Skip to main content

Posts

১৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ রচনা বাংলা নাটক ও কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র

‘আজি হতে শতবর্ষ পরে, কে তুমি পড়িছ বসে আমার কবিতাখানি…।’ কবিগুরু লিখেছিলেন এক গভীত প্রত্যয়কে বুকে ধরে। শতবর্ষ বড় কম কথা নয়। প্রখর দূরদৃষ্টিসম্পন্ন কবি শতবর্ষ বলতে এক সুদীর্ঘ কালকেই নির্দেশিত করে গেছেন বলে ধারণা করেও বলা যায় - শুধু শতবর্ষ কেন যতদিন বাংলা ভাষা, সাহিত্য বেঁচে থাকবে ততদিন তাঁর কবিতা পঠিত হবে কবি, লেখক, পাঠক, শিল্পী, সাধারণ মানুষের কণ্ঠে। একই ধারায় এ কথাও বলা যায় হলফ করে যে, যুগ যতই পালটে যাক, ভাষাবৈচিত্রের, বানানের যতই পরিবর্তন হোক, বাংলা সাহিত্যের একমেবাদ্বিতীয়ম কথাশিল্পী শরৎচন্দের সৃষ্টিকেও সর্বসাধারণ একই আগ্রহ, একই ব্যাকুলতা নিয়ে যুগ যুগ ধরