Skip to main content

Posts

সুখের লাগিয়া

এত বৈভব আমার হাতের মুঠোয় শিরোপরি কত কত পালক তবু কোথা থেকে আসে ছন্নছাড়া সব না পাওয়ার গুচ্ছ অধরা শোক। কে সে , কোন অজানা অদেখা অবয়ব স্বপ্ন মননে পোড়ায় অবিরত কোন সে না বলা কথার পাহাড় পলে পলে জমে হৃদয়কে করে স্ফীত ? কোন কথা নেই , ছবি নেই তার কিছু একের পর এক রিক্ত প্রহর দিবস উদাসী যাপনে আনমনে উচাটনে শুধু আসে ফিরে আঁধার - কালো নিকষ। ঘনায় কি সে দিন - কৃষ্ণ বিবর পথে হারিয়ে যাওয়ার সমাগত সেই ক্ষণ , যত অপ্রাপ্তির , পাওয়া না পাওয়ায় জড়িয়ে দু ' চোখ ভোকাট্টা ঘুড়ি মন ? আমার চাওয়া নয় ততটা বিশাল   চাই না আমি সাগর মহাসাগর কিংবা আস্ত পাহাড , নদী , আকাশ ঝিনুক তরু মেঘেই আমি কাতর। যত কথা আছে মনে , আছে যত প্রাপ্তি যত বৈভব যত পালক আছে শিরে আমি ফুৎকারে সব উড়িয়ে আকাশপানে কার সাড়ায় তাকাই ফিরে ফিরে ? ক্ষ্যাপা বাউলের আড্ডায় আখড়ায় আমি খুঁজে ফিরি পরশ পাষাণ জানি আমি নেই সে যাদু মানবীমুখ তবু আমি ' সুখের লাগিয়া ' আনচান। প্রান্তর থেকে প্রান্তরে আমি ভবঘুরে খুঁজি ঘোর লাগা অন্তরে - অচেনা সে খুলি শিরোপা থেকে একটি একটি পালক আমার মানস নয়নে - যদি সে আসে। জনপদ থেকে গঞ্জে নগরে বাহবা সুখে অগণিত ...

অপ্রেম

কোথায় আছো বাতিঘর ? বহুদিন চিঠি লিখিনি তোমাকে আজ আবার এসেছি সেইখানে - মনে আছে ? আমার তখন দু ' নৌকোয় পা। দুই দেশের কাঁটাতারহীন সীমা " যাবো ?" - তোমার উদ্বেগ " না না , যেয়ো না"। আমার বুকের অন্তরতর প্রদেশে হাপরের ওঠানামা। আমি তখন রাজসিঁড়িতে বসা , তুমি বন্ধু সকাশে - অপেক্ষমান সবান্ধব তোমার ছবি - ব্যতিক্রমী। ছবি থেকেই শুরু যে অধ্যায় তার পালকে নতুন সংযোজন। এবার আমি কোথাও ঘুরতে যাব না। বুকে ব্যথা নিয়ে , চোখে স্মৃতি নিয়ে আর যাই হোক , আনন্দ আসে না , আসে শুধু সমুদ্র সৈকত জুড়ে বাতিঘরের আলোকছটায় রাতের নৈঃশব্দ্য , শূন্যতার হাহাকার অপ্রেমে আশাহীন নিকষ অন্ধকার।

