Skip to main content

Posts

রিক্ত সোনার তরী

তুমি ক ’ বার গেছো কয়েদখানার বদ্ধ কুঠুরিতে ? আমার আজীবন হাজতবাস । অক্ষর বেড়াজালে মিথ্যে মায়ায় আটকে আছি বহু যুগ হতে , এপার ওপার - অপার মুগ্ধ মোহে । এক একটা মুখ মুখোশ হয়ে সেঁটে গেছে মুখমণ্ডলে সেই মুখোশে কতটা মাপা যায় ইহকাল ? মিথ্যা মোড়কে নির্মোহ সব সত্য কথার কী বা ইহ , কী বা পরকাল ? তরী বেসামাল মাঝদরিয়ায় , কলরোল জলরোল সব একাকার ।   অথচ সেদিনও অলিরা গেয়েছে গান অতসী বসন্তে ফুলে ফুলে ওড়ে করেছে মাধুরী পান কেন তবে আজ সোনার তরী রিক্ত ভাবনাময় এই নরদেহ , এই পথ চলা , দিশাহীন নিশিদিন কবেকার কোন সুখকর হাত , মুচকি নয়নঠার অচল পয়সা কুড়িয়ে কুড়িয়ে জীবন করেছি পার ।   হেঁটেছি বহুদিন সাগরবেলায় ঝিনুকসরণি ধরে নিষ্ফলা সব হেমন্তশেষে মুক্তোবিহীন শূন্যসার সব পেরিয়ে , সব হারিয়ে একদিন তুমিও দাঁড়াবে এসে এপারে , ধরে ফের হাতে হাত এটুকুই সম্বল , বাকি সব মিছে ইতিহাস হাজত কিংবা কয়েদখানা , হোক একত্রবাস ।

শ্মশানের স্তব্ধতা

- যা , আরেকবার খুঁচিয়ে দিয়ে আয় দেহটা দেখিস না কেমন বেঁকে গেছে পা-টা ?   সেদিন চোখের ভিতর ' তিনকা ' পড়ে সে কী জ্বালা গরম জলের একটি বিন্দু তুলেছে ঢাউস এক জলটম্বুর ফোসকা দিন সাতেকের দহন যন্ত্ৰণা।   - আরে আরে পড়ে যাবে ' বডি ', শীগগির যা ভালো করে গুঁজে দে কাঠখড়ি   সেবার খাটের কোণে পা লেগে যে পড়েছিল দেহ মাস্টার বেডরুমে ভেঙেছিল কড়ে আঙুল ( তবু রক্ষা ভাঙেনি মেঝে ) ফুলে কলাগাছ হয়ে রইল দিন দুই কুড়ি। এই নরদেহ পলকে ভোকাট্টা আকাশের ঘুড়ি নচেৎ পথের ধারঘেঁষা সব অচল পাথর , নুড়ি।   - কই রে গোপাল ? যা তো দেখ চেয়ে - ফাটছে কপাল। আপাত নীরব যাত্রাপথে শব্দের কোলাহল। কপাল খুঁজে খুঁজে ফেরে মাতাল গোপাল হাঁক দেয় কেউ - ক ' পেগ টেনেছিস মাল ?   আগেও একবার ফেটেছিল এ কপাল ছেড়েছিল দেশ - হানাহানি উত্তাল ছেড়েছিল সব সম্ভ্রম, শেষ পারানির সম্বল সব হারিয়ে নিঃস্ব অকিঞ্চন ছিল শুধু এই দেহ, এই নাম তকমা জুটেছে শিরোপরি - ভাগ্যের পরিণাম প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে উদ্‌বাস্তু শিরোনাম। আজ শেষবার ফাটছে কপাল শেষ যাত্রায় এই দেহ, এই নাম - ছাড়ছে ইহকাল।   মাঝে মাঝেই উঠছে রোল হরি বল , হরি বল চলছে ন...

নান্দনিক কাব্য সংকলন ‘একরাশ ভালোবাসা’

