Skip to main content

Posts

অষ্ট প্রহর সংকীর্তন

১ প্রথম প্রহর   রূপ বদলায় কথা বেঁচে আছি আরো একটি দিন আড়মোড়া ভেঙে গাত্রদাহে দেখি তাকিয়ে আপাদমস্তক সব কথা নিজের আওতায় থাকে না অধিকার বাঁধা কারো হাতে তাঁর ইচ্ছেয় বেঁচে থাকা রাতভর বয়সের গ্রাফ কোনমুখী সে বোধ ব্যক্তিগত।   ২ দ্বিতীয় প্রহর   পেয়ালা সঞ্জাত ধোঁয়ায় প্রথম চুমুক চনমনে মন চলে বেহিসেবি পথে গত ও আগামীর চর্বিতচর্বণে মগ্ন কবি, দিন লিখি দিন খাই তবু নির্বিকারে আকাশে ছড়াই ছাই টুকে রাখি নির্ঘণ্ট সারণি নোটপ্যাডে ধরে রাখি নির্বিকল্প কল্পকথার গ্রন্থিত, অলিখিত স্বাচ্ছন্দ্য।   ৩ তৃতীয় প্রহর   খোলস ছেড়ে জেগে উঠি তাড়নায় অন্নচিন্তা চমৎকারা ক্ষণ ক্ষণে বাড়াই পা অযাচিত সংস্থান পথে কে যেন ঘোর বাস্তবের পরাকাষ্ঠা নিয়ে চালায় পা সমান্তরালে আমি ছুটে চলি দূরে দূরান্তে বাঁধা রাখি শ্রম বাঁধা রাখি মন তাহাদের তরে শরণাগত দীনার্তে।   ৪ চতুর্থ প্রহর   তপ্ত দুপুরের অগোছালো বিড়ম্বনা যেন যুবতিবেলার ঋতুপর্ব সৃষ্টিকথা নিয়ে রাখেনি ইচ্ছের দাসখত এ ক্ষণ উড়ন্ত চাকির মতো শুধু ইতস্তত ভেসে বেড়ানোর অনিঃশেষ প্রহর। কোথা আছে একদণ্ড বসে জিরোবার ? স্বস্তিবিহীন আনচান সৃষ্টিকল্পে আকাশমাটির ঘূর্ণিকল্পে...

প্রহর শেষে

যে মেয়েটি পথ হাঁটে রোজ আমি তার চলার পথে বিছিয়ে রাখি সুরভিত গুচ্ছ কুসুমদল । পথের শেষে যে কণ্টক ওত পেতে আছে বসে সে কাঁটা ওপড়ে ফেলে এগোয় মেয়ে, কুসুমগন্ধা নবমী রাতের চাঁদ হয়ে জ্যোৎস্না ছড়ায় চরাচরে। চোখে তার আগুনপাখির ছটা হাতে তার পরশুরামের কুঠার যেন বীর লাচিতের উদ্যত তরবারি।   পথ পেরিয়ে মেয়ে চৌকাঠে রাখে পা উৎকণ্ঠার প্রহর শেষে রোজ আমার শীতল অঙ্গে ঝরঝর বয়ে যায় আঁধার বিদীর্ণ স্বস্তির সুধাবারি। 

বিচ্ছিন্ন কবিতা

কতটা ক্ষীণতনু হলে তার বিভঙ্গে তুফান ওঠে হৃদমাঝারে ? কতটা সরলরৈখিক হলে তার লাস্যে ঝরে পড়ে সব সঞ্চিত বলবীর্য ?   অনাদিকাল ধরে হেঁটে হেঁটে পদব্রজলাঞ্ছিত ধুলোবালির মতো , জটাজুটধারী সন্ন্যাসীর মতো ক্লান্ত যে পথিক , অনুষঙ্গে তার কে ছড়াবে বিভঙ্গ ? কোন অক্লেশে সঞ্চিত হবে ভালোলাগা কথার সুরম্য পাটিগণিত ? কোন রেখাচিত্রে অঙ্কিত হবে সুললিত ছন্দগাথা ?   কেউ জানে না , শুধু জানে বহতা নদীর বহমান স্রোতধারা , আর বুনোফুল থেকে বয়ে আসা ,   গোলাপের গায়ে লেগে থাকা - অজস্র কাটাকুটির মতো বিচ্ছিন্ন , নিরবচ্ছিন্ন সব কবিতা ।

