Skip to main content

জ্যোৎস্না আর জোনাকির সাথে আমি পথ চলি আর কথা বলি…. দাদা বাড়ি আছো?


দীর্ঘ যাপনের অভিজ্ঞতাপ্রসূত অনুভবকে পাথেয় করে ত্রিপুরা রাজ্যের কবিতা উপত্যকার অংশ বলে কথিত উত্তর ত্রিপুরার কবি, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সুজিত দেব এক স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন রাজ্য ও এতদঞ্চলের কাব্যভুবনে। সাহিত্যচর্চায় রয়েছেন দীর্ঘ চার দশক জুড়ে। স্বভাবতই তাঁর মানসপ্রসূত সৃষ্ট কবিতার গভীরতাও পুষ্ট হয়েছে তাঁর ব্যক্তিমানুষের যাপনছন্দে। সম্প্রতি হাতে এসেছে তাঁর একক কাব্যগ্রন্থ - ‘দাদা বাড়ি আছো?’ গ্রন্থনামের আপাতপাঠে শক্তি চট্টোপাধ্যায় মানসপটে জেগে উঠলেও কবি সুজিত দেবের স্বাতন্ত্র্য তার কবিতার ভেতরেই সহজগম্য, কবিতার মতোই সহজবোধ্য। গ্রন্থে উল্লেখ করা মতো দেখা যাচ্ছে এটি কবির দ্বিতীয় একক কাব্যগ্রন্থ। প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘যদি কেউ ফিরে চায়’-এর পর আলোচ্য গ্রন্থের বাইরে আর কোনও একক কাব্যগ্রন্থ না থাকলেও রয়েছে মোট ১৪টি যৌথ কাব্য সংকলন।
সিঙ্গল জ্যাকেটে ৮৪ পৃষ্ঠার পাকা বাঁধাই গ্রন্থটির ৭৬ পৃষ্ঠা জুড়ে রয়েছে মোট ৭৯টি কবিতা। শেষ প্রচ্ছদে কবির সচিত্র পরিচিতি থাকলেও ব্লার্বগুলো খালি রেখে আলাদা করে ‘আমার কথা’ শিরোনামে প্রথমেই পৃষ্ঠাজোড়া রয়েছে প্রকাশকের কথা। লিখেছেন ঝাড়খণ্ডের ‘সুতপা’ সাহিত্য গোষ্ঠীর হয়ে রাজকুমার সরকার। ‘আমার কথা’য় কবি ও কবিতার কিছু পরিচিতিসুলভ বিশ্লেষণ করেছেন তিনি, যা অনায়াসে ব্লার্বেও সংকুলান হয়ে যেত। তবু মন্দ লাগার কথা নয়, ভিন্ন আঙ্গিকে স্বচ্ছন্দ হতে মন্দ কী ? পৃথিবীর যাবতীয় কবিতার বইয়ের আঙ্গিক একই হতে হবে - এমন মাথার দিব্যি কে দিয়েছে? এই ‘আমার কথা’য় কবিকে নিয়ে প্রকাশক লিখছেন - ‘…ঈশ্বর বিষয়ক/১’ কবিতায় তিনি বলেছেন - ‘মানুষ হতে পারে ঈশ্বরের বিকল্প’। কী অনবদ্য ভাবনা। অনন্যসুন্দর কথা। আমরা জানি প্রতিটি মানুষের মধ্যে ঈশ্বর বিরাজ করেন। মানুষ যদি নিজের গুণের সঠিক প্রকাশ করেন, ধরে রাখেন সততা, ন্যায্যতা, ধর্মপরায়ণতা তাহলেই তিনি ঈশ্বরত্ব লাভের অধিকারী। সমাজে অনেক ঈশ্বররূপী মানুষ আছেন যাঁরা ঈশ্বরের মতোই পূজ্য। মানুষ হতে পারে ঈশ্বর। কবি এখানে আশাবাদী। তাঁর এই কবিতাটি ছোট হলেও হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো।’ বস্তুত এক পঙ্‌ক্তির এই ক্ষুদ্রতম কবিতাটিই আলোচ্য গ্রন্থের খেই বলা হোক বা ট্যাগলাইন বলা হোক - সবকিছু। ৭৯টি কবিতার মধ্যে সেরা এবং অনুপম।
কবি এই কথারই সূত্র ধরে যেন রচনা করেছেন সবগুলি কবিতা - যদিও পরিস্থিতি, আঙ্গিক, বিষয়ভাবনা ভিন্ন তবু সব কবিতার যেন ভিতরকবিতা এই কবিতাটিই। প্রতিটি কবিতার মধ্যেই যেন ধরা আছে এক ঐশ্বরীয় অনুভব। প্রতিটি কবিতাই চিরন্তন। কোনও বিশেষ অনুষঙ্গ বা সময়কালকে ধরে রাখার কোনও অতিমানবিক প্রচেষ্টা নয়, স্বত:স্ফুর্ত প্রকাশের মাধ্যমে মেদবিহীন উচ্চারণে যাপিত সমগ্র জীবনকে, জীবন থেকে প্রাপ্ত উপলব্ধিকে আপন স্বাতন্ত্র্যে কবি গেঁথেছেন তাঁর কবিতাসম্ভার। মানুষ ও ঈশ্বরকে এক ভিন্নতর রূপে চিহ্নিত করেছেন কবি। যে মানুষ ঈশ্বরপুত্র সেই আবার প্রকৃতির স্বার্থবিরোধী কর্মে লিপ্ত হয়ে যখন ঈশ্বরের সৃষ্টিকে ধ্বংসে লিপ্ত হয় তখন তীব্র শ্লেষ উচ্চারিত হয় কবির কবিতায় -