এই নিয়ে তৃতীয়বার। কবিতা নিয়ে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটিয়ে চলেছে হাইলাকান্দির ‘দৃঢ়বন্ধন’ অনলাইন কবিতা পত্রিকা গোষ্ঠী। সাপ্তাহিক কবিতা পত্রিকা প্রকাশের বাইরেও উৎসবে পার্বণে, নক্ষত্র পতনে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হচ্ছে নিয়মিত। প্রতিষ্ঠিতদের পাশাপাশি তুলে আনা হচ্ছে প্রতিভাসম্পন্ন গুচ্ছ গুচ্ছ নবীন কবিদের। প্রতিটি সংখ্যায় সম্মাননা জানানো হচ্ছে একজন করে কবিকে। অনুষ্ঠিত হচ্ছে কবিতার বার্ষিক সম্মেলন। আর এই নিয়ে সদ্য প্রকাশিত হল কবিতার তৃতীয় সংকলন। অর্থাৎ এর আগে প্রকাশিত হয়েছে আরোও দুটি। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে নির্বাচিত তৃতীয় কবিতা সংকলন - ‘একরাশ ভালোবাসা’। সম্পাদনায় ‘দৃঢ়বন্ধন’-এর পক্ষে গীতশ্রী ভট্টাচার্য ও পম্পা গুহ ঠাকুরতা। এই সংকলনে অন্যতম সম্পাদক গীতশ্রীর কবিতা থাকলেও নেই পম্পার কোনও কবিতা। রয়েছেন নবীন প্রবীণ মিলিয়ে আরোও এগারোজন অর্থাৎ সব মিলিয়ে বারোজন কবির কবিতা। প্রত্যেকেই লিখেছেন দশটি করে কবিতা। এখানে সব কবিতা গ্রন্থ-নাম অনুযায়ী শুধুই ভালোবাসা নিয়ে নয়, তবে কবিতার প্রতি ‘একরাশ ভালোবাসা’ থেকেই সংকলনটির গ্রন্থনাম। সম্পাদকীয়তে এমনই কিছু বলা হয়েছে অনাবিল বর্ণনায় - ‘... প্রত্যেক সচেতন সংবেদনশীল মানুষের...

ব্যতিক্রমী আঙ্গিকের কাব্যগ্রন্থ সব ছাই কেন ওড়ে শীত মাসে

ভূমিকায় আছে - ‘স্বাচ্ছন্দ্য ও নিমগ্নতার কবি প্রাণজি বসাকের এ যাবৎ প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা সম্ভবত দুই ডজন। একের পর এক কাব্যগ্রন্থে কবি নিজেকে উদ্‌ভাসিত করে চলেছেন নতুন থেকে নতুনতর আঙ্গিকে। প্রথমেই যে কথাটি বলে নেয়া আবশ্যক তা হল কবির গ্রন্থনাম। শব্দচমকে ও দ্যোতনায় সুচয়িত গ্রন্থনাম সহজেই আকর্ষণ করে নেয় পাঠকের প্রথম ইন্দ্রিয়। এবং এটাও এক অমোঘ সত্য যে পাঠক একবার গ্রন্থের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে আদ্যন্ত পাঠের বাইরে আর গত্যন্তর থাকে না বেরিয়ে আসার। এ এক আশ্চর্য ব্যূহ বইকী।’     ‘সব ছাই কেন ওড়ে শীত মাসে’ শীর্ষক এই গ্রন্থেও ধরা আছে গ্রন্থনামের সেই বাহাদুরি। এখানে তিনি আবারও মেতে উঠেছেন আঙ্গিকের নতুনত্বে। দুটি দীর্ঘ কবিতা সহ সবগুলো কবিতাই এবার গদ্যকবিতা। আপাতমননে গদ্যকবিতা শব্দবন্ধটি চেতনাগত বোধে ‘সোনার পাথরবাটি’ গোছের এক ভাবনার জন্ম দেয় যদিও গদ্যকবিতার আছে এক ভিন্নধর্মী প্রকাশ। ছন্দহীন কবিতা কিংবা আধুনিক বা অত্যাধুনিক কবিতার পথে নয়, গদ্যকবিতার ভেতরে প্রকৃতার্থে লুকিয়ে রয়েছে এমন এক আঙ্গিক যা মূলত গদ্যনির্ভর এবং গদ্যসঞ্জাত কিন্তু অনর্নিহিতে বয়ে যায় পদ্য বা কাব্যগুণ সম্বলিত...

বিষয় নির্ভর গল্পের সমাহার 'ড. গীতা সাহার গল্প সমগ্র'

খানিকটা দেরিতেই হাতে এল ‘ড . গীতা সাহার গল্পসমগ্র’ গ্রন্থটি । লেখক কর্ম এবং বসবাসসূত্রে মূলত বরাকভূমের হলেও তাঁর উচ্চশিক্ষাজীবন কেটেছে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় । আলোচ্য গ্রন্থের শেষ মলাটে আছে পরিচিতি যা দস্তুর মতো চমকে দেওয়ার মতো । খানিকটা উদ্ধৃতি এখানে নিতান্তই প্রাসঙ্গিক - ‘ গৌহাটী বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী ছাত্রী গীতা সাহা স্নাতকোত্তর সংস্কৃত বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান লাভ করে স্বর্ণপদক লাভ করেন । স্নাতক শ্রেণিতেও সংস্কৃত বিষয়ে অনার্স সহ ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শ্রেষ্ঠ স্নাতকের সম্মান নিয়ে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান লাভ করেন । অতঃপর গৌহাটী বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেন । পরে মাতৃভাষা বাংলাতেও এমএ ডিগ্রী লাভ করেন । …… কর্মজীবন শুরু হয় করিমগঞ্জ রবীন্দ্রসদন মহিলা মহাবিদ্যালয়ে সংস্কৃত বিষয়ের অধ্যাপিকা রূপে । পরবর্তী সময়ে চাকুরি জীবনের এক দীর্ঘ সময় উপাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে অবসর গ্রহণ করেন … । ’ তাঁর এ যাবৎ প্রকাশিত গ্রন্থ দশ । যার মধ্যে রয়েছে সংস্কৃত , বাংলা ও অসমিয়া ভাষায় রচিত গ্রন্থ । এর বেশির ভাগই কবিতা , ছড়া ও প্রবন্ধ । এহেন উচ্চশিক্ষিত এই বহুভ...