সব দিন - কবিতার

সব দিন - কবিতার   একদিন নয় শুধু , নিখাদ সত্য   প্রতিদিন তোমারই দিন। শেকড় তোমার স্মৃতি জুড়ে গরজ আমার বক্ষমূলে নিঃশঙ্ক আস্তানা তোমারই কোলে। ব্যথার যত উপশম , কথার যত বুলি আনমনে পাশাপাশি , হাতে হাত ধরে চলা সে তো একদিন নয় , প্রতিদিন প্রতি পলে।   সুখে না হলেও - শোকে ঠিক নিশ্চিত কাছে পাওয়া , দুঃখ রাতে সেই ভরসার রাত জাগা। বক্র পথের প্রতিটি অনির্ণীত মোড়ে সঠিক দিশার সাকিন হয়ে অঙ্গীকারে মসৃণ পথ চলা।   শেষ পংক্তির শেষের বেলায় এক এক করে ভরসা যত - ফিরিয়ে দিয়ে কানায় কানায় , কবিতা আমার নিত্য উপচার আমার উচ্চারণের সাহস , কোনও ভাবেই নয় শুধু আজ তোমার জন্য একটি মাত্র দিবস।

বৃষ্টি ঝরায় প্রথম কবিতা

বৃষ্টি ঝরায় প্রথম কবিতা “You will find no rest for the long years of eternity For you killed a bird in love and unsuspecting”   ‘ স্রোতস্বতী তমসার তীরে ’ গাথা বিষাদসম “ মা নিষাদ প্রতিষ্ঠাং ত্বমগমঃ শাশ্বতীঃ সমাঃ যৎ ক্রৌঞ্চমিথুনাদেকমবধীঃ কামমোহিতমঃ ” প্রথমেরও প্রথম সৃষ্টিকল্পে কবিতায় প্রিয়তমা।   যুগাবসানে এনহেদুয়ান্না - ‘ আক্কাদিয়ান ইনানা ’  প্রথম শ্লোকে সেই প্রিয়তমা - ‘ আমি তোমার ’ চোখ খোলে কবিতা , মেলে প্রথম উড়ানের ডানা। যুগান্তরে প্রেম , ছড়ায় প্রজন্মে হাত ধরে কবিতার।   সেই উড়ান , সেই অবিচ্ছিন্ন পাখসাট পথ ধরে প্রেম বৈশ্বানরে উছল ডাগর কৈশোরে - যৌবনে  শিলালিপি থেকে ইথার তরঙ্গ বেয়ে থরে থরে কতশত প্রথম কবিতা বেড়ায় খেলে তনু মনে।   সেদিনও এমনই প্রখর রৌদ্রে , উৎকণ্ঠিত দুপুরে হতাশায় ডুবে থাকা ব্যর্থ প্রেমিক মন - অশান্ত কাব্যবিহীন প্রেমিকা হৃদয় শব্দবন্ধে , আদরে সুদূরে  বৃষ্টি ঝরায় প্রথম কবিতা - ‘ অপেক্ষার হলো অন্ত ’ ।   অন্ত শেষে নতুন দিবসে প্রেমের সুবাসে কবিতা রচে যায় যত বৃষ্টিবিধৌত নিখাদ ভালোবাসা ছড়ায় বারতা , চরাচর জুড়ে স্তবগানে মুখরতা জীবন পথে ...

