Skip to main content

Posts

ভালো মানুষ

বাইরে গরমের পারদ চড়ছে তরতরিয়ে। ক’দিন থেকেই এমন হচ্ছে। সকাল থেকেই কাঠফাটা রোদে যেন ঝলসে যায় পৃথিবী। আবার বিকেলে একপ্রস্থ ঝড় তুফান। ঘরের ভেতরেও অ-সুখের মাত্রা যেন বেড়েই চলেছে মানসের। অথচ এমনটা হওয়ার তো কোনো কথা ছিল না। কিন্তু হলো তো। হতাশায় নিজের মাথার অবশিষ্ট চুলগোছাকেও টেনে ছিঁড়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে মানসের। কিন্তু আপাতত সেই শক্তিটুকুও যেন নেই মনে হচ্ছে। তার মধ্যে আবার এই মুহূর্তে অনেকগুলো কাজ তাকে করতেই হবে নিজের হাতে। ঘরে সব মিলিয়ে চারটে প্রাণী থাকলেও এই মুহূর্তে , আজ প্রথম বারের মতো মানসের মনে হচ্ছে সে ভীষণ একা। আগেও বারকয়েক এমন চিন্তাধারা যে আসেনি তার মনে এমনটা নয়। তবে খুব সহজেই এড়িয়ে গেছে এসব। দানা বাঁধতে দেয়নি অন্তরে। আজ যেন হঠাৎ করে জীবনের সার সত্যটা বড্ড নিদারুণ ভাবে প্রকট হয়ে ভেসে উঠেছে চোখের সামনে। শেষ কবে অসুস্থ হয়েছিল তা মনেই করতে পারে না মানস। রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা অধিক থাকায় রোগ শোক সহজে এসে কাবু করতে পারেনি। এবার কিন্তু পরিস্থিতি একটু অন্য রকম। কাল বিকেল থেকেই টের পাচ্ছিল অসুস্থতা। প্রথম দিকে গায়ের জোরে পাত্তাই দিতে চাইছিল না এতটুকু। কিন্তু ধীরে ধীরে হাতের নাগাল থেকে ...

এসো ফিরে নীরোগ সুজন

এসো ফিরে নীরোগ সুজন   কতটুকু কাছে ছিলে তুমি বলো তো।  আমার দাড়িপাল্লায় করিনি তো পরিমাপ আমি জানতাম খুব খুব কাছে তুমি থাকো এতটুকু ছিল না যে সংশয়। ভুল, ভুল - সব ভুল ছিল আমার আমি ভুলেই ছিলাম আমি যে মানুষ, আমি জানতামই না জীবনের সার কথা।   তবুও তো বন্ধু প্রতিম আমার নিকটকে তো আমি করিনি দূর, বাঁচাতে আমাকে তুমিই দিয়েছো সরিয়ে তুমি তো যাওনি ভুলে মহানুভবতা। আমিও সেজেছি নির্দ্বিধায় সেই ক্ষণে অকৃতজ্ঞ এক ভীতু, কাপুরুষ, দুর্জন।   ভালো আছি আমি তোমার কথায় বেঁচে, বিদেশে বিভুঁয়ে একা একা তুমি করছো লড়াই এই নিদারুণ ক্ষণে। ওদিকে বেঁচেও প্রতি পলে পলে মরে সে ক্ষণে ক্ষণে রোজ তোমার সাথে থাকতো যে সে সঘন বার্তালাপে, "নৌবাহী নৌকা টণিঅ গুণে" কী করে যে এ দুর্যোগ দিনে।   আমি একা একা দিনে রাতে স্বপ্ন দেখি সেই সে হারানো দিন, আর একাধারে রচে যাই শুভ ক্ষণ - হাসপাতালের বিছানা ছেড়ে এসেছো ফিরে কুলায় নীরোগ সুজন। তোমার তো তিনি নেই, আমার আছেন দশ দিক জুড়ে তাই প্রতিটি প্রভাতে কায়মনোবাক্যে গাই - আজ আসবে শ্যাম গোকুলে ফিরে, "অলক্ষ লখচিত্তা মহা সুহে"।

পূর্বপুরুষ - একাদশ শহিদ

পূর্বপুরুষ - একাদশ শহিদ উনিশ আসে, উনিশ যায় কালের পাতায় পুরুষ্টু হয় ইতিহাস যোগ হয় কিছু নতুন মর্মগাথা কিছু চর্বিতচর্বন, কিছু কথা ও কবিতা। 'ইথার খোঁজ'-এ পাল্টায় কিছু সংখ্যা   ঘুরে ফিরে আসে কিছু নাম বিস্মৃত অবয়ব, সাবেক ও অধুনা ঠিকানা   অকাল বেলার সাধনোচিত ধাম।   ফিরে আসে কিছু শিহরণ কিছু আভিজাত্য, অভিমান   কিছু অধরা অধিকার, কিছু গাত্রদাহ,   কল্পনাবিলাসী কিছু ঠুনকো অঙ্গীকার।   এর পর - আবার পড়ে থাকে মৃত লাশ হয়ে,   ছাইচাপা হয়ে - দীর্ঘ বারোটি মাস।   তবু বেঁচে আছি উত্তরাধিকার সূত্রে   ভাষার গরব, ভাষার অধিকারে।   বুক বাজিয়ে আমরাই বলি আজ -   পূর্বপুরুষ - একাদশ শহিদ,  পূর্ব বাড়ি - ভাষা শহিদ চত্বর, যেখানে সঞ্চিত ক্ষোভ গনগনে আঁচ ছড়ায় গ্রীস্মকাল প্রজন্মে আবীর ছড়ায় - কৃষ্ণচূড়া লাল।

প্রথম চুমু(ক)

প্রথম চুমু(ক)   ‘মাস্ক পরো - মাস্ক পরো ’ - প্রায় চেঁচিয়েই ওঠে বাতি। বাতি অর্থাৎ বাতিঘর। এ নামেরও এক সুমধুর পটভূমি আছে। সে নাহয় পরে হবে। আপাতত সরেজমিনে বাতিকে সামাল দেওয়াটাই মুখ্য। ঘর থেকে বেরোতে গিয়েই এমন ঝাঁঝালো নির্দেশের জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিল না সুমন। না , এ নামের পেছনে কোনও ইতিহাস নেই। পুরুষের নামে এসব থাকেও না। বৈচিত্রহীন , একঘেয়ে , সরলরৈখিক জীবনের আরেক নাম বোধকরি পুরুষ। যদিও বিপরীত লিঙ্গের মানুষরা এটা মানবে না কিছুতেই - বাতিই যেখানে মানে না সেখানে - - - ।   ‘ আরে , আমরা তো গাড়িতেই যাচ্ছি। তাহলে মাস্কের কী দরকার ?’ - পরিস্থিতি সহজ করার লক্ষ্যে সচেষ্ট হয় সুমন - পুরুষ মানুষেরা যা সারা জীবন ধরে করেই থাকে আরকি।   নিমরাজি বাতি বুঝে উঠতে পারে না কী বলবে। জিভ যেন আটকে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। একসাথে অনেকগুলো লোক দরজা দিয়ে বেরোতে চাইলে যেমন সবাই আটকা পড়ে যায় ঠিক তেমনি। ভয় , ভীতি , আনন্দের মিশেল অনুভূতির ঝড় বইছে ভেতরে। তাই বলার মতো যেন জুতসই কথাই খুঁজে পাচ্ছে না বাতি। অথচ ওই পুজোআচ্চার সময় আর ঘুমের সময়টুকুর বাইরে কথাই ছিল তার সর্বক্ষণের সঙ্গী। ছিল মানে তো এই সেদিন অবধি যখন নিয়মিত স...