...আমরা আর কিছুদিনের মধ্যেই মঙ্গল গ্রহে পা রাখব,
আবার বৃহস্পতিকে স্পর্শ করতে
চন্দ্রপৃষ্ঠে বিশ্রামমঞ্চ গঠনে
আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে...।
ঈশ্বরকে ধন্যবাদ
কয়েকশো পৃথিবী ধ্বংস করার
ক্ষমতা অর্জন করেছি
সৃষ্ট বস্তুসমূহের নিরাপত্তা বিধানে
আমরা সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ...। (কবিতা - ঈশ্বরপুত্র)
আঙ্গিক সর্বদা মুখ্য নয়। মুখ্য হয়ে ওঠে বিষয়ভাবনা। এভাবেই মূর্ত হয়ে ওঠে ধ্বংসের বিরুদ্ধে শ্লেষ। সামগ্রিক বিচারে একেকটি কবিতায় অনুভবঋদ্ধ কবি যেন উদ্ভাসিত করেছেন নিজেকে। তাই গ্রন্থে সন্নিবিষ্ট অধিকাংশ কবিতায় ‘আমি’, ‘আমার’, ‘তুমি’, ‘তোমার’ জাতীয় সর্বনামের বহুল ব্যবহার দেখতে পাওয়া যায়। বিষয় অবাধ তাই নানা অনুষঙ্গে চিত্রিত করেছেন কাব্যমঞ্জরী। কবিতায় কবি যেন তাঁর জীবনকেই তুলে এনেছেন প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির তুলাদণ্ডে পরখ করে নিতে।
...আমি কলম নিয়ে বেঁচে আছি
প্রতিরোধ আমার
সহজিয়া সুর
আমি জানি
জীবনের শেষে নো-ম্যানস্‌ ল্যান্ড। (কবিতা - জীবনের সাদা ঘাম)
আপ্তবাক্যের মতো শোনায় যেন শেষ লাইনটি। জীবিকাজীবন থেকে অবসর গ্রহণের সময়কালে বা তৎপরবর্তী সময়কালে সবার অন্তরেই এক শেষের চিত্র এসে জায়গা করে নেয়। কবিও তো মানুষ তাই ব্যতিক্রম হতে পারেন না। নিজেকেই যেন বলে ওঠেন - 
...তোমরা কি দেখছো
মানুষের কথা বলতে বলতে
সব কিছু বদলে যায়
চোখের সামনে জীবন চলে যায়
হে প্রিয় কবিবর
আমার কবিতা লেখা হল না আর
আমার ছায়া লম্বা হতে হতে
এখন বসন্ত কাল...। (কবিতা - দাদা বাড়ি আছো?)
গ্রন্থনামশীর্ষক এই কবিতায়ও এমনধারা অভিব্যক্তি স্পষ্ট হয়ে ধরা দেয়। এখানে এবং আরও বহু কবিতায় বসন্ত কালের উল্লেখ করেছেন কবি। তাঁর কবিতায় বসন্ত কোনো ঋতু হয়ে আসেনি, আসেনি রং ছড়িয়ে দিতে কবিতায়। ঋতুপর্বের শেষ ঋতু যেমন বসন্ত, কবির কবিতায়ও বসন্ত অর্থে শেষের অনুষঙ্গ তাই বারবার ফিরে এসেছে - কবিগুরুর ‘শেষ বসন্ত’ কবিতার ভাবনারই মতো। ‘বসন্ত’ এসেছে আলোচ্য গ্রন্থের কবির বহুব্যবহৃত রূপক হয়ে।
কবিতাকে নিয়ে নির্মোহ কাটাছেঁড়া করেছেন কবি তাঁর একাধিক কবিতায়। কবিতা-১, কবিতা-৩, কবিতা-৪ শিরোনামে রয়েছে তিনটি কবিতা। মাঝখান থেকে কবিতা-২ উধাও। পাঠকমনে অনুসন্ধিৎসার উদ্ভব অপ্রাসঙ্গিক নয়। রয়েছে ‘হাজার কবিতার ভেতর’, ‘আমি কবিতা লিখব কখন’, ‘কবিতার তলপেটে’ ইত্যাদি।
অনবদ্য কিছু কবিতার কথা উল্লেখ না করলেই নয়। যেমন ‘লন্ডন, ব্রাইটন শহর নিবাসী কবিরাজ জর্জ ডাউডন, যিনি ত্রিপুরার উত্তর জেলার শহর ধর্মনগরকে ‘সিটি অব ধর্ম’ অভিধায় ভূষিত করেন। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়’ উৎসর্গ করা কবিতা - ‘সিটি অব ধর্ম’। এছাড়া ‘কাঞ্চনকন্যার কালো রাত’, ‘পঞ্চম বাহিনী’, ‘আমার বাবার এক বন্ধু’, ‘চলো এগিয়ে যাই’, ‘শঙ্খচিল’, ‘তিল ফুলের নাক’ ইত্যাদি। বিষয়বৈচিত্র্যে উঠে এসেছে নানা অনুষঙ্গ। স্মৃতিচারণে উঠে আসে সব - ভাষাপ্রেম, ভাষা শহিদের পাশাপাশি গভীর মানবিক প্রেমের মানচিত্র, স্খলিত জীবনবোধের উপর তীব্র শ্লেষ, পরাবাস্তববাদ। কবিতার জন্ম হয় জীবনানন্দীয় আবেশে -
তোমার আমার মাঝে কবে থেকে
চিড় ধরে গেছে, কবে থেকে দেখা
হয় না হয়না বহুদিন - টুকরো
টুকরো হয়ে হালকা হাওয়ায় ওড়ে
ছিটকে গেছে মানচিত্র শরীর

