের সপক্ষে মত প্রকাশ করে। কুসুম ভাবে এই সুযোগে যদি মতির কাছ থেকে শশীকে দূরে সরিয়ে রাখা যায়। একদিন তাই সন্ধ্যার পর সুযোগ পেয়ে কুসুম শশীর সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনায় বসে। কুসুমের এমন জটিল মনস্তত্ত্ব, এমন খামখেয়ালি ভরা ইচ্ছে অনিচ্ছে বুঝতে পারে না শশী। সে কুসুমের মনের হদিশ কিছুতেই পায় না। এমন ভাবে গম্ভীর যুক্তি প্রদর্শন করে কুসুম যে এক সময় শশী কুসুমের পক্ষেই মত দিল। পরক্ষণেই - ‘কুসুমের উপর রাগে শশীর মন জ্বালা করিতে থাকে। সেদিন প্রত্যুষে তালবনে কুসুমের মধ্যে যে সরল বালিকাকে আবিষ্কার করিয়া সে পুলকিত হইয়াছিল, আজ সে কোথায় গেল ? কী পাকা বুদ্ধি কুসুমের। কী নিখুঁত কৌশলে মতির বিবাহ সম্বন্ধে সে তার মনের মোড় ঘুরাইয়া দিল...।’
এই পর্বে এক অভাবিত মানসিক দ্বন্দ্বে বিধ্বস্ত হতে থাকে শশী। কুসুমের মুখ থেকে উচ্চারিত বাক্যসমূহ ও শশীর উচ্চারিত সর্বশেষ সংলাপ যেন এক অত্যাশ্চর্য রূপ পরিগ্রহ করে সমগ্র উপন্যাসের সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ মনস্তাত্ত্বিক সংলাপ হিসেবে বাংলা সাহিত্যে তার চিরস্থায়ী আসন গ্রহণ করল। প্রেক্ষিতটা এমন - আচমকাই কুসুম বলল -
‘এমনই চাঁদনি রাতে আপনার সঙ্গে কোথাও চলে যেতে সাধ হয় ছোটবাবু।
গভীর দুঃখের সঙ্গে শশীর মনে হয়, এ কথা কুসুমের বানানো। মতিকে সে পাছে আবার বিবাহ করিয়া কুমুদের হাত হইতে বাঁচাইতে চায়, তাই কুসুম এই মন-রাখা কথা বলিয়াছে। বলুক। সে তো কুমুদ নয়, তার জীবনে সবই অভিনয়। তবু, চাঁদের আলোয় চারিদিক আজ কেমন স্বপ্ন দেখিতেছে দ্যাখো। এ যেন বিশ্বাস করিতে ইচ্ছা হয় না কুসুমের কুটিলতার বিষে এমনি সময় এত কষ্ট পাওয়া তাহার ভাগ্যে ছিল। কিন্তু, কেন সে দাঁড়াইয়া আছে, কেন সে চলিয়া যাইতে পারে না ? কে জানে, হয়তো জীবনের বিতৃষ্ণা ও আত্মগ্লানি ভরা মুহূর্তগুলির আকর্ষণ তার কাছেই এত তীব্র ? কুমুদ হয়তো ছুটিয়া পলাইত, বলিয়া যাইত, তুমি গোল্লায় যাও কুসুম। অথবা হয়তো নিজের আনন্দ দিয়া, এই জ্যোৎস্নার কবিতাটুকু ছাঁকিয়া লইয়া, এমনি স্থূল মুহূর্তগুলিকে অপূর্ব করিয়া তুলিত।
কুসুম নি:শ্বাস ফেলিয়া বলিল, আপনার কাছে দাঁড়ালে আমার শরীর এমন করে কেন ছোটোবাবু ?
'শরীর! শরীর! তোমার মন নাই কুসুম ?’
বিদ্যুৎ চক্রবর্তী

Comments
Post a Comment