পটভূমিটা এরকম - লেখিকার কলমে,
২০০৮ সালে গুয়াহাটি পাণ্ডু কলেজে বিএসসি
পড়ার সময় গল্পের এক ওয়ার্কশপে জানতে পারলাম যে এক লাইনেরও গল্প হয়। তখন একজন দিদি (নাম
মনে নেই) একটি ট্রেন দুর্ঘটনাকে নিয়ে এক লাইনের গল্প লিখেছিলেন। পরবর্তী কালে ইন্টারনেট
সার্চ করে এই রকম গল্পের আরও কিছু উদাহরণ পেলাম। - - - - ডাঃ যায়নুদ্দিন
সানী লিখছেন, “অনেকদিন আগে একবার একটা বই পড়েছিলাম ‘কিভাবে গল্প লিখতে হয়’। বইটাতে
কী ছিল এখন খুব বেশি মনে নেই। তবে একটা তথ্য মনে আছে, গল্প যে কোনও দৈর্ঘের হতে
পারে। এমনকি এক লাইনেরও হতে পারে। এক লাইনের গল্পের উদাহরণ ছিল - ‘একবার একজন আহত
সৈন্য, যার এক পা মাইনের আঘাতে উড়ে গেছে। দরদর করে রক্ত ঝরছে সেই পা থেকে, সে বহু
কষ্টে পা টেনে টেনে নিয়ে তার কমাণ্ডারকে এসে জানাল, স্যার আমরা যুদ্ধে জিতে গেছি।”
- - - - একবার এক বিশ্ববিদ্যালয়ের
গল্প প্রতিযোগিতায় এই চারটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে একটি গল্প লিখতে বলা হয়। ১-
ধর্ম, ২- আভিজাত্য, ৩- কাম, ৪- রহস্য। প্রথম পুরস্কার পাওয়া গল্পটি ছিল - ‘হে
ভগবান’, মহারাণী বললেন, ‘আমি অন্তঃসত্ত্বা, আমি আশ্চর্য এটা কে করল।‘ এরকম আরও
অনেক উদাহরণ আছে। আর তাই আমিও প্রয়াস করলাম এক লাইনের গল্প লিখার, আমার জীবনের
প্রথম শিক্ষিকা আমার মা-র প্রেরণায়। - - - - -
এই প্রয়াসে লেখিকা মৌপিয়া চৌধুরীর
এক লাইনের গল্প সংকলন ‘প্রথম দশ’ প্রকাশিত হয়েছে আগস্ট ২০১৬ তে। সম্পাদনা বিজয়া
করসোম যাঁর একটি চমৎকার কথামুখ বইটি প্রকাশের ইতিকথাও জানিয়ে দেয় পাঠকদের। বরাক
উপত্যকা থেকে প্রকাশিত এরকম অভিনব আয়োজন সম্ভবত এই প্রথম। প্রকাশক - কথা বিকল্প
পরিবার, শিলচর। লেখিকা বইটি উৎসর্গ করেছেন তাঁর বাবা রণেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী ও মা তপতী
চৌধুরীকে।
মোট সতেরো পৃষ্ঠার এই বইটিতে
সন্নিবিষ্ট হয়েছে দশটি গল্প। কিন্তু পটভূমিকায় উল্লিখিত এক লাইনের গল্পগুলোর সাথে
এ বই-এর গল্পগুলোর অনেকটাই তফাৎ। এখানে এক একটি গল্প পৃষ্ঠা ছাড়িয়ে গেছে। স্বভাবতই
প্রশ্ন জাগে এই ভেবে যে এক লাইনের গল্প কী করে এত বড় হয়ে যায়। আসলে লেখিকা
গল্পগুলোকে অনেকটাই ডালপালা সহ বিস্তৃত করেছেন। এবং তা করতে গিয়ে অর্থাৎ
বাক্যগুলোকে একসাথে ধরে রাখতে গিয়ে একের পর এক অব্যয়ের ব্যবহার করেছেন। যেমন - আর,
ও, কিন্তু, অথচ, বা, এবং ইত্যাদি। এতে গল্পের অবয়ব বর্ধিত হয়েছে অনেকটাই কিন্তু
কিছুটা একঘেয়েমি এসেছে সহজ পঠনে। অনেক সময় এই দু’টি বা একাধিক বাক্যকে একই অব্যয়ে
জুড়ে দেওয়ায় কিছুটা অস্বস্তিকরও ঠেকেছে বৈকি। এর চাইতে সংক্ষিপ্ত আকারে গল্পগুলো
উপস্থাপন করলে হয়তো গল্পের গমকটা বেশি অনুভূত হতো।
তবে কিছু গল্প তার মধ্যেও হয়ে
উঠেছে গল্পময়। যেমন - ঠিকানা, চিত্রাঙ্গদা, বৃষ্টিভেজা একদিন, সমর্পণ ইত্যাদি।
পরবর্তী দশ-এ লেখিকা নিশ্চিত এই ইল্যুশনটা কাটিয়ে উঠবেন। শেষটা ছাড়া পুরো গল্পে
দাঁড়ি না থাকায় পাঠকের এক পঠনে পৃষ্ঠা পেরোনোর যে এক কসরত, তা অবশ্য পাঠকের কাছে
এক নতুন চ্যালেঞ্জ।
এ
সংকলনের হাত ধরে পরবর্তীতে ছোটগল্প লেখার প্লটটাও হয়তো এখান থেকেই গজিয়ে উঠবে - সে
আশা করা যেতেই পারে। সব মিলিয়ে ঘন্টাখানেকের এক অভিনব উপহার দেওয়ার জন্য লেখিকা
অবশ্যই বন্দিত ও নন্দিত হয়ে থাকবেন।
বিদ্যুৎ
চক্রবর্তী।
মৌপিয়া চৌধুরী
মূল্য - ২০ টাকা
Comments
Post a Comment