এ কোন শরৎ

এই বৃষ্টিদিনে চরাচরে কীসের আয়োজন আধেক শরৎ বৃষ্টিভাসি কোন সে প্রহসন ? দুর্গারা সব ভিজছে দেদার চোখের জলে বানভাসি সব দুর্গা মায়ের ছত্রছায়ার তলে।   মর্ত্যে যে মা মূর্তি শুধুই অবাক নীরব নিথর যতই কাঁদুক মানুষ , ভাসুক বিশ্ব চরাচর মাটির দুর্গা দিন তিনেকের অতিথি বই কী ? এবার তবে দুর্গা মায়ের পরীক্ষা বইকী।   জাগছে এবার বসুন্ধরা জাগছে পুরুষ নারী দেখবে এবার অসুর খেলা ‘ আমরা সব পারি ’ জাগছে নারী জাগছে পুরুষ সবাই সবখানে অসুর হবে জব্দ এবার প্রত্যয়ে স্লোগানে।   শুধুই স্লোগান কিংবা মিছিল নয় আর এবার ‘ করো কিংবা মরো ’ র পণে হবেই কাবার কেউ বা কারা যতই ভাঙুক মাটির প্রতিমা ঘরে ঘরে জাগছে এবার ঘরের প্রতি মা।   উৎসব হল যার তার , পুজো হল সবার মূর্তি মানেই লক্ষ্যমাত্রা যতই হোক অসার ত্রিনয়নীর নয়নছটায় হবেই লক্ষ্য পূরণ অভয়ার বিচারে পূজি - দুর্গা মায়ের চরণ।

মানসী মেয়ে

কাছে এলে অন্য আরো এক হাত তবেই বাজে সশব্দ করতালি , তা সে বেসুরো কিংবা পলকা যতই হোক   তবেই তো হয় করমর্দন , হোক না শীতল , তাতে অস্বস্তি যতই হোক ।   দ্বিরালাপ - সে তো কদাপি নয় একমুখী আসে যদি কথা ভেসে এপার থেকে ওপারে , কিংবা ওপার থেকে এপারে তবেই কথা হয় অন্যথা , হৃদয় কি কথা কয় ?   এক তরফের একটি মুচকি হাসি সমাহিত হৃদয় খুঁড়ে যদি না বিঁধে অন্তরে যদি না ফিরে যায় কবিতা কথায় হৃদয় দাপিয়ে উঠে কি ঝঞ্ঝা বায় ?   কেউ আছে বলেই কেউ বেঁচে থাকে কিছু দিন হোক সে যতই নীরব নিথর অনুভব জুড়ে বৃক্ষের মতো বেঁচে থাকে সব কথা , যাপনের সুখবেলা বুকে ধরে যত পরশমণি জ্বালা , খেলা ।   পরশপাথরের থেকে জেগে ওঠা সব ফুলকি রাতজাগা বহতা নদীর বুকে দুলকি ছন্দে জ্বলে ওঠে নিরবধি দূর থেকে যায় দেখা ফিসিফিস কথামালা এ নিয়েই হোক আগুয়ান পথ চলা ।

এ লাঞ্ছিত শরতে

একদিন... কত ফিসফিস কথা শুনেছি স্পষ্ট আওয়াজে হয়তো শুনিনি সপাট সহজ কথা সরল আবাহনে ফিরিয়েছি মুখ অজানিতে।   অথচ একদিন... ধরা দিয়েছিল কেউ পাহাড়ি পথের বাঁকে আত্মসমর্পণে... বলেছিল - চলো যাই নিরুদ্দেশের পথে, তার চুলে বিলি কেটে কাঁধে রেখে হাত আমি পৃথিবীর বুকে রেখে এসেছি অমলিন কিছু নন্দিত কথা জলছাপ।   সেদিন... দোলেনি বনানী, হয়নি ঝরনা লাঞ্ছিত পথপাশে থাকা বৃক্ষেরা ছিল সাক্ষী । শরৎ সকালে বয়েছিল শুধু অনাবিল কিছু পল কথা কিছু ছলছল, হৃদয়ের কোলাহল।   আজ... এ লাঞ্ছিত শরতে শুনি কথা যত অনাসৃষ্টি অশ্রুকথার বৃষ্টি অসুরের হাতে দুর্গারা আজ মৃত লাঞ্ছিত ধ্বস্ত অথচ মানুষ উৎসবে মহাব্যস্ত ।   আমি... পথের পাঁচালি বুকে ধরে আজীবন পথে নামি প্রতিবাদে, অসুর ধ্বংসে মেতেছে যে দুর্গারা, তাদের পাশে - আক্রোশে... ।