আর নয় হাহাকার

আর নয় হাহাকার নিভৃত যাপনে শুধু অসহায় চিন্তন শিয়রে সবার মৃত্যুর পরোয়ানা আজও হয়নি যে তা পায়ের ভৃত্য সে তো মানে না মানা। দূর দূরান্তের কত পরজন থমকে গেছে জীবন ধারা মৃত্যুই পারে এনে দিতে অমরত্ব পরজন আজ প্রিয়জন সব তাঁরা। মৃত্যু মানেই যুগান্তরের দুঃখ দুঃখেরও আজ কতই রকমফের স্বজন বন্ধু থেকেও গরহাজির মানুষ সে এক লাশ যে নিঝুম রাতের। চিতার অস্থি যার যার ছিল তার আজ সব মিলেমিশে একাকার জীবন যেখানে পৃথক মন্ত্র শেখায় মৃত্যু যেন বিশ্বজনীন যৌথ পরিবার। না হোক মরণ শ্যাম , মাধব , দোসর জীবন আজ নয় শুধু হাহাকার ,   এখনো আছে মানুষ , আছে মনুষ্যত্ব   সে-ই দেখে তা , দু ' চোখ আছে যার।   যে চোখ শুধু দেখতো রূপের বাহার সে চোখে তো দেয় না ধরা ভাইরাস   কেউ জানে না কার কত দিন থাকা মানুষ নয় - এ শতাব্দীর ভাইরাসই বিন্দাস।   আমি তুমি সে ও ওরা সবই যাত্রী শুধু   অসময়ে আচমকাই মৃত্যু হানা দেবে থাক বেঁচে সব শিশুরা আর কচিকাঁচার দল জাগবে নতুন পৃথিবী আর কাজ নেই কিছু ভেবে।   ভাবনা থাকুক দূরে , যত ভয় সরে যাক দূরে আমি রচে যাই যত নবজীবনের গান কবিতায় সাজাই থরে অতিমারী বিভীষিকা মৃত্যুর চেয়ে জ...

এক রাতের সফরনামা ও অসহিষ্ণু ভারতবর্ষ

এক রাতের সফরনামা ও অসহিষ্ণু ভারতবর্ষ বিদ্যুৎ চক্রবর্তী ।   একটি গ্রামে এক বর্ধিষ্ণু কৃষক পরিবার ছিল ( কৃষক কিংবা পূজারি ব্রাহ্মন হলেই যে ‘ দরিদ্র ’ হতে হবে তার কোনও বাধ্যবাধকতা নেই ) । পরিবার এক হলেও পৃথগান্ন ছিল । বড় ভাই বারীন্দ্র এবং ছোট ভাই গিরীন্দ্র । গ্রামের ঠিক মাঝামাঝি ছোট্ট একটি টিলার উপরে তাঁদের বাড়ি । বাড়ির ঠিক পিছনেই ঘন জঙ্গল । প্রায়শই শেয়াল , সজারু , গুইল সাপ , গন্ধগোকুল , খট্টাশ , বনমোরগ আদির দেখা মিলতো গ্রামের এদিক ওদিক । গ্রামে মানুষ এবং পশু পাখির শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান । বড় ভাই বারীন্দ্রের তিন ছেলে ও এক মেয়ে । বড় ছেলে চাকুরিসূত্রে বাইরে থাকে । ছোট ভাই গিরীন্দ্রের দুই ছেলে এক মেয়ে । উভয় পরিবারের সন্তানরা শিক্ষাদীক্ষায় পটু । উচ্চ শিক্ষিত না হলেও ক অক্ষর গো মাংস নয় কেউই । অজ পাড়া গাঁয়ে কৃষক পরিবারে জন্ম নিয়ে শিক্ষার পথ না মাড়ালেও অশুদ্ধ হতো না কোনও মহাভারত । তবুও ওদের সবার শিক্ষিত হওয়ার পেছনে বড় ভাই বারীন্দ্রের অবদানটাই সব চাইতে বেশি । নিজের ছেলে মেয়েদের শিক্ষাদানের এই পরম্পরা যে শুরু করেছিলেন বারীন্দ্র , তা পুরোপুরি ইচ্ছে না থাকলেও এক প্রকার বা...