Skip to main content

প্রবাহ - বর্ষ ৩৫, সংখ্যা ১


উত্তর পূর্বের বাংলা সাহিত্য (পর্ব ১) নিয়ে প্রকাশিত
গবেষণাধর্মী ছোট পত্রিকা ‘প্রবাহ’
 
বিদ্যুৎ চক্রবর্তী
 
বরাবরের মতোই দক্ষিণ অসমের লালা থেকে উৎকর্ষে ভরপুর হয়ে আত্মপ্রকাশ করল সাহিত্যিক আশিসরঞ্জন নাথ সম্পাদিত গবেষণাধর্মী ছোট পত্রিকা ‘প্রবাহ’-এর বর্ষ ৩৫, সংখ্যা এক। এবারের বিষয় উত্তর পূর্বের বাংলা সাহিত্য (পর্ব-১, ত্রিপুরা ও মেঘালয়)। উত্তর পূর্বের বাংলা সাহিত্যের বিশাল সম্ভারকে একটিমাত্র পর্বে গ্রন্থিত করা প্রকৃতার্থে পায়ে হেঁটে পর্বত অতিক্রম করার মতোই এক দুঃসাধ্য ব্যাপার। তাই এই বিভাজন বিন্যাস। বস্তুত এই দুই রাজ্যের বাংলা সাহিত্যের আভাস দিতেই ব্যয় হয়ে গেছে মোট পৃষ্ঠাসংখ্যা ১৭৫ এর মধ্যে ১১৯ পৃষ্ঠা। তবু যেন ‘ভরিল না চিত্ত’। স্বভাবতই এমন একটি অনুভূতি আসতে পারে পাঠক মনে। কিন্তু এটাও স্বাভাবিক যে এত ক্ষুদ্র পরিসরে এক একটি অঞ্চলের বিস্তৃত সাহিত্যপরিচিতিকে তুলে ধরা একেবারেই অসম্ভব। সাহিত্যের একটিমাত্র ধারা নিয়ে লিখতে গেলেই একটি বিশাল গ্রন্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা থেকে যায় যেখানে সেখানে সবক’টি ধারাকে সন্নিবিষ্ট করতে পারা নিতান্তই অসম্ভব।
তবু এই বিশাল সৃষ্টির বিষয়ে পাঠকের দরবারে সম্ভাব্য পরিচিতি তুলে ধরার মহান উদ্দেশ্য নিয়ে ধারাবাহিক হিসেবে এগিয়ে এসেছে প্রবাহ। এ দায় বোধ করি শুধু ‘প্রবাহ’ই মেটাতে পারে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়জনিত বাস্তব এবং ব্যস্ততা ও সময়াভাবে লেখকদের পক্ষে সময়মতো লেখা পাঠানোর অসুবিধেজনিত প্রেক্ষাপটে এই দায়বদ্ধতার উল্লেখ রয়েছে সম্পাদকীয়তেও।
পত্রিকায় বিষয়ভিত্তিক নিবন্ধ আছে মোট ৮ টি। প্রথম নিবন্ধ - ‘ত্রিপুরার কথাসাহিত্যে উপন্যাস’। লেখক বিমল চক্রবর্তী। শুরু থেকে ২০১৮ অবধি ত্রিপুরার উপন্যাসশিল্পের এক রূপরেখা তুলে ধরেছেন লেখক। ইতিহাসকে ছুঁয়ে তাঁর তথ্যসমৃদ্ধ ভূমিকা এই প্রবন্ধটিকে এক আলাদা মর্যাদা দিয়েছে। দীর্ঘ বাইশ পৃষ্ঠার এই প্রবন্ধে লেখক পরিমলকুমার ঘোষ থেকে শুরু করে অশোক দেব অবধি উপন্যাস এবং ঔপন্যাসিকের যতখানি সম্ভব পরিচিতি তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন যদিও পাঠকের দরবারে তা ‘সংক্ষিপ্ত’ হয়েই থাকবে। কারণ আগেই উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় প্রবন্ধ সঞ্জীব দে’র ‘ত্রিপুরার ছোটগল্পের সংক্ষিপ্ত রূপরেখা’। নিবন্ধে লেখক নিজেই ‘সংক্ষিপ্ত’ শব্দটি সুচিন্তিত ভাবেই উল্লেখ করেছেন। এর বাইরে কোনও উপায়ও ছিল না। এখানেও সূচনাপর্ব থেকে হালের গল্পকারদের এক পরিচিতি তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন লেখক। কিন্তু স্বল্প পরিসরে সবটুকু জুড়তে গিয়ে যথাযথ বিন্যাসের সম্যক অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। অভীক কুমার দে’র রূপকধর্মী একটি সম্পূর্ণ অণুগল্প এই স্বল্প পরিসরে সন্নিবিষ্ট করে লেখক লিখেছেন - ‘এই গল্পটিতে অভীক সমসাময়িক ত্রিপুরার চিত্র খুব সূক্ষ্মভাবে তোলে ধরার চেষ্টা করেছেন।’ পাঠকের মননে এত সূক্ষ্ম বোধ কতখানি প্রকাশিত হয়েছে তা সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়। সেক্ষেত্রে কয়েকটি শব্দে তৎকালীন ত্রিপুরার চিত্রের খানিকটা আভাস দিলে হয়তো তা সহজ হয়ে যেত।
পরবর্তী নিবন্ধ ‘ত্রিপুরার প্রবন্ধ সাহিত্যের ইতিহাস ও তিন প্রধান ব্যক্তিত্ব’। প্রাবন্ধিক সেবিকা ধর ত্রিপুরার প্রবন্ধ সাহিত্যের উপর তথ্যপূর্ণ আলোকপাতের শেষে লিখেছেন তিন প্রবন্ধকার রমাপ্রসাদ দত্ত, বিকচ চৌধুরী ও মঞ্জরী চৌধুরীকে নিয়ে। সমৃদ্ধ একটি ভূমিকা সহ তিনজন প্রবন্ধকারেরই যাবতীয় সাহত্যকর্মের হদিশ দিয়েছেন প্রবন্ধকার। একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ নিবন্ধ নিঃসন্দেহে।
সুপরিচিত কবি চিরশ্রী দেবনাথ লিখেছেন - ‘ত্রিপুরার বাংলা কবিতা...আবহ এবং প্রবহমানতা’। ত্রিপুরার কাব্যসাহিত্য এক বিশাল মহাসাগর। এই সাগরে সংক্ষিপ্ত সন্তরণ সম্ভব নয়। তবু যতটুকু সম্ভব সবকিছু তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন লেখক। এ ধরণের লেখায় সাধারণত লেখক নিজেকে যুক্ত করতে অস্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন এবং ফলে লেখা থেকে যায় অসম্পূর্ণ। কিন্তু চিরশ্রী এমনটা করেননি। নিজের উল্লেখটুকু করে এক সম্পূর্ণ নিবন্ধ লেখার চেষ্টা করেছেন এবং ধারাবাহিকতার সূত্রে বহুলাংশেই তিনি সফল। তবে এসব রচনায় কিছু নাম অজান্তেই অনুল্লেখিত থেকে যায়। এখানেও হয়েছে। নিবন্ধের এক জায়গায় তিনি লিখছেন - ‘...একদিকে উদবাস্তু মানসিকতা, অন্যদিকে রাজনৈতিক ভয়, ত্রিপুরার কবিদের স্পষ্টবাদীতায় ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। তাই কবিতায় এসেছে ভাষার সৌকর্য, ভাব, নান্দনিকতা ইত্যাদি।’ কবির কবিতায় স্পষ্টবাদিতা ও ভাব-ভাষা-নান্দনিকতা কি বিপরীতধর্মী ? ঠিক বোঝা গেল না। তবু বলা যায় চিরশ্রীর এই নিবন্ধ ভবিষ্যতের এক সংগ্রহযোগ্য খতিয়ান।
গল্পকার সুবিমল রায়ের গল্প সংকলন ‘যাত্রী’র উপর এক আলোচনামূলক প্রবন্ধ লিখেছেন সমকালীন ত্রিপুরার অন্যতম দক্ষ আলোচক সৌম্যদীপ দেব। শিরোনাম - ‘সুবিমল রায়ের ‘যাত্রী’ - এক বিশ্লেষণাত্মক অধ্যয়ন’। অশীতিপর এই গল্পকারের গল্প সংকলন নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছেন সৌম্যদীপ। সচরাচর সাহিত্যের আঙিনায় জীবিত কবি-সাহিত্যিকদের সার্বিক সাহিত্যকৃতি নিয়ে আলোচনা দেখা যায় না। এক্ষেত্রে এই বর্ষীয়ান গল্পকারকে বৃহত্তর পাঠক সমাজে পরিচিত করিয়ে দেওয়া এক মহৎ প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করা যায় নিশ্চিতভাবেই। তবে এই সংকলনের সবক’টি গল্পের অতি সংক্ষিপ্ত এক আভাস তুলে ধরতে পারলে আরো ভালো হতো নিঃসন্দেহে।
লেখক শুভেন্দু দাস-এর ‘শ্যামল ভট্টাচার্যের ‘লোদ্রভার কাছাকাছি’ এবং উত্তরকথন’ এক উৎকৃষ্ট পরিবেশনা। ত্রিপুরার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথা সাহিত্যিক শ্যামল ভট্টাচার্য এবং তাঁর এই উপন্যাস সমকালীন বাংলা সাহিত্যের আঙিনায় এক উল্লেখযোগ্য নাম। উপন্যাসের পটভূমিকা থেকে শুরু করে সাহিত্যিক শ্যামল ভট্টাচার্যের যাবতীয় সাহিত্যকর্মকে নান্দনিক ভাবে পাঠকের দরবারে পরিবেশন করে এক অসাধারণ দায়বদ্ধতার নিদর্শন তুলে ধরলেন প্রাবন্ধিক।
শঙ্কু চক্রবর্তীর প্রবন্ধ - ‘মেঘালয়ের বাংলা কথাসাহিত্য - একটি আলোকপাত’। মূলত শিলংকেন্দ্রিক বাংলা লেখালেখির এক ঐতিহাসিক সুলুক সন্ধান। ঊনবিংশ শতকের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে হাল আমলের বাংলা সাহিত্যের যতটুকু সম্ভব উল্লেখিত হয়েছে নিবন্ধে। রয়েছে একটি মূল্যবান ভূমিকা এবং কবি-সাহিত্যিকদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতিও। নিশ্চিত ভাবেই এক সংগ্রহযোগ্য তথ্যনির্ভর প্রবন্ধ।
‘গারো পাহাড়ে বাংলা সাহিত্য চর্চার ইতিহাস’। লেখক নীতিশ বর্মন। মেঘালয়েরই এক ভিন্ন ভৌগোলিক পরিসরে অবস্থিত গারো পাহাড়ে বাংলা লেখালেখির ইতিহাসও বড় কম সমৃদ্ধ নয়। তারই এক বিস্তৃত বাখান তুলে ধরেছেন প্রাবন্ধিক। প্রত্যেক সাহিত্যব্যক্তিত্বকে দেওয়া হয়েছে যথাযোগ্য মর্যাদা। প্রকৃতার্থে এসব প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাহিত্যকর্ম প্রকারান্তরে এক শৈল্পিক সমর বললেও অত্যুক্তি হয় না। এতসব প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করে গরজ ও দায়বদ্ধতার চরম উৎকর্ষতা প্রদর্শন করেছেন এই সব সাহিত্যব্যক্তিত্ব। তাঁদের এই অক্লান্ত সেবাকে যথাযোগ্য মর্যাদায় লিপিবদ্ধ করে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে অত্যন্ত সুচারু বিন্যাসে।
কিছুটা বিষয়বহির্ভূত ভাবেই একটি বিশেষ নিবন্ধ স্থান পেয়েছে এ সংখ্যায়। দীপঙ্কর সেন-এর ‘অমলের ইচ্ছাপত্র’। আবৃত্তিকার, নাট্যব্যক্তিত্ব সাঁওলি মিত্রের জীবনের খুঁটিনাটি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে লিপিবদ্ধ করেছেন প্রবন্ধকার। দলিলসদৃশ এই প্রবন্ধটি এক সংগ্রহযোগ্য সাহিত্যকৃতি যদিও কিন্তু এর স্থলে যদি ত্রিপুরার বাংলা ছোটপত্রিকা বিষয়ক একটি নিবন্ধ সন্নিবিষ্ট করা যেত তাহলে এই পর্বটি যথার্থ ভাবে এক সম্পূর্ণতা অর্জন করত, কারণ সাহিত্য ও লেখালেখির ক্ষেত্রে ছোট পত্রিকার অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিপরীতে মেঘালয়ের সাহিত্য চর্চায় এই ব্যাপারটি যথাযথ গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রবন্ধ বিভাগের এখানেই সমাপ্তি। এর পর যুক্ত হয়েছে ছয়টি গল্প। রয়েছে ব্যতিক্রমী চিন্তাধারার এক সুলিখিত গল্প ‘সেই শূন্য ঘরটা’। গল্পকার মুসা আলি। এরপর কৃতী গল্পকার নীলদীপ চক্রবর্তীর গল্প ‘লোকালয়ের পোকামাকড়’। আধুনিক ধাঁচের শৈলীতে অপ্রচলিত শব্দের ব্যবহার এবং ভাষার সৌকর্য নীলদীপের গল্পের সম্পদ। এখানেও ব্যতিক্রম হয়নি তার। তবে গল্পটিতে বেশ কিছু বানান ভুল রয়ে গেছে। শর্মিলী দেবকানুনগোর গল্প ‘আপন পর’। পারিবারিক সংস্কারবোধের উপর লিখা একটি মানবিক আহ্বানের গল্প। শর্মিলীর গল্পের সরল চলন এখানেও পরিলক্ষিত হয়। এর পরের গল্প ‘সন্দেহের জামা’। গল্পকার ডঃ বাহারুল ইসলাম। বিদেশি গল্পের আবহে একটি জমজমাট গল্প যদিও বড্ড তাড়াহুড়োয় সমাপ্ত হয়েছে মনে হয়। খানিকটা আরোও প্রসারিত হলে যথার্থ সমাপ্তি হতো। এক নতুনত্ব আছে গল্পে।
‘মধুরেণ সমাপয়েৎ’ হিসেবে একেবারে শেষে সন্নিবিষ্ট হয়েছে প্রাবন্ধিক, গবেষক প্রসূন বর্মণের প্রবন্ধ - ‘উত্তর পূর্বের বাংলা উপন্যাস - গোড়ার কথা’। ইতিহাসকে ছেঁকে সংক্ষেপে খেই ধরিয়ে দিয়েছেন বিষয়ের। এক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা।
সুপর্ণা নাথ প্রকাশিত এই সংখ্যাটির দৃষ্টিনন্দন এবং প্রাসঙ্গিক প্রচ্ছদ এঁকেছেন অজিত দাশ (বাংলাদেশ)। ঝকঝকে ছাপাইয়ের কৃতিত্ব কোয়ালিটি গ্রাফিক্স, শিলচর-এর। সম্পাদক এ সংখ্যাটি উৎসর্গ করেছেন তাঁর সদ্যপ্রয়াত মাতৃদেবীকে।
পত্রিকার রন্ধ্রে রন্ধ্রে সম্পাদকের প্রখর নজরদারি স্পষ্ট। দায়বদ্ধতার খামতি নেই কোথাও। শুধু কিছু বেয়াড়া বানান লেখক, প্রকাশক, মুদ্রক, সম্পাদক - সবাইকে বোকা বানিয়ে থেকেই যায় অন্দরে। এসব বিন্দুকে বাদ দিলে প্রবাহের এবারের সংখ্যাও তত্ত্ব ও তথ্যের এক সিন্ধু এবং যথারীতি এক দলিলসম সংগ্রহ।
 
‘প্রবাহ’ সংখ্যা ১, বর্ষ ৩৫
সম্পাদক - আশিসরঞ্জন নাথ
মূল্য - ২০০ টাকা
যোগাযোগ - ৮৮১১০১০৫৪০

Comments

  1. যথাযথ আলোচনা । সাহিত্যিক বিদ্যুৎ চক্রবর্তী অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে এই কাজ করে চলেছেন ।

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

গুয়াহাটিতে বিদ্বৎসমাজের দেশ, ধর্ম ও সমাজ ভাবনা বিষয়ক আলোচনা সভা

সম্প্রতি গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও প্রাবন্ধিক খগেনচন্দ্র দাসের আহ্বানে গুয়াহাটি, লালগণেশ অঞ্চলের শান্তিনগরে অবস্থিত পূর্বাশা বিদ্যানিকেতনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়েছিলেন মহানগরের বিদ্বৎসমাজের একাধিক ব্যক্তি। আলোচনার বিষয় ছিল ‘বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মের অবস্থান ও প্রয়োজনীয়তা’। সভায় সাহিত্য, সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে জড়িত বহু ব্যক্তির বাইরেও উপস্থিত ছিলেন সুশীল সমাজের একাধিক গুণীজন। এদিন এই সান্ধ্যসভায় আহ্বায়কের বাইরে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা হলেন - বিজয় ভূষণ দে, সিদ্ধার্থ কুমার দত্ত, মনতোষ চন্দ্র দাস, নির্মল চন্দ্র দাস, পীযূষ দেব, শংকর পণ্ডিত, অসিত কুমার সরকার, শাশ্বতী চৌধুরী, ঋতা চন্দ, সুচরিতা সান্যাল, রবিশংকর দত্ত, তাপসী চৌধুরী, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, মধুমিতা দত্ত, মীনাক্ষী চক্রবর্তী, রুদ্রাণী দত্ত, বীণা রায়, মুক্তা সরকার, অনুরাধা দাস পাত্র, জয়া নাথ ও স্বর্ণালি চৌধুরী।     মূল প্রসঙ্গের ধারাবাহিক আলোচনায় উঠে এসেছে একাধিক প্রসঙ্গ - আজকের দিনে ঋষি অরবিন্দের ভাবনার প্রয়োজনীয়তা, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের মানবিক দিক, হিন্দু সমাজে গুরুবাদ ও বিভেদ, ডিপস্টেটে...

রজতজয়ন্তী বর্ষে প্রকাশিত স্মরণ সংখ্যা ‘আলোহাওয়া’