'সপাট সহজ সন্ধ্যা' - বিশ্বজিৎ ঘটক

জীবন ছবির অনাবিল উচ্চারণ - ‘সপাট সহজ সন্ধ্যা’   এভাবেও পটচিত্রে সংরক্ষিত করে রাখা যায় জীবন ছবির টুকরো স্মৃতি। কবিতার পটচিত্রে ভাবনাকে লিপিবদ্ধ করে রেখে দেয়া যায় আখর কথার এ্যালবামে। প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে চলার পথের অজস্র টুকিটাকিকে যিনি ধরে রেখেছিলেন কাগজে কলমে তাঁর এ যাবৎ প্রকাশিত গ্রন্থ মাত্র এক। গল্প সংকলন ‘একটি শিশির বিন্দু’ প্রকাশিত হয়েছে এই সেদিন ২০২০এ। এর দু’বছর পর সদ্য অনুষ্ঠিত অসম গ্রন্থমেলা, গুয়াহাটি ২০২২এ প্রকাশিত হলো তাঁর প্রথম কাব্য সংকলন। সম্যক কৈফিয়ত ধরে রাখা আছে ব্লার্বে, এভাবে - ‘প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে অনিয়মিত লেখালেখির অভ্যাসে কবিতা রচিত হয়েছে অজস্র। কিন্তু অগোছালো অসাবধানী স্বভাবের দরুণ বেশির ভাগই হারিয়ে গেছে। অবশিষ্ট সংগ্রহ থেকে ষাটটি কবিতা নিয়ে এই সংকলন। বিষয়বস্তু বিবিধ ও বিচিত্র। রচনাকাল লিখে রাখার অভ্যাস বিশেষ না থাকার জন্য সংকলিত কবিতাগুলোর বিন্যাসে নির্ভুল কালানুক্রম রাখা সম্ভব হয়নি। তবে দীর্ঘ সময়কাল ধরে পরিমণ্ডলে ও মননে ধারাবাহিক পরিবর্তনের ছায়াপাত এবং সেই সাথে কবির অনুভব ও প্রকাশভঙ্গির ক্রমবিবর্তনের আভাস পাওয়া যেতে পারে এই সংকলনের পৃষ্ঠা পরম্পরায়।’ কবির বয়ান...

রিমঝিম বৃষ্টি - রেণুকা বিশ্বাস

সুখপাঠ্য উপন্যাস - রিমঝিম বৃষ্টি   ‘বর্ষীয়ান লেখিকা রেণুকা বিশ্বাস । ১৯৭৭এ পিতৃবিয়োগের পর ‘ পিতৃতর্পণ ’ কবিতা দিয়েই তাঁর প্রথম লেখালেখির শুরু । … আশির দশকে নগাঁও থেকে প্রকাশিত ‘ মৃগনাভি ’ ছোট পত্রিকায় লেখিকার প্রথম গল্প ‘ যতিপাত ’ প্রকাশিত হয় । ১৯৮৩ সালে লিখা ‘ ভগ্নকালীর অন্তরালে ’ প্রথম উপন্যাস । ১৯৮০ থেকে ১৯৮৫ পর্যন্ত বহু গল্প উপন্যাস লিখেছেন । এর পর প্রায় দীর্ঘ পনেরো বছর লেখালেখি সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল । ’ - এ তো গেল ব্লার্বের কথা। প্রকাশক ভিকি পাবলিশার্স, গুয়াহাটি। প্রকাশকাল জানুয়ারি ২০২১, অসম গ্রন্থমেলা, গুয়াহাটি। এর আগে প্রকাশিত হয়েছে লেখিকার গল্প সংকলন ‘স্বপ্নের বালুচরে’ ২০১০-এ এবং কাব্যসংকলন ‘ফেরারি ঘুড়ি’ ২০১৮তে। পৃষ্ঠাসংখ্যার বিচারে ৭৭ পৃষ্ঠার একটি কাহিনি কতটা উপন্যাস হয়ে ওঠে সেই বিচারে না গিয়েও কাহিনির বিস্তার, বিন্যাস, বুনোট এবং ধারাবাহিকতাকে বিচার্য হিসেবে ধরলে ‘রিমঝিম বৃষ্টি’ এক কথায় একটি সার্থক উপন্যাস। উপন্যাস সার্থক এই দৃষ্টিভঙ্গী থেকেও যে লেখিকা সন তারিখের কোনও বিশেষ উল্লেখ না করলেও হয়তো বা তাঁর নিজেরই অজান্তে একটি সময়কালকে তিনি ধরে রেখেছেন স্পষ্ট লেখনীতে। ...

