Skip to main content

১৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ রচনা বাংলা নাটক ও কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র


‘আজি হতে শতবর্ষ পরে, কে তুমি পড়িছ বসে আমার কবিতাখানি…।’ কবিগুরু লিখেছিলেন এক গভীত প্রত্যয়কে বুকে ধরে। শতবর্ষ বড় কম কথা নয়। প্রখর দূরদৃষ্টিসম্পন্ন কবি শতবর্ষ বলতে এক সুদীর্ঘ কালকেই নির্দেশিত করে গেছেন বলে ধারণা করেও বলা যায় - শুধু শতবর্ষ কেন যতদিন বাংলা ভাষা, সাহিত্য বেঁচে থাকবে ততদিন তাঁর কবিতা পঠিত হবে কবি, লেখক, পাঠক, শিল্পী, সাধারণ মানুষের কণ্ঠে।
একই ধারায় এ কথাও বলা যায় হলফ করে যে, যুগ যতই পালটে যাক, ভাষাবৈচিত্রের, বানানের যতই পরিবর্তন হোক, বাংলা সাহিত্যের একমেবাদ্বিতীয়ম কথাশিল্পী শরৎচন্দের সৃষ্টিকেও সর্বসাধারণ একই আগ্রহ, একই ব্যাকুলতা নিয়ে যুগ যুগ ধরে আদৃত করে রাখবে হৃদয়ের চিরন্তন ভাব, ভালোবাসা, সুখ ও দু:খের আবেগে, আবহে।
প্রাথমিক ভাবে সাহিত্যের মূল ধারায় গল্প, উপন্যাস ও কবিতাই সাধারণত ভাবনায় আসে যদিও প্রবন্ধ সাহিত্য ও নাটকও সমভাবেই প্রণিধানযোগ্য। এ কথা অনস্বীকার্য। কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর একগুচ্ছ উপন্যাস, ছোটগল্প, বড়গল্প ও প্রবন্ধের জন্য বহুচর্চিত ও বহুনন্দিত। বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে তৎকালীন সমাজের সার্বিক রূপ তিনি অত্যন্ত কুশলী রূপে ফুটিয়ে তুলেছেন। সত্যিকারের পাঠক ও সাহিত্য চর্চাকারীদের কাছে তাঁর গল্প-উপন্যাসের পাঠ ছিল এবং আজও আছে এক অতীব আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু যদিও অনেকেরই মনে একটি প্রশ্নের উদ্রেক হওয়া অস্বাভাবিক নয় হয়তো। সাহিত্যে নাটক একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও পথপ্রদর্শক রচনা। নাটক রচনা ও তার প্রদর্শনে পাঠক-দর্শকদের একেবারেই কাছে পৌঁছে যাওয়া যায়। অথচ একজন যুগন্ধর সাহিত্যিকের রচনায় নাটকের উল্লেখ কিংবা চর্চার কথা কেন শোনা যায় না। একটি কথা হলফ করে বলা যায় যে শরৎচন্দ্রের পাঠকের মননে শুধু তাঁর গল্প-উপন্যাসের ছবিই গাঁথা আছে চিরকালীন উৎকর্ষে।
এই বিষয়টি নিয়ে লিখতে গেলে তাই বলতেই হয় যে সংখ্যায় খুব কম হলেও নাটক লিখেছেন শরৎচন্দ্রও। এবং সেগুলিও আসলে তাঁরই কালজয়ী তিনটি উপন্যাসেরই নাট্যরূপ। বাংলা সাহিত্যের অমর কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রধানত তাঁর মানবিক ধারার উপন্যাসের জন্য বিখ্যাত হলেও তিনি তাঁর নিজের তিনটি জনপ্রিয় উপন্যাসকে সফলভাবে নাটকে রূপান্তরিত করেছিলেন। এই নাটক তিনটি হল 'ষোড়শী' (দেনাপাওনা উপন্যাসের নাট্যরূপ), 'রমা' (পল্লীসমাজ উপন্যাসের নাট্যরূপ) এবং 'বিজয়া' (দত্তা উপন্যাসের নাট্যরূপ)। 
ষোড়শী (১৯২৭) নাটকটি তাঁর 'দেনাপাওনা' উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। এটি তাঁর অন্যতম শক্তিশালী এবং মঞ্চসফল নাটক। প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব শিশির কুমার ভাদুড়ীর পরিচালনায় ও অভিনয়ে এটি তৎকালীন সময়ে দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। মূল চরিত্র: অলকা (ষোড়শী) এবং জীবানন্দ চৌধুরী। বিষয়বস্তু ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের দিক থেকে দেখলে নাটকটির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে চণ্ডীগড়ের ভৈরবী বা সেবাইত 'ষোড়শী' (অলকা), যে সমাজে নারীর স্বাধীন অস্তিত্ব ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। জমিদার জীবানন্দ চৌধুরীর অত্যাচার, লাম্পট্য ও ক্ষমতার দম্ভের বিরুদ্ধে ষোড়শীর শান্ত অথচ দৃঢ় প্রতিরোধ নাটকটির মূল চালিকাশক্তি। শরৎচন্দ্র এই নাটকে দেখিয়েছেন কীভাবে গ্রামীণ কুসংস্কার, ধর্মের নামে ভণ্ডামি এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজ এক নির্ভীক নারীকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করে। তবে শেষ পর্যন্ত জীবানন্দের ভেতরের অনুশোচনা এবং ষোড়শীর মানবিক ক্ষমাসুন্দর রূপ নাটকটিকে এক মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা প্রদান করেছে।
‘ষোড়শী’ নাটক বিষয়ে এক সময় নাট্যরূপের কৃতিত্ব ও স্বত্বাধিকার নিয়ে খ্যাতনামা লেখক শিবরাম চক্রবর্তীর সঙ্গে কিছু বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল যদিও তার স্পষ্ট কোন ব্যাখ্যা আজও অজ্ঞাত। এ নিয়ে নানারকম মতানৈক্যের কথাও অবিদিত নয়।   
তাঁর দ্বিতীয় নাটক ‘রমা’ প্রকাশিত হয়েছিল ১৯২৮ সালে। তাঁর বিখ্যাত সামাজিক উপন্যাস 'পল্লীসমাজ' অবলম্বনে শরৎচন্দ্র 'রমা' নাটকটি রচনা করেন। এটি বাংলার তৎকালীন গ্রামীণ সমাজব্যবস্থার এক নিখুঁত ও বাস্তব দলিল। মূল চরিত্র: রমা এবং রমেশ। নাটকের পটভূমি বাংলার সংকীর্ণ পল্লীসমাজ, যেখানে দলাদলি, হিংসা ও কুসংস্কার নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। উচ্চশিক্ষিত ও প্রগতিশীল যুবক রমেশ গ্রামের উন্নয়নে এগিয়ে এলে তার পথ আগলে দাঁড়ায় রক্ষণশীল সমাজ এবং বেণী ঘোষালের মতো স্বার্থান্বেষী মানুষ। রমা মনে মনে রমেশকে ভালোবাসলেও সামাজিক অনুশাসন ও বৈধব্যের কঠিন শৃঙ্খলে বন্দি থাকায় সে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে না। ‘রমা' নাটকে শরৎচন্দ্র সমাজ সংস্কারের চেয়েও রমা ও রমেশের অবদমিত, না-বলা প্রেমের ট্র্যাজেডিকে বেশি ফুটিয়ে তুলেছেন। গ্রামীণ রাজনীতির কুৎসিত রূপ এবং সমাজের ভয়ে একজন নারীর নিজের ভালোবাসা ও আকাঙ্ক্ষাকে বিসর্জন দেওয়ার এক করুণ চিত্র এই নাটকে ফুটে উঠেছে।
তৃতীয় নাটক ‘বিজয়া’ প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৩৪ সালে। নিজের জনপ্রিয় রোমান্টিক-সামাজিক উপন্যাস 'দত্তা' অবলম্বনে শরৎচন্দ্র 'বিজয়া' নাটকটি রচনা করেন। আগের দুটি নাটকের চেয়ে এটি তুলনামূলকভাবে হালকা মেজাজের এবং এর সমাপ্তি মিলনাত্মক। মূল চরিত্র:  বিজয়া, নরেন, বিলাসবিহারী এবং রাসবিহারী।
নাটকের পটভূমি বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকের ব্রাহ্ম ও হিন্দু সমাজের দ্বন্দ্ব এবং পারিবারিক ঋণের জটিলতা। রাসবিহারী ও তার ছেলে বিলাসবিহারী চক্রান্ত করে ধনী ও পিতৃমাতৃহীন তরুণী বিজয়ার সম্পত্তি গ্রাস করতে চায় এবং বিজয়াকে বিলাসের সাথে বিয়েতে বসতে বাধ্য করার চেষ্টা করে। অন্যদিকে, সৎ ও নিরহংকার ডাক্তার নরেনের প্রতি বিজয়া ক্রমশ আকৃষ্ট হতে থাকে।
