Skip to main content

Posts

বৃথা উদযাপন

চলমান এ জীবন - ধাপ শুধু ধাপ ধাপে ধাপে উদযাপন আর অনন্ত উত্তরণ কে যেন চুপিসারে বলে যায় কানে কানে কতটুকু দিতে পেরেছ বিনিময়ে ? এ জীবন এক ছকে বাঁধা পথ চলা একই ছক , একই পথ চলা তবু আসে ঘোর - নতুন স্বপ্নবেলা কে আর মিছিমিছি বৃথা চলে পথ ? তারাদের খসে যাওয়া রোজ রাতভর দেখে রাতজাগা পাখি আর আলোকবর্ষ ব্যাপী অনন্ত জাগ্রত সব বোবা নক্ষত্র। কে তুমি জাগতিক অপূর্ব তারকা নিজেই কেটেছ পরিখা ? রাতজাগা পাখি দেখে ক্ষয় শুধু ক্ষয় হারিয়ে যেতে যেতে অবোধ্য পতন স্বজন সাথিদের বৃথা উদযাপন।

মত্ত নদীর আত্মকথা

শেষ অঘ্রানের ধানি গন্ধ মিলিয়ে যাওয়ার আগেই শুরু হয়ে যেত আমাদের দৌড়ঝাঁপ। কাটা ধানগাছের গোড়ার অংশগুলো পায়ে পায়ে মাড়িয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়ে তৈরি হয়ে উঠত গাঁয়ের একচিলতে ক্রিকেট মাঠ। শীতের নরম রোদে ক্রিকেটের মতো এমন সুস্বাদু টাইমপাস্‌ আর কিছুই ছিল না তখন। স্কুল যেদিন বন্ধ থাকত সেদিন সারা দিন জুড়ে , আর তা না হলে শুধু বিকেলের শেষ রোদে জমে উঠত ক্রিকেটের আসর। স্কুলের ফার্স্ট বয় রাজু থেকে শুরু করে কৃষক বন্ধু অমল অবধি সব একই মাঠের সুহৃদ। ফাস্ট বোলার ছিল রত্নেশ্বর। তার ছোড়া বল খেলতে দস্তুর মতো হিমশিম খেতে হতো আমাদের। আমরা ভাবতাম রত্নেশ্বর নির্ঘাত বহু দূর যাবে ক্রিকেটকে সঙ্গে নিয়ে। কিন্তু বিধাতার লিখন কি আর কেউ পড়তে পারে আগেভাগে ? সেই ফাস্ট বোলার রত্নেশ্বর একদিন সব ছেড়েছুড়ে চলে গেল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে দূরদেশে। দিন মাস বছর গড়াতে থাকল। সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ল ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নে। রত্নেশ্বর চাকরিবাকরি পেয়ে থিতু হলো জীবনে। আজ বহু যুগ পর খেলার মাঠ থেকে বহু দূর অবস্থানরত প্রৌঢ় রত্নেশ্বর অন্য আরেক কৃতিত্বে পরিচিত হয়ে আছে সমাজে। শুধু ‘যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে’ই নয়। রত্নেশ্বর দেখিয়ে দিয়েছে - ‘যে ক্রিকেট খেলে...

দেড়শো কবিতার অনবদ্য সম্ভার - ‘ভালোবাসার এক নাম কবিতা’

উত্তর পূর্বের লেখালেখির জগতে গদ্য ও পদ্য উভয় শাখাতে যেসব কবি , লেখকরা প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন তাঁদের মধ্যে এক উল্লেখযোগ্য নাম ঋতা চন্দ । উত্তর পূর্ব কথাটি ইচ্ছে করেই উল্লেখ করা হল । কারণ এখানে , এই বাংলা সাহিত্যের কর্ষণ ক্ষেত্রের ভৌগোলিক গণ্ডির মধ্যে বসবাস করে উত্তর পূর্বের বাইরে কারো কারো কিছু সাহিত্যকর্ম হয়ত প্রকাশিত হয় কিংবা প্রশংসিতও হয় সাময়িক কিন্তু প্রসিদ্ধি লাভের ব্যাপারটা দূর অস্ত্ ‌ হিসেবেই থেকে যায় । অথচ বাইরের বহু লেখালেখির তুলনায় এ অঞ্চলে যে উৎকৃষ্টতর বহু সাহিত্যকর্ম সৃষ্টি হয়েছে তাও অবিদিত নয় । তবু এই দুর্লঙ্ঘ্য দূরত্ব আজও বজায় আছে । তার অন্তর্নিহিত কারণ সহজেই বোধগম্য যদিও এই কারণ অনুসন্ধান এখানে উপপাদ্য নয় । ‘ ভালোবাসার এক নাম কবিতা ’ কাব্যগ্রন্থে কবি ঋতা চন্দ উজাড় করে দিয়েছেন তাঁর কাব্যধারার রস । ফলে ফুলে বিকশিত হয়েছে তাঁর কাব্যপ্রতিভা । ১৩৪ পৃষ্ঠার এই গ্রন্থে সন্নিবিষ্ট হয়েছে ১৫০টি ‘এক লাইনের’ কবিতা থেকে শুরু করে ‘আড়াই পৃষ্ঠা জোড়া’ দীর্ঘ কবিতা । বিষয় বৈচিত্র্যে , কাব্য ধারায় বিচিত্র হয়ে উঠেছে কাব্যগ্রন্থ । বিচিত্র সব বিষয় সন্নিবিষ্ট হয়েছে কবিতায়। গ্রন্থনামে উল্লেখ...