রক্তরাঙা 'লিগ্যাসি'

বদলে গেল কত নাম পার্ক, স্টেডিয়াম, জায়গার নাম কত রেল স্টেশন, কত রাজ্য - দেশের নাম তবু অধরা ‘ভাষা শহিদ স্টেশন’। নেপথ্য কলকাঠি নড়ে চলে যুগ যুগান্ত ধরে রাজা আসে, রাজা যায়, নাম না বদলায় তার বদলে ব্যানারের ভাষা বদলায়। স্টেশন চত্বরে রঙ বদলায় ভাষা, জানে না ওরা এ উঠোনের একটাই রঙ লাল শুধু লাল, রক্তরাঙা ‘লিগ্যাসি’। যে চত্বরে প্রাণের ভাষার গরজে ঝরেছিল লাল শোণিতধারা। আজ ছয়টি দশকেও অবিকল সেই কলকাঠি গড়ে ওঠে না ভাষা শহিদ টার্মিনাস্‌।   আজ আবার আসুক ফিরে সেই গরজ, এগারো শহিদের পুণ্যভূমি আবার হোক মুখরিত - সমবেত প্রতিবাদে, মহীয়ান হোক মৃত্যুমুখর বলিদান বাঁচুক ভাষা, বাঁচুক উনিশে মে’।

যুদ্ধ-সন্ধি

যুদ্ধ চলছে, যুদ্ধ - ভয়ানক কিছু ঘোষিত, পরাক্রমের বড়াই কিছু অঘোষিত - বেঁচে থাকার লড়াই। আমি নিজেরই অজান্তে জড়িয়ে গেছি যুদ্ধে - অশরীরী গুলি বারুদের যুদ্ধ নয় এ হৃদয় জুড়ে একরাশ টানাপোড়েন শুধু। জীবন মৃত্যুর দোলাচলে আমার স্নিগ্ধ অতীত, সুখ স্বপনের দোলায়িত ভিত্তি। সময় সারণিবিহীন এ এক অকালযুদ্ধ যে যুদ্ধে একটি প্রাণের পাশাপাশি অস্তিত্ব সঙ্কটে থরথর কাঁপে আমার জীবনজোড়া সুখ - পাশাপাশি কিংবা মুখোমুখি। যে সুখ থাকেনি সুখ হয়ে হারিয়ে গেছে যুগপ্রভাতে, যে সুখ একদিন দুঃখ হয়ে ঝরে পড়েছে নীরব অশ্রু হয়ে, যে সুখ এর পরেও হৃদয়ের কোনও এক নিভৃত বাসরে থেকে গেছে আপন গরজে, আপনি মজে সেই দুঃখসুখের অন্তবেলায় যুদ্ধবিধ্বস্ত আমি তারই গান শুনি যে গান বেজেছিল একদিন মন্দিরে মন্দিরে দ্বৈত প্রণামে - পাশাপাশি নিরালা অলিন্দে খুনসুটিতে, অলীক সোহাগে, অকারণে। আজ হোক না কোনো সন্ধি, কাটুক বেলা এমনি যুদ্ধবিহীন অন্তরালে।

বিমলেন্দু চক্রবর্তীর 'একটি চশমা কিংবা তার বিনির্মাণ'

বিমলেন্দু চক্রবর্তীর ‘একটি চশমা কিংবা তার বিনির্মাণ’   গল্প বলার এবং গল্প লিখারও ধরণ পাল্টেছে আমূল। এ এক নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া। যুগের সাথে পাল্লা দিয়ে এসেছে নিত্য নতুন দৃশ্যপট, পারিপার্শ্বিকতা, চিন্তা ধারা এবং তারই প্রতিফলন উঠে আসে সাহিত্যে। ভাষায়, বিষয়ে ফুটে ওঠে আবহমান সময়। ধরা থাকে ইতিহাসের পাতায় ছবি হয়ে। এটাই চিরন্তন সত্য। একই সত্যের সূত্র ধরে অতি সম্প্রতি গুয়াহাটির মজলিশ বইঘর থেকে প্রকাশিত হয়েছে কবি, গল্পকার বিমলেন্দু চক্রবর্তীর গল্প সংকলন - একটি চশমা কিংবা তার বিনির্মাণ। এটি গল্পকারের প্রথম গল্প সংকলন। এর আগে প্রকাশিত হয়েছিল একটি কবিতা সংকলন যা সাড়া জাগিয়েছিল পাঠক মহলে। খানিকটা ব্যতিক্রমী বটে এই আলোচ্য গ্রন্থটির নামাকরণ । আসলে এই শিরোনামে রয়েছে দুই মলাটের ভিতরে একটি গল্প। গল্পকারের চিন্তায় হয়তো এই গল্পটিই সবচাইতে বেশি আলোড়ন তুলেছে । তাই এই না মা করণ। পঠনান্তে পাঠকের চিন্তায় কি সৃষ্টি হয়েছে একই আলোড়ন ? আলোচনা করা যাক। মোট ১২৮ পৃষ্ঠার এই সংকলনে গ্রন্থিত হয়েছে ২১ টি গল্প। প্রথম মলাটের ভেতরের প্রচ্ছদে গল্পকারের সম্যক পরিচিতির কিছু অংশ এখানে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে। - “গল্পের হাতেখ...