কতদিন দেখিনি খোলা আকাশের
বুকে, ঘুরে ঘুরে উড়ে চলা
ডানা খোলা শঙ্খচিল। (কবিতা শঙ্খচিল)
স্বজন, স্বদেশ, স্বভূমিকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারেন না কোনো কবি। কবি সুজিত দেবও তার ব্যতিক্রম নন। তাই তিনি লিখেন -
আমার মাথায় নড়াচড়া করে
বিষাদ পৃথিবী…
মায়ের বুকে বিষণ্ণতার ছাপ
আকাশ শুয়ে আছে
ফুলমতীর গৃহে,
ভাতের গন্ধে জন্ম নেয় মদ,
একসাথে বৈঠকে মেয়ে-ছেলে
কেউ কাউকে বিশ্বাস করছি না।
ভাষাহীনতার কোলে ভালোবাসা।
জম্পুই ঘুমিয়ে আছে আবছা আলোয়,
শতাব্দী বয়ে আনে কমলার
টগবগে ডাগরি ঘ্রাণ। (কবিতা - ভাষাহীনতার কোলে ভালোবাসা) 
সব মিলিয়ে নিমগ্ন পাঠোপযোগী এক কাব্য সংকলন। ছাপার মান যথাযথ হলেও বানানবিভ্রাট রয়ে গেছে বহু। তপন ঘোষের প্রচ্ছদচিত্র নান্দনিক হলেও একটি ঋদ্ধ কাব্যগ্রন্থের মান অনুযায়ী বড্ড সেকেলে এবং মানানসই অনুভূত হয় না। ব্যতিক্রমী আঙ্গিকে গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছে কবির ‘প্রিয় পাঠক লক্ষ্মী সামন্তের স্মৃতিরক্ষার্থে’। কিছু কবিতার পঙ্ক্তি অধিক বিন্যস্ত হওয়ার পরিসর হয়তো ছিল। যেমন ছিল কিছু কবিতায় আরও খানিকটা কাব্যিকতার। সেসব পরিহার করে আলোচ্য গ্রন্থটি এ অঞ্চলের অন্যতম সংগ্রহযোগ্য সংকলন হিসেবে পরিগণিত হওয়ার নিশ্চিত দাবি রাখে কালের সংগ্রহালয়ে। কালের প্রবাহে কবির পরবর্তী কাব্যগ্রন্থের অপেক্ষায় থাকতেই পারে কোনো নিমগ্ন পাঠক - যে বই তার ঘুম ভাঙিয়ে পিদিম জ্বালিয়ে রাতে কিংবা বেলা-অবেলায় আড্ডা জমাবে তার সাথে। (সূত্র - কবির কবিতা - ‘যে বই ঘুম ভাঙিয়েছিল’।)
বিদ্যুৎ চক্রবর্তী
‘দাদা বাড়ি আছো?
সুজিত দেব
প্রকাশক - সুতপা প্রকাশনী, ধানবাদ
মূল্য - ১৫০ টাকা
যোগাযোগ - ৯৫৭২০৪৯৯৩৪

