আমার মা যখন বলতেন - 'তুই আসবি, না আমি আসব ?'
আমার আত্মারাম তখন খাঁচা ছেড়ে বেরিয়ে যেতে চাইত। এমনই ছিল আমার মাতৃভাষা।
তখন আমি সদ্য বালক। পাশের বাড়ির জ্যেঠামশাই যখন তাঁদের বাড়ির পেয়ারা গাছে আমাকে আবিষ্কার করে তেড়ে এলেন আর আমি ভয়ে আতঙ্কে নামতে গিয়ে পড়ে - হাঁটুর চামড়া গেল ছড়ে, ঘরে এসে একটু সহানুভূতি চেয়ে কাঁদো কাঁদো হয়ে আধো আধো স্বরে খুলে বললাম মাকে।
মা বললেন - 'দাঁড়া, আজ তোর একদিন কি আমার একদিন। কেন উঠেছিলি ওদের গাছে ?'
- ওই ছিল আমার মাতৃভাষা।
বড় হয়েছি যবে, কর্মস্থলে যাওয়ার সময় কড়ে আঙুলটা কামড়ে দিয়ে মা বলতেন - পৌঁছেই টেলিগ্রাম করবি। - ওই ছিল আমার মাতৃভাষা।
মৃত্যুপূর্বে একদিন আমাকে চুপিচুপি হাতের ইশারায় কাছে ডেকে যেদিন মা জিজ্ঞেস করলেন - আপনি কে ? সেদিনই বুঝেছি মাতৃভাষা হারিয়ে গেলে কেমন অন্তঃসারশূন্য হয়ে যায় এ জগৎ সংসার। কত দেশ, কত তীর্থ ঘুরে বলেছি, শিখেছি কত ভাষা। কত সুখ দুঃখ ভালোবাসা। তবু আজও কান পেতে রই শুনব বলে - সাবধানে যাস বাবা। সেই থেকে বড় সাবধানে মা গো একাই চলছি পথ। সাথে আছে শুধু অভিমান, আজন্ম সংস্কার আর উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত আপন মাতৃভাষা। আমরা ধন্য হয়েছি অন্য এক উত্তরাধিকারেও। আমরা এগারো শহিদের পুণ্যভূমির সন্তান। বহন করে চলি আমৃত্যু উনিশের উত্তরাধিকার। আমরা শুনেছি ভাষা মায়ের আর্তনাদ, জেনেছি ভাষার গরিমা। এই গরিমা বহন করে পৃথিবীর সব সন্তান। তাই তো আমরা সম্মান করি সব ভাষামাতৃকে। উনিশের দুঃখ আমাদের উদার করেছে ততটাই যতটা করেছে উদ্দীপ্ত।
আমার আত্মারাম তখন খাঁচা ছেড়ে বেরিয়ে যেতে চাইত। এমনই ছিল আমার মাতৃভাষা।
তখন আমি সদ্য বালক। পাশের বাড়ির জ্যেঠামশাই যখন তাঁদের বাড়ির পেয়ারা গাছে আমাকে আবিষ্কার করে তেড়ে এলেন আর আমি ভয়ে আতঙ্কে নামতে গিয়ে পড়ে - হাঁটুর চামড়া গেল ছড়ে, ঘরে এসে একটু সহানুভূতি চেয়ে কাঁদো কাঁদো হয়ে আধো আধো স্বরে খুলে বললাম মাকে।
মা বললেন - 'দাঁড়া, আজ তোর একদিন কি আমার একদিন। কেন উঠেছিলি ওদের গাছে ?'
- ওই ছিল আমার মাতৃভাষা।
বড় হয়েছি যবে, কর্মস্থলে যাওয়ার সময় কড়ে আঙুলটা কামড়ে দিয়ে মা বলতেন - পৌঁছেই টেলিগ্রাম করবি। - ওই ছিল আমার মাতৃভাষা।
মৃত্যুপূর্বে একদিন আমাকে চুপিচুপি হাতের ইশারায় কাছে ডেকে যেদিন মা জিজ্ঞেস করলেন - আপনি কে ? সেদিনই বুঝেছি মাতৃভাষা হারিয়ে গেলে কেমন অন্তঃসারশূন্য হয়ে যায় এ জগৎ সংসার। কত দেশ, কত তীর্থ ঘুরে বলেছি, শিখেছি কত ভাষা। কত সুখ দুঃখ ভালোবাসা। তবু আজও কান পেতে রই শুনব বলে - সাবধানে যাস বাবা। সেই থেকে বড় সাবধানে মা গো একাই চলছি পথ। সাথে আছে শুধু অভিমান, আজন্ম সংস্কার আর উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত আপন মাতৃভাষা। আমরা ধন্য হয়েছি অন্য এক উত্তরাধিকারেও। আমরা এগারো শহিদের পুণ্যভূমির সন্তান। বহন করে চলি আমৃত্যু উনিশের উত্তরাধিকার। আমরা শুনেছি ভাষা মায়ের আর্তনাদ, জেনেছি ভাষার গরিমা। এই গরিমা বহন করে পৃথিবীর সব সন্তান। তাই তো আমরা সম্মান করি সব ভাষামাতৃকে। উনিশের দুঃখ আমাদের উদার করেছে ততটাই যতটা করেছে উদ্দীপ্ত।
Comments
Post a Comment