কল্লোল চৌধুরীর কাব্যগ্রন্থ - 'মেহগনি অন্ধকার'

সরল বোধের কবিতা সংকলন ‘মেহগনি অন্ধকার’ - - - - - - - - - - - - - - - - - - - -  দ্বিভাষিক কবি কল্লোল চৌধুরীর একের পর এক গ্রন্থাবলির প্রকাশে আখ্যায়িত এই ভুবনের সাহিত্য পরিসর ঋদ্ধ হচ্ছে নিরন্তর। তাঁর সাম্প্রতিকতম কাব্য সংকলন ‘মেহগনি অন্ধকার’ প্রকাশিত হয়েছে অক্টোবর ২০২১-এ।  মোট ৬৪ পৃষ্ঠার পাকা মলাটে সন্নিবিষ্ট আছে ৫৫টি কবিতা। স্বল্প থেকে পৃষ্ঠাজোড়া কবিতার সমাহার। তবে স্বল্প দৈর্ঘের কবিতারই পয়োভার। এবং এই স্বল্প কথায় কীভাবে একটি কবিতাকে সরাসরি পৌঁছে দেওয়া যায় পাঠকের অন্তরে তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে এই গ্রন্থটি। একেবারেই সহজ সরল বক্তব্যে মনের কথাটি কবি তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন পাঠক মননে। উদাহরণ হিসেবে নেওয়া যায় সেই কবিতাটি যে নামে গ্রন্থটিও হয়েছে নামাঙ্কিত - ঘাসের ভেতর পাতার ফাঁকে আমি খুঁজছি সূর্য-অস্ত-শোভা মোরগফুল, গাঁদাফুলে রয়েছে প্রজাপতি সব ওরাও হয়তো খুঁজছে আমারই মতন নারকেলবনের কূলায়ে সোনালি আভা যেন অবশেষে মেহগনি অন্ধকারেই মিশে যাবে।  (কবিতা - মেহগনি অন্ধকার) সংকলিত প্রতিটি কবিতাই যেন কবির মানসসঞ্জাত তাৎক্ষণিক ভাবনার প্রতিফলন। নিত্য নৈমিত্তিক দিন যাপনে মনের গভীরে উঠে আসা প্রশ...

উদাসী ফাগুন

এমনি কোনো এক ফাল্গুনে কাল গুনে মেলেছিল আঁখি ধরা দিয়েছিল সুখ পাখি। রোদ ঝলোমল টুকটুকে লাল ফাগুন ছড়ায় আবির গুলাল নীলতনু কাঁপন ধরায় বুকে কাল থেকে আজ আজ থেকে কাল। এমনি কোনো এক ফাল্গুনে প্রথম চেয়েছে চোখ মেলে সেই চোখে আজো হাসি খেলে। উড়ুউড়ু মন টাপুর টুপুর পৌষ ছোঁয়া মেঘে উদাস দুপুর মোহনা বেলায় মিছেই ভোরাই বুক ধুকপুক আলেয়া নূপুর। এমনি কোনো এক ফাল্গুনে ধরেছিল এসে হাতে হাত আজ হারিয়ে গেছে সে রাত। কনকনে শীত লেপমুড়ি রাত নতুন সোহাগে রোজ বাজিমাত বঁধু হে আমার এত ভালোবাসা এ জীবন কেয়াবাত কেয়াবাত।