Comments

Popular posts from this blog

গুয়াহাটিতে বিদ্বৎসমাজের দেশ, ধর্ম ও সমাজ ভাবনা বিষয়ক আলোচনা সভা

সম্প্রতি গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও প্রাবন্ধিক খগেনচন্দ্র দাসের আহ্বানে গুয়াহাটি, লালগণেশ অঞ্চলের শান্তিনগরে অবস্থিত পূর্বাশা বিদ্যানিকেতনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়েছিলেন মহানগরের বিদ্বৎসমাজের একাধিক ব্যক্তি। আলোচনার বিষয় ছিল ‘বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মের অবস্থান ও প্রয়োজনীয়তা’। সভায় সাহিত্য, সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে জড়িত বহু ব্যক্তির বাইরেও উপস্থিত ছিলেন সুশীল সমাজের একাধিক গুণীজন। এদিন এই সান্ধ্যসভায় আহ্বায়কের বাইরে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা হলেন - বিজয় ভূষণ দে, সিদ্ধার্থ কুমার দত্ত, মনতোষ চন্দ্র দাস, নির্মল চন্দ্র দাস, পীযূষ দেব, শংকর পণ্ডিত, অসিত কুমার সরকার, শাশ্বতী চৌধুরী, ঋতা চন্দ, সুচরিতা সান্যাল, রবিশংকর দত্ত, তাপসী চৌধুরী, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, মধুমিতা দত্ত, মীনাক্ষী চক্রবর্তী, রুদ্রাণী দত্ত, বীণা রায়, মুক্তা সরকার, অনুরাধা দাস পাত্র, জয়া নাথ ও স্বর্ণালি চৌধুরী।     মূল প্রসঙ্গের ধারাবাহিক আলোচনায় উঠে এসেছে একাধিক প্রসঙ্গ - আজকের দিনে ঋষি অরবিন্দের ভাবনার প্রয়োজনীয়তা, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের মানবিক দিক, হিন্দু সমাজে গুরুবাদ ও বিভেদ, ডিপস্টেটে...