এই নাটকে শরৎচন্দ্র একদিকে রাসবিহারীর কপটতা ও লোভ, অন্যদিকে নরেনের সরলতা ও বিজয়ার অন্তর্দ্বন্দ্ব চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। খলনায়ক চরিত্রের চক্রান্তের বিরুদ্ধে এক তরুণীর নিজের অধিকার ও ভালোবাসাকে রক্ষা করার লড়াই এবং মনস্তাত্ত্বিক বিবর্তনই এই নাটকের মূল উপজীব্য।
এরপর আর কোন নাটক তিনি লেখেননি। অথচ লেখা যেত অনেক। এ নিয়ে বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার পশুপতি চট্টোপাধ্যায়ের এক প্রশ্নের উত্তরে শরৎচন্দ্র এ বিষয়ে তাঁর অনীহার কথা প্রকাশ করেছিলেন। প্রকাশ করেছিলেন তৎকালীন সমাজে নাটক অভিনয়ের নানা সমস্যার কথা। এবং নির্মোহভাবে প্রকাশ করেছিলেন নাট্যকার হিসেবে নিজের বিবেচনায় তাঁর অপারগতার কথা। পক্ষান্তরে এই উত্তরের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছিল নাটক সম্পর্কিত তাঁর গভীর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার কথাও। ‘বাংলা নাটক’ শিরোনামে পুস্তকাকারে অপ্রকাশিত হলেও ‘নাচঘর’ পত্রিকার ২৫ আশ্বিন, ১৩৪১ বঙ্গাব্দ সংখ্যায় প্রকাশিত একটি রচনায় তিনি জানিয়েছিলেন -
‘তোমার প্রশ্ন - আমি নাটক লিখি না কেন? বোধ করি তোমার এ জিজ্ঞাসা মনে এসেছে দুটো কারণে। প্রথম, নাট্যকার এবং অন্যান্য গ্রন্থকারের রচিত উপন্যাসের নাট্যরূপদাতা শ্রীযুক্ত যোগেশ চৌধুরী সম্প্রতি ‘বাতায়ন’-এ বাংলা নাটক সম্বন্ধে যে মন্তব্য প্রকাশ করেছেন, তাকে তুমি সম্পূর্ণ স্বীকার করে নিতে পারোনি এবং দ্বিতীয় হচ্ছে, তোমরা নিরন্তর যে-সমস্ত নাটকের অভিনয় দেখে থাকো, তাদের ভাব, ভাষা, চরিত্রগঠন ইত্যাদি বিচার করে দেখবার পর তোমাদের মনে এই কথা জেগেছে যে, শরৎচন্দ্র নাটক লিখলে হয়তো রঙ্গমঞ্চের চেহারায় একটু পরিবর্তন হতে পারে।
তোমার প্রশ্নের উত্তরে আমার প্রথম কথা এই যে, আমি নাটক লিখি না, তার কারণ হচ্ছে আমার অক্ষমতা। দ্বিতীয়, এই অক্ষমতাকে অস্বীকার করে যদিও বা নাটক লিখি, তাহলেও আমার মজুরি পোষাবে না। মনে করো না কথাটা টাকার দিক থেকেই শুধু বলছি। সংসারে ওটার প্রয়োজন, কিন্তু একমাত্র প্রয়োজন নয়, এ সত্য একদিনও ভুলিনে। উপন্যাস লিখলে মাসিক পত্রের সম্পাদক সাগ্রহে, তা নিয়ে যাবেন। উপন্যাস ছাপাবার জন্যে পাব্লিশারের অভাব হবে না, অন্তত: হয়নি এত দিন এবং সেই উপন্যাস পড়বার লোকও পেয়ে এসেছি। গল্প লেখার ধারাটা আমি জানি। অন্তত: শিখিয়ে দিন বলে কারও দ্বারস্থ হবার দুর্গতি আমার আজও ঘটেনি। কিন্তু নাটক? রঙ্গমঞ্চের কর্তৃপক্ষই হচ্ছেন এর চরম হাইকোর্ট। মাথা নেড়ে যদি বলেন এ জায়গায় আকশন (action) কম, দর্শক নেবে না, কিংবা এ বই অচল, ত তাকে সচল করার কোন উপায় নেই। তাঁদের রায়ই এ সম্বন্ধে শেষ কথা। কারণ তাঁরা বিশেষজ্ঞ। টাকা-দেনেওয়ালা দর্শকের নাড়ি-নক্ষত্র তাঁদের জানা। সুতরাং এ বিপদের মধ্যে খামোকা ঢুকে পড়তে মন আমার দ্বিধা বোধ করে।