বিশিষ্টতার প্রতীক - ‘উত্তরপূর্বের লোকসাহিত্যে শিশু-মনস্তত্ত্ব’

দুটি ব্লার্বই খালি । গ্রন্থ বিষয়ক এবং লেখক বিষয়ক কোনও মর্মকথা নেই , তথ্য নেই । অথচ কিছু কথা থাকা উচিৎ ছিল বলেই মনে হয়েছে । ড . শংকর কর । বরপেটার হাউলি বি এইচ কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক । ইতিমধ্যেই বাংলা সাহিত্য , সংগীত এবং আঞ্চলিক সাহিত্য বিষয়ক একাধিক সম্পাদনা গ্রন্থের প্রণেতা হওয়ার উপরি সমসাময়িক নিয়মিত পত্রিকারও সম্পাদক যেখানে সমবিষয়ক , সমমানের লেখালেখির উপর নিরন্তর গুরুত্ব সহকারে সম্পাদনার কাজে ব্রতী রয়েছেন । বলা ভালো এই ক্ষেত্রটিতে আজকের দিনে নিজেকে অপরিহার্য করে তুলেছেন । সুতরাং ব্লার্বে এসব কথা আসা সমীচীন হতো । সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে তাঁর ত্রিভাষিক সম্পাদনা গ্রন্থ ‘ উত্তরপূর্বের লোকসাহিত্যে শিশু - মনস্তত্ত্ব ’ । বরাবরেরই মতো ধারে ও ভারে সমৃদ্ধ ২৬৩ পৃষ্ঠার এই গ্রন্থে রয়েছে বাংলা, অসমিয়া ও ইংরেজি ভাষায় লেখা একগুচ্ছ বিষয়-ভিত্তিক প্রবন্ধ। গ্রন্থনাম থেকেই প্রতীয়মান যে এই গ্রন্থে যেসব নিবন্ধাদি নির্বাচিত হয়েছে তার ভিত্তি ত্রিমাত্রিক। প্রথমত - উত্তরপূর্ব, দ্বিতীয়ত - লোকসাহিত্য এবং তৃতীয়ত - শিশু ননস্তত্ত্ব। এই তিনটি মাত্রাকে একত্রিত করেই লেখা হয়েছে নিবন্ধসমূহ। সহজেই অনুমেয় যে ...

শব্দবোধের কাব্যময় সংকলন ‘মৃত পাণ্ডুলিপির রাত’

আধুনিক কবিতার কোনও নির্ধারিত ধাঁচ হয় না । এখানে থাকে না কোনও ধারাবাহিকতা কিংবা ছকের নিয়ম নীতি । প্রতিটি শব্দ এবং পঙ্ ‌ ক্তির স্বাধীনতা অবাধ । আধুনিক কবিতার রসাস্বাদনই শেষ কথা , কোনও অর্থ কিংবা ব্যাখ্যা খুঁজতে যাওয়া বৃথা শ্রম মাত্র । কবি যেমন এই পর্বে স্বাধীনচেতা এবং স্বাধীন চিন্তারও অধিকারী পাঠকও তেমনি ভাবনার গভীরে মিশে গিয়ে বোধের ঘরে প্রবেশ করার অধিকারী । এতে কবির সঙ্গে পাঠকের একাত্ম হয়ে যাওয়ার যেমন কোনও বাধ্যবাধকতা কিংবা শর্ত নেই , তেমনি নেই কোনো দায়ও । তবু , এতকিছুর পরেও আধুনিক কবিতা নিজস্ব বৈভবে ব্যতিক্রমী । তবে আধুনিক কবিতারও রকমফের আছে । প্রতিটি কবিতাই বহন করে তার স্রষ্টার কাব্যিক জিন। অবোধ্য, দুর্বোধ্য এবং সহজবোধ্যের মতো কোথাও তার সহজ তন্বী চলন তো কোথাও ‘ বুঝতে নারি , চরণ বাঁকা ’ । কোথাও আবার ক্যালকুলাসের মতো বিচিত্র এবং জটিল অঙ্কের সমীকরণ যার কোনও সমাধান নেই কারো কাছেই। না পাঠকের কাছে এবং হয়তো না কবির কাছেও। এমনও আছে এরা একবারই প্রসব হয় এবং তার পর থেকে মালিকানাবিহীন হয়ে অবোধ্য হরফের পাহাড়ে পড়ে থাকে নিঃসঙ্গ হয়ে আজীবন। কবি গোপাল চক্রবর্তী উত্তরপূর্বের কবিতাবিশ্বে ক্রমশ অ...