এবার শারদ সরণি ধরে

তুমি কি শুনতে পাছ বাতিঘর কালের ভয়াল আর্তস্বর   ? রাতের আঁধারে মোমবাতি মিছিলের পর কোন মুখে , কোন সুখে আমি প্রাক্ ‌ পূজা উৎসবে , বিপণির সরণী ধরে পথ হাঁটি আরোও এক বিপন্ন উৎসাহে ?   ওপারে কেউ কি জুড়েছে শির ছিন্নমূর্তি শরীরে ? এপারে কেউ কি জুড়েছে সেই বীভৎস রাতের ছিন্নভিন্ন গোপনাঙ্গ কিংবা রক্তছাপ দেয়াল ?   সব অপরাধ , সব ব্যথা আজও অমীমাংসিত আমি কোন মুখে উৎসবে যাই ? ধরবে কি হাত তুমি বাতিঘর ? এই শারদ বেলায় চলো ফের পথে বার বার বল তবে সবে , মশাল উঁচিয়ে ধরে - চাই বিচার নিপাত যাক যত অন্যায় অনাচার ।

খুঁজেই ফিরি তারে

বাঁশি মুখে আধোচেনা যে ছেলেটি কাঁপাতো ভুবন লহরে লহরে শরীরী বিভঙ্গে নেচে যেত বোস্টমি দল একদিন বাসিমুখে সে বলেছিল গোপন কথাটি , সেই কথা আজ নিজেই করেছে আত্মগোপন সেই থেকে হয়রান খুঁজে খুঁজে ফিরে ফিরে ,   কথা , বাঁশি ও ছেলেটিকে ধরে রাখি বুকের পাঁজরে ।   বয়ানবাজির ছলে যে সখাটি তুলেছিল বুকে ঝড় স্তব্ধ হয়েছে আজ পৃথিবীর তাবৎ কলম হরতালে লুটোপুটি চিঠিদের জগৎ সংসা্ ‌ র , হারিয়েছে তার নাম , ধাম তার অখিল ভুবন আখরকথায় বোনা জীবনের অগোছালো লিপি ধরে রাখি ছবি তার হৃদয়চাতালে   চুপিচুপি ।   ভালোবেসে যে মেয়েটি তুলেছিল আঁখির পলক সেই থেকে বেদুইন এপারের আঁখিপল্লব সেই থেকে চোখে চোখে বয়ে গেছে কত নদীজল , কোথা কোন দূর দেশে সেই চোখে আছে কার ছবি আমার দুচোখ জুড়ে নয়নভুলানো আছে রাশি রাশি তবু রাখি ধরে মনগহনে সেই দুনয়ন তিমিরবিনাশী ।

জলছাপ আগুনকথা

( ১ ) কত দিন কিংবা বছর কিংবা শতাব্দী বেঁচে থাকে কেউ কারো আস্তানায় ?   আসলে কেউই বেঁচে থাকে না থাকে যা সর্বনামে তা হলো কিছু কাঠামো আর বাকিটা ক্রিয়াপদে ।   ( ২ ) নদী হারিয়ে গেলেও থেকে যায় দীর্ঘ পাড় দুদণ্ড বসে কেউ লিখে রাখে নদীনামা ।   আকাশের গায়ে লেখা থাকে নক্ষত্রের পতন আর লুপ্ত জীবনের জলকথা ।   ( ৩ ) হাওয়ার অনুকুলে থেকে ধুলো খুঁজে নেয় নতুন জীবন লেখা হয় সফরনামা   আমি প্রতিকূল বলে গায়ে মেখে অতীতের আস্তরণ কুড়িয়েছি সফরের স্বাদ বৈভবে আবৃত মহাকাল ।   ( ৪ ) কোন পথে হিংস্র শ্বাপদ সে তো নির্ধারিত নয় রণপা - তাড়িত দুটি পায়ে তাই রাতভর শুধু পথ চলা   স্থান - পাত্র - ভূগোল বেয়ে বেয়ে মানচিত্রে রেখে দুটি পা গ্রহণে দৃপ্ত আলোকের দায় ।   ( ৫ ) অবশেষে বীজ বুনে মানচিত্রে গড়ে ওঠে নতুন স্বদেশ রাশি রাশি আলোকের রেশ ।   তণ্ডুলকণা আসে ঘরে কিংবা বিদ্যাবতীর দোরে দোরে বেড়ে ওঠে দূর আগামী সোনালি আলোয় ঘেরা প্রত্যয়বীজ ।   ( ৬ ) দুরন্ত হাওয়ার দেহে শিরদাঁড়া খুঁজে ফেরে ক্ষ্যাপা ঘুরন্ত লাটিমের দেহ ঘিরে আছে ক্ষণিকের শিরদাঁড়া   বহুকোষী অ্যামিবা - মানুষ কোথায় হারিয়ে এল অ...