নাটক হয়তো আমি লিখতে পারি। কারণ, নাটকের যা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বস্তু - যা ভাল না হ’লে নাটকের প্রতিপাদ্য কিছুতেই দর্শকের অন্তরে গিয়ে পৌঁছয় না - সেই ডায়ালোগ শেখার অভ্যাস আমার আছে। কথাকে কেমন ভাবে বলতে হয়, কত সোজা করে বললে তা মনের উপর গভীর হয়ে বসে, সে কৌশল জানিনে তা নয়। এছাড়া চরিত্র বা ঘটনা সৃষ্টির কথা যদি বল, তাও পারি বলেই বিশ্বাস করি। নাটকের ঘটনা বা সিচুয়েশন সৃষ্টি করতে হয় চরিত্র-সৃষ্টির জন্যেই। চরিত্র-সৃষ্টি দু-রকমের হতে পারে - এক হচ্ছে, প্রকাশ অর্থাৎ পাত্রপাত্রী যা, তাই ঘটনা-পরম্পরার সাহায্যে দর্শকের চোখের সমুখে প্রকাশিত করা। আর দ্বিতীয় হচ্ছে - চরিত্রের বিকাশ অর্থাৎ ঘটনা-পরম্পরার মধ্যে দিয়ে তার জীবনের পরিবর্তন দেখানো। সে ভালর দিকেও হ’তে পারে, মন্দের দিকেও যেতে পারে। ধরো, একজন হয়ত বিশ বছর আগে উইল্সনের হোটেলে খেত, মিথ্যা কথা বলত এবং আরও অন্যান্য অকাজ করত। আজ সে ধার্মিক বৈষ্ণব - বঙ্কিমচন্দ্রের কথায় - পাতে মাছের ঝোল পড়লে হাত দিয়ে মুছে ফেলে দেয়। তবু এ হয়ত তার ভণ্ডামি নয়, সত্যিকারের আন্তরিক পরিবর্তন। হয়ত অনেকগুলো ঘটনার আবর্তে পড়ে, পাঁচটা ভাল লোকের সংস্পর্শে এসে তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আজ সে সত্যি করে বদলে গেছে। সুতরাং বিশ বছর আগে সে যা ছিল তাও সত্যি এবং আজ সে যা হয়েছে, তাও সত্যি। কিন্তু যা-তা হলে ত হবে না, - বইয়ের মধ্যে দিয়ে লেখার মধ্যে দিয়ে পাঠক বা দর্শকের কাছে তাকে সত্যি করে তুলতে হবে। এমন যেন না তাদের মনে হয়, লেখার মধ্যে এ পরিবর্তনের হেতু খুঁজে মেলে না। কাজটা সত্য। আরেকটা কথা - উপন্যাসের মতো নাটকের elasticity নেই। নাটককে একটা নির্দিষ্ট সময়ের বেশী এগুতে দেওয়া চলে না। ঘটনার পর ঘটনা সাজিয়ে নাটককে দৃশ্যে বা অঙ্কে ভাগ করা - তাও হয়ত চেষ্টা করলে দু:সাধ্য হবে না। কিন্তু ভাবি করে কি হবে? নাটক যে লিখব - তা অভিনয় করবে কে? শিক্ষিত বোঝদার অভিনেতা অভিনেত্রী কৈ? নাটকের হিরোইন সাজবে, এমন একটিও অভিনেত্রী ত নজরে পড়ে না। এমনি ধারা নানা কারণে সাহিত্যের এই দিকটায় পা বাড়াতে ইচ্ছে করে না। আশা করি একদিন বর্তমান রঙ্গালয়ের এই অভাবটা ঘুচবে, কিন্তু আমরা হয়ত তা চোখে দেখে যেতে পারবো না। অবশ্য সত্যিকারের তাগিদ যদি আসে, কখনও হয়ত লিখতেও পারি। কিন্তু আশা বড় করিনে।’
শরৎচন্দ্রের স্বল্পসংখ্যক নাটকগুলোর মূল বৈশিষ্ট্য হল সংলাপের সহজ সরল প্রকাশ ও জোরালো সামাজিক বার্তা। তিনি নাটকের মাধ্যমে সমাজের কুসংস্কারের মূলে আঘাত করেছেন এবং নারীর মনস্তত্ত্ব ও তাদের অধিকারের বিষয়টিকে মঞ্চে অত্যন্ত জোরালোভাবে উপস্থাপন করেছেন। সেই নিরিখে অগণিত পাঠকের প্রত্যাশাকে উপলক্ষ করে উপর্যুক্ত বার্তায় খুবই স্পষ্টভাবে তাঁর ক্ষমতা-অক্ষমতার নির্মোহ বয়ানে নাটক সম্পর্কে তাঁর অভিমত ব্যক্ত করেছেন। নাটক কম লেখার কারণ বর্ণনা করেছেন। তারই ফলশ্রুতিতে গল্প, উপন্যাসের তুলনায় তাঁর নাটকের সংখ্যা একেবারেই সীমিত। তাই তিনি গল্পকার ও ঔপন্যাসিক হিসেবেই বাংলা সাহিত্যে আপন ঔজ্জ্বল্যে চিরভাস্বর হয়ে আছেন আজ তাঁর জন্মের দেড়শো বছর পরেও। জন্মদিনে তাই তাঁকে স্মরণ করি কৃতজ্ঞতার শ্রদ্ধাঞ্জলি সাজিয়ে।
বিদ্যুৎ চক্রবর্তী
তথ্যঋণ -
(১) শরৎ রচনা সমগ্র, রিফ্লেক্ট পাবলিকেশন, কলিকাতা - ১৯৮৯
(২) উইকি সংকলন

Comments

  1. বাহ্,, অনেক কিছু জানতে পারলাম।

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

গুয়াহাটিতে বিদ্বৎসমাজের দেশ, ধর্ম ও সমাজ ভাবনা বিষয়ক আলোচনা সভা

সম্প্রতি গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও প্রাবন্ধিক খগেনচন্দ্র দাসের আহ্বানে গুয়াহাটি, লালগণেশ অঞ্চলের শান্তিনগরে অবস্থিত পূর্বাশা বিদ্যানিকেতনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়েছিলেন মহানগরের বিদ্বৎসমাজের একাধিক ব্যক্তি। আলোচনার বিষয় ছিল ‘বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মের অবস্থান ও প্রয়োজনীয়তা’। সভায় সাহিত্য, সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে জড়িত বহু ব্যক্তির বাইরেও উপস্থিত ছিলেন সুশীল সমাজের একাধিক গুণীজন। এদিন এই সান্ধ্যসভায় আহ্বায়কের বাইরে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা হলেন - বিজয় ভূষণ দে, সিদ্ধার্থ কুমার দত্ত, মনতোষ চন্দ্র দাস, নির্মল চন্দ্র দাস, পীযূষ দেব, শংকর পণ্ডিত, অসিত কুমার সরকার, শাশ্বতী চৌধুরী, ঋতা চন্দ, সুচরিতা সান্যাল, রবিশংকর দত্ত, তাপসী চৌধুরী, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, মধুমিতা দত্ত, মীনাক্ষী চক্রবর্তী, রুদ্রাণী দত্ত, বীণা রায়, মুক্তা সরকার, অনুরাধা দাস পাত্র, জয়া নাথ ও স্বর্ণালি চৌধুরী।     মূল প্রসঙ্গের ধারাবাহিক আলোচনায় উঠে এসেছে একাধিক প্রসঙ্গ - আজকের দিনে ঋষি অরবিন্দের ভাবনার প্রয়োজনীয়তা, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের মানবিক দিক, হিন্দু সমাজে গুরুবাদ ও বিভেদ, ডিপস্টেটে...