রজতজয়ন্তী বর্ষে প্রকাশিত স্মরণ সংখ্যা ‘আলোহাওয়া’

একটি লিটল ম্যাগাজিন বা ছোটপত্রিকা হচ্ছে সমাজের সাহিত্যদর্পণ । শুধুই সমকালিক নয়। যুগান্তরের ভাষাসাহিত্য ও তার যুগন্ধর স্রষ্টাদের সঙ্গে সমকালকে পরিচিত করে দেওয়ার এক প্রতিষ্ঠিত মাধ্যম। আর একের পর এক এই লক্ষ্যেই উৎকৃষ্টতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে নিরন্তর কাজ করে চলেছে বরাক উপত্যকার হাইলাকান্দি শহর থেকে প্রকাশিত ‘ সাহিত্য শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ক ’ পত্রিকা ‘ আলোহাওয়া ’ । রজতজয়ন্তী বর্ষে প্রকাশিত হয়েছে এই পত্রিকার ১৯তম সংখ্যা - ২৫তম বর্ষ , পৌষ ১৪৩২ - ডিসেম্বর ২০২৫ সংখ্যা । কবি জিতেন্দ্র নাথ সম্পাদিত এই সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছে সাহিত্যিক ‘ তুষারকান্তি নাথ স্মরণ সংখ্যা ’ হিসেবে । তুষারকান্তি নাথ এমন একজন সাহিত্যিক যাঁকে আখ্যায়িত করা যায় একজন সার্বিক সাহিত্যিক হিসেবে। ধারে ও ভারে তাঁর সৃষ্টি শুধু বরাক উপত্যকাতেই নয় এর বাইরেও সমাদৃত। তাঁর লেখনী রত্নপ্রসবা। পক্ষান্তরে এটাও বলা যায় যে ঘরে বাইরে কিছু স্বীকৃতি , কিছু প্রতিষ্ঠা পেয়ে থাকলেও তাঁর লেখালেখি ও নানাবিধ সৃষ্টিকর্মের গভীরতার মূল্যায়ন যতটা হওয়ার প্রয়োজন ছিল ততটা কিন্তু হয়নি। আসলে প্রান্তিকতা সততই লেখক, কবি, সাহিত্যিকদের পরিচিতির পথে এক বৃহৎ অন্তরা...

প্রখর গরজ ও শ্রদ্ধায় নিবেদিত একটি ‘সুকান্ত সংখ্যা’ - শতদল

হাতে নিলে আর পাঁচটা নিয়মিত সংখ্যা পত্রিকার মতো মনে হলেও উত্তর ত্রিপুরার চুড়াইবাড়ী থেকে কবি, লেখক রতন চন্দ সম্পাদিত সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক ‘শতদল’ পত্রিকার সম্প্রতি প্রকাশিত ২৯তম বর্ষ, ১ম সংখ্যা, বৈশাখ ১৪৩৩, মে-২০২৬ (কবি সুকান্ত জন্মশতবর্ষ সংখ্যা) সত্যিকার অর্থেই ব্যতিক্রমী। সেই মাত্র ৪২ পৃষ্ঠার পেপারব্যাক সংস্করণ হলেও প্রচ্ছদ থেকে শেষ পৃষ্ঠা অবধি যতন, গরজ ও উৎকর্ষের এক সম্ভার বললেও বাড়িয়ে বলা হয় না মোটেও। বাংলা ভাষার কবিদের মধ্যে এক স্বতন্ত্র স্থান ধরে আছেন অকালপ্রয়াত কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য। তাঁর সময়কাল থেকে আজ অবধি এবং আগত-অনাগত চিরকালীন এক বিস্ময়কর প্রতিভার অধিকারী এই কবি মূলত একজন প্রতিবাদী কবি হিসেবেই সাহিত্যবিশ্বে পরিচিত হলেও তাঁর কবিতায় এর বাইরেও যে রয়ে গেছে বহুমাত্রিক এক বোধ, ভাষ্য - বোধ করি তার সঠিক মূল্যায়ন হয়নি আজও। তবে যতই তাঁকে নিয়ে চর্চা হবে ততই এক এক করে খুলবে বিস্ময়ের ঝাঁপি এ কথা অনস্বীকার্য। এবং তারই এক নির্মোহ প্রয়াস ও প্রকাশ আলোচ্য সংখ্যাটি। সুসজ্জিত কবি-প্রতিকৃতিযুক্ত একটি নান্দনিক প্রচ্ছদ - সজ্জায়, বর্ণ সংস্থাপনে প্রথমেই দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বাধ্য পাঠকের। সৌজন্যে মুদ...