শাশ্বত আঙ্গিকে শিলং মাতৃমন্দিরের মুখপত্র তথা শারদীয় পত্রিকা ‘শক্তি’

উত্তরপূর্বের সাহিত্যচর্চায় একটি উল্লেখযোগ্য স্থান ছিল মেঘালয়ের । বিশেষ করে শিলং ও তুরা এই ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করত । বর্তমানেও যে হচ্ছে না তা নয় , তবে সেই ধারা , সেই সাহিত্যসৃষ্টির পরিমাণ ( এবং মানও ?) আর আগের মতো নেই । নিয়মিত প্রকাশিত পত্রপত্রিকাগুলো অনেকটাই অনিয়মিত এবং হয়তো চিরতরেই বন্ধও হয়ে গেছে । এক ঝাঁক প্রতিষ্ঠিত এবং প্রতিশ্রুতিবান কবি লেখকের কবিতা কিংবা লেখা আর এখন সচরাচর প্রকাশিত হতে দেখা যায় না - অবশ্যই কিছু দীর্ঘকালীন ব্যতিক্রমের বাইরে । এর কারণ সহজবোধ্য । এ নিয়ে এখানে আলোচনা করা যায় না । শিলং পোলো গ্রাউন্ডে অবস্থিত শাশ্বত , সনাতন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মাতৃমন্দিরের প্রতিষ্ঠার উনসত্তর বছর হয়ে গেছে । বর্তমান প্রেক্ষাপটে একাধারে এ যেমন এক গৌরবের গাথা অন্যদিকে এক চ্যালেঞ্জও বটে । এই টালমাটাল সামাজিক পরিস্থিতিতে আধ্যাত্মিক আবহে , ঐতিহ্য পরম্পরা অনুযায়ী শারদীয় দুর্গোৎসব পালনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এ বড় কম কথা নয় । এই দুর্গোৎসবের আবহে প্রকাশিত হয়েছে প্রতিষ্ঠানের মুখপত্র তথা সাহিত্য পত্রিকা ‘ শক্তি ’ - ১৪৩১ । প্রথমেই বলে রাখা ভালো যে এ...

আই এম এ প্রফেশনাল কিলার

ছোট থেকেই অর্থাৎ এ বি সি ডি ইংরেজি অক্ষরের সাথে পরিচিত হওয়ার সময় থেকেই আমি একটি বাক্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে ছিলাম । সেই বয়সে কিজানি বাক্যটির অর্থ ভালো করে বুঝতে পারিনি। তবু কেন যে ভালো লেগেছিল ? আমি কাঠপে ন্‌সি ল দিয়ে খাতায় লিখে রেখে ছিলাম বাক্যটি। হাইস্কুলের শিক্ষয়িত্রী মা ’ কে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম -‘মা, এই বাক্যটির মানে কী হবে বলো তো ......’ মাত্র এ বি সি ডি শিখেছিলাম তখন। নার্সারি স্কুলের ছাত্র। আমার অনভিজ্ঞ হাতে জড়িয়ে জড়িয়ে লে খা বাক্যটিতে মা চোখ বুলিয়ে দেখলেন। একবার আমার দিকে তাকালেন। – তুমি নিজেই লিখেছো গৌতম ? – হ্যাঁ। কীভাবে জানলে ? কে শেখালো ? – একটি ইংরেজি সিনেমায়। দাদা দেখতে থাকার সময় আমিও দে খেছি লাম। সিনেমার হিরো হাতে একটি পিস্তল ধরে থাকে। মাথায় কালো টুপি আর কালো লম্বা কোট পরে। চোখদু’টি বড় করে মেলে, পিস্তলটির ট্রিগারে আঙুল রেখে বলেছিল - ‘আই এম এ প্রফেশনাল কিলার।’ আমার ভালো লেগেছিল। আমারও একটি পিস্তল আছে। আমারও একটি কালো কোট আছে। আমিও এই হিরোর মতো বলতে পারব - ‘আই এম এ প্রফেশনাল কিলার।’ – তুমি ভালো করে ইংরেজি শে খোইনি। লিখতে পারলে কী করে ? – দাদাকে বলেছিলাম মানে কথা...