প্রতিবাদী শরৎ

এ কেমন শরৎ এল এবার ? বর্ষা শেষের পক্ষকাল আগে থেকে চারপাশ জুড়ে যে অস্থিরতার সূত্রপাত তা এসে নতুন করে প্রকাশিত হল শরতের সূচনায় । বাংলাদেশের পর পশ্চিমবঙ্গে । এমন শরৎ আগে দেখিনি কখনও । আমরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষদের জন্য শরতের এক অন্যরকম মাহাত্ম্য । পেঁজা তুলোর মেঘের ফাঁকে ফাঁকে একদিকে যেমন রংবেরং - এর ঘুড়ি ওড়ে আকাশে অন্যদিকে তেমনই শিশিরসিক্ত সকালের ঘাসবনে লুটিয়ে পড়ে রাতের বৃন্তচ্যুত শিউলি মা দুর্গার চরণপথে । দিকে দিকে এক গন্ধমাতন আলোড়ন । নদীচরে , পাহাড়ের ঢালে গুচ্ছ কাশের দোলায় দোলে ওঠে অঙ্গ । কাশের বনে খেলে বেড়ায় নব্যদুর্গারা।   আলোড়ন মনাকাশ জুড়েও । মাতন মনন জুড়েও । দোলন আবালবৃদ্ধের অঙ্গে অঙ্গে । আকাশে বাতাসে কান পাতলে , চোখ রাখলেই মাতৃমুখ - মননসুখ । মা আসছেন । দুর্গতিনাশিনী মা । বরাভয় হাতে তিনি ঘুচিয়ে দেবেন যত দুঃখশোক । অসুরশূন্য হবে এ পৃথিবী । প্রতিবারই এভাবে শরৎ আসে পৃথিবীর বুকে , প্রতিবারই আমরা এমনই ভাবনায় ডুবে থেকে এমনই কল্পনায় করি দিনাতিপাত । অথচ চোখের সামন...

নিবেদিত সাহিত্যচর্চার গর্বিত পুনরাবলোকন - ‘নির্বাচিত ঋতুপর্ণ’

সাধারণ অর্থে বা বলা যায় প্রচলিত অর্থে একটি সম্পাদনা গ্রন্থের মানে হচ্ছে মূলত অপ্রকাশিত লেখা একত্রিত করে তার ভুল শুদ্ধ বিচার করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সম্পাদনার পর গ্রন্থিত করা । যেমনটি করা হয় পত্রপত্রিকার ক্ষেত্রে । অপরদিকে সংকলন গ্রন্থের অর্থ হচ্ছে শুধুই ইতিপূর্বে প্রকাশিত লেখাসমূহ এক বা একাধিক পরিসর থেকে এনে হুবহু ( শুধুমাত্র বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে ন্যূনতম সংশোধনসাপেক্ষে ) একত্রীকরণ । সেই হিসেবে আলোচ্য গ্রন্থটি হয়তো সম্পাদনা গ্রন্থ নয় , একটি সংকলন গ্রন্থ । বিস্তারিত জানতে হলে যেতে হবে সম্পাদক ( সংকলক ) সত্যজিৎ নাথের বিস্তৃত ভূমিকায় । পুরো ভূমিকাটিই যদি লেখা যেতো তাহলে যথাযথ হতো যদিও পরিসর সে সায় দেয় না বলেই অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো এখানে - ‘ সালটা ১৯৯০ । ‘ দৈনিক সোনার কাছাড় ’- এ একবছর হল আসা - যাওয়া করছি । চাকরির বয়স হয়নি তাই চাকরি নয় , এই ‘ আসা - যাওয়া ’ । …. হঠাৎ করেই একদিন ভূত চাপল মাথায় - পত্রিকা বের করব । ‘… সেই শুরু । অক্টোবর ১৯৯০ সালে শারদ সংখ্যা দিয়ে পথচলা শুরু হল ‘ঋতুপর্ণ’র। পরপর দুমাস বের করার পর সেটা হয়ে গেল ত্রৈমাসিক। পুরো পাঁচশো কপি ছাপাতাম ‘মৈত্রী প্রকাশনী’ থেকে।...