একটি বসন্ত - তোমাকে দিলাম

আমার অগু ন তি বসন্ত -ভাঁড়ার থেকে একটি নাহয় তোমাকেই দিলাম। কিংবা হৃদয়পুরের অন্দর থেকে কোনও এক সঞ্চিত বসন্ত বাহা র নতজানু হয়ে লাল গোলাপের মতো তুলে দিলাম আনত তোমার প্রসারিত হাতে আমার একটি বসন্ত তোমারই নামে । হেমন্তিকার ঝরা শেষে আস্ত শীতের ওম মাখা, ভালোবাসার নীল খামে একরাশ ভালো লাগা আমার হৃদয় জুড়ে সঞ্চিত শুভ আশা।   এর পর ই তো ঝরাপাতার পথপাশে   স্থানুবৎ আমি নতজানু হয়ে রই অনাদি অনন্ত কাল -   তুমি একরাশ ব্যর্থ ব সন্তে র মতো   আমার ভেতরে বাইরে ছড়িয়ে দাও কৃষ্ণগহ্বরের মতো রিক্ত, শূন্য আঁধার ।

উত্তরগোধূলি - অনীতা দাস ট্যান্ডন

স্বল্পবাকের কবিতা সংকলন - ‘ উত্তরগোধূলি ’   অনীতা দাস ট্যান্ডন ( কবি এভাবেই নামটি লিখেন ) উত্তরপূর্বের কবিতাবিশ্বে , বিশেষ করে বরাক উপত্যকা ও আসামের বাংলা সাহিত্য জগতে একটি পরিচিত নাম । শুধু কবিতাই নয় গদ্যের হাতটিও তাঁর যথেষ্ট পাকা বলেই জ্ঞাত । কবির ‘ উত্তরগোধূলি ’ কাব্যগ্রন্থটি বেশ কিছুদিন আগেই প্রকাশিত হয়েছে । ৬৪ পৃষ্ঠার গ্রন্থটির দুই মলাটের ভিতরে সন্নিবিষ্ট হয়েছে মোট পঞ্চাশটি ভাবসমৃদ্ধ কবিতা । আদ্যোপান্ত ভাবের সুস্পষ্ট প্রকাশ । গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছে ‘ সেই প্রার্থনাকে যা আমাকে তোমার সাথে বাঁধে ……’ । ‘ বাবাকে ’ শিরোনামে লিপিবদ্ধ শেষ কবিতাটি মোট সাতটি বিভাগে লিখিত , তিন পৃষ্ঠা জোড়া এক দীর্ঘ কবিতা । এর বাইরে অন্য ৪৯ টি কবিতাই স্বল্পবাকের , স্বল্পদৈর্ঘের কবিতা । স্বল্প কথায় কবি স্পষ্ট করে ফুটিয়ে তুলেছেন গভীর মননের বিচিত্র সব অনুভূতি । নিখাদ গদ্যছন্দে লিখিত বেশ ক ’ টি কবিতা আবার অবয়বের দিক থেকেও গদ্যরূপেই সজ্জিত । অধিকাংশ কবিতায় কোথাও যেন এক পড়ন্ত বিকেলের আচ্ছন্নতার বোধ । তাই হয়তো - উত্তরগোধূলি - ধোঁয়ায় ক্লান্ত চোখ কানে কাঠ ভাঙার শব্দ পোড়া - পোড়া গন্ধ নাকে জিহ্বা...