বিষয় বৈচিত্রে বিশেষ কাব্যগ্রন্থ - ‘তোমাকে খুঁজতে গিয়ে’

শেষ পৃষ্ঠার কবিতা - ‘তোমাকে খুঁজতে গিয়ে’। শেষ থেকেই যেন শুরু। তোমাকে খুঁজতে গিয়ে - জনারণ্য থেকে পাহাড়, নদীর চড়াই-উত্‌রাই বনভূমি থেকে চিল্কা তোমাকে খুঁজতে খুঁজতে চলে গেছে… কত মধুমাস …   গ্রন্থের শুরু থেকে শেষ অবধি বিষয় বৈচি ত্রে কোথাও যেন লুকিয়ে থাকে এই খোঁজ। কবিতায় কবিতায় চলতে থাকে অনাদি অনন্ত খোঁজ। জীবন খাতার প্রতিটি পাতা ঋদ্ধ হয় অনুভবে, অভিজ্ঞতায় আর কবিতায় ধরা থাকে সেইসব অনন্ত দুঃখ সুখের গাথা। সেই কথাটিই ব্লার্বে লিখেছেন গ্রন্থের বর্ণ সংস্থাপক বন্দনা বিশ্বাস। মমতা চক্রবর্তীর সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ ‘তোমাকে খুঁজতে গিয়ে’। পাকা বাঁধাইয়ে জ্যাকেট কভারে মোড়া ৬৪ পৃষ্ঠার এই কাব্যগ্রন্থটিতে আছে মোট ৫৫ টি কবিতা। কলকাতার রাধা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত ভূমিকাহীন এই গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছে ‘ভাষা শহিদদের পুণ্যস্মৃতির উদ্দেশে’। কবি মমতা চক্রবর্তীর এ যাবৎ প্রকাশিত সব ক’টি কাব্যগ্রন্থে যে বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়ে আসছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য এই শহিদ তর্পণ। এবার আর কবিতায় নয়, পুরো গ্রন্থটিই তুলে দেওয়া হলো ভাষা শহিদদের উদ্দেশ্য করে। বরাবরের মতোই বহুধা বৈচিত্রে সজ্জিত এ পর্বের কবিতাগুলো। বরাবরেরই মতো ক...

যাপন ব্যথার নির্বেদ উচ্চারণ - ‘ঘাম-জলের ধান’

‘ঘাম-জলের ধান’ । সম্প্রতি গুয়াহাটির ব্রাহ্ম সমাজ প্রেক্ষাগৃহে উন্মোচিত হল ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার বাংলা সাহিত্যের আকাশে পরিচিত দ্বিভাষিক তরুণ কবি অর্জুন দাস - এর দ্বিতীয় কাব্য সংকলন । এর আগে প্রকাশিত হয়েছিল তাঁর প্রথম অসমিয়া কবিতার সংকলন ‘ ভোকর ঈশ্বর ’ । সুতরাং ‘ ঘাম - জলের ধান ’ ই কবির প্রথম প্রকাশিত বাংলা কাব্যগ্রন্থ । এবং গ্রন্থ নামেই যথার্থ হদিশ খুঁজে পাওয়া গেল কাব্যগ্রন্থটির বিষয় ভাবনার । শ্রমের মাধ্যমে কষ্টার্জিত ফসলের সৃষ্টি যাঁরা করে চলেছেন মূলত তাঁদের জীবনযাত্রা নিয়েই রচিত অধিকাংশ কবিতা । কোথাও হয়ত খাপ খেয়ে যায় কবির নিজস্ব যাপন কথার মতোই । তাই এই জীবনের অন্দরমহলের ঊনকোটি যাপন এসে ধরা দেয় কবিতার শরীরে । একের পর এক কবিতায় ধরা থাকে সেইসব যাপন ব্যথার উচ্চারণ । পাকা ধানের গন্ধে মাতোয়ারা কবি তার কাব্যগ্রন্থের শ্রীগণেশ করেছেন ‘ ধান কাটা শুরু হয়েছে ’ কবিতাটির মাধ্যমে । গদ্য কবিতার ধাঁচে উচ্চারিত হয় ধান - বৃত্তান্ত - কার্তিক মাসটা আমাদের জন্য বড়ো সুখের মাস । এ মাসেই পাকা ধানের গন্ধ এসে নাকে লাগে । আমরা আজন্ম কৃষক । তাই পাকা ধানের হাসি দেখতে পাই । এমন সময় মনের উল্লাসে মাঠে ...