একটি লিটল ম্যাগাজিন বা ছোটপত্রিকা হচ্ছে সমাজের সাহিত্যদর্পণ । শুধুই সমকালিক নয়। যুগান্তরের ভাষাসাহিত্য ও তার যুগন্ধর স্রষ্টাদের সঙ্গে সমকালকে পরিচিত করে দেওয়ার এক প্রতিষ্ঠিত মাধ্যম। আর একের পর এক এই লক্ষ্যেই উৎকৃষ্টতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে নিরন্তর কাজ করে চলেছে বরাক উপত্যকার হাইলাকান্দি শহর থেকে প্রকাশিত ‘ সাহিত্য শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ক ’ পত্রিকা ‘ আলোহাওয়া ’ । রজতজয়ন্তী বর্ষে প্রকাশিত হয়েছে এই পত্রিকার ১৯তম সংখ্যা - ২৫তম বর্ষ , পৌষ ১৪৩২ - ডিসেম্বর ২০২৫ সংখ্যা । কবি জিতেন্দ্র নাথ সম্পাদিত এই সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছে সাহিত্যিক ‘ তুষারকান্তি নাথ স্মরণ সংখ্যা ’ হিসেবে । তুষারকান্তি নাথ এমন একজন সাহিত্যিক যাঁকে আখ্যায়িত করা যায় একজন সার্বিক সাহিত্যিক হিসেবে। ধারে ও ভারে তাঁর সৃষ্টি শুধু বরাক উপত্যকাতেই নয় এর বাইরেও সমাদৃত। তাঁর লেখনী রত্নপ্রসবা। পক্ষান্তরে এটাও বলা যায় যে ঘরে বাইরে কিছু স্বীকৃতি , কিছু প্রতিষ্ঠা পেয়ে থাকলেও তাঁর লেখালেখি ও নানাবিধ সৃষ্টিকর্মের গভীরতার মূল্যায়ন যতটা হওয়ার প্রয়োজন ছিল ততটা কিন্তু হয়নি। আসলে প্রান্তিকতা সততই লেখক, কবি, সাহিত্যিকদের পরিচিতির পথে এক বৃহৎ অন্তরা...

প্রখর গরজ ও শ্রদ্ধায় নিবেদিত একটি ‘সুকান্ত সংখ্যা’ - শতদল

হাতে নিলে আর পাঁচটা নিয়মিত সংখ্যা পত্রিকার মতো মনে হলেও উত্তর ত্রিপুরার চুড়াইবাড়ী থেকে কবি, লেখক রতন চন্দ সম্পাদিত সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক ‘শতদল’ পত্রিকার সম্প্রতি প্রকাশিত ২৯তম বর্ষ, ১ম সংখ্যা, বৈশাখ ১৪৩৩, মে-২০২৬ (কবি সুকান্ত জন্মশতবর্ষ সংখ্যা) সত্যিকার অর্থেই ব্যতিক্রমী। সেই মাত্র ৪২ পৃষ্ঠার পেপারব্যাক সংস্করণ হলেও প্রচ্ছদ থেকে শেষ পৃষ্ঠা অবধি যতন, গরজ ও উৎকর্ষের এক সম্ভার বললেও বাড়িয়ে বলা হয় না মোটেও। বাংলা ভাষার কবিদের মধ্যে এক স্বতন্ত্র স্থান ধরে আছেন অকালপ্রয়াত কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য। তাঁর সময়কাল থেকে আজ অবধি এবং আগত-অনাগত চিরকালীন এক বিস্ময়কর প্রতিভার অধিকারী এই কবি মূলত একজন প্রতিবাদী কবি হিসেবেই সাহিত্যবিশ্বে পরিচিত হলেও তাঁর কবিতায় এর বাইরেও যে রয়ে গেছে বহুমাত্রিক এক বোধ, ভাষ্য - বোধ করি তার সঠিক মূল্যায়ন হয়নি আজও। তবে যতই তাঁকে নিয়ে চর্চা হবে ততই এক এক করে খুলবে বিস্ময়ের ঝাঁপি এ কথা অনস্বীকার্য। এবং তারই এক নির্মোহ প্রয়াস ও প্রকাশ আলোচ্য সংখ্যাটি। সুসজ্জিত কবি-প্রতিকৃতিযুক্ত একটি নান্দনিক প্রচ্ছদ - সজ্জায়, বর্ণ সংস্থাপনে প্রথমেই দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বাধ্য পাঠকের। সৌজন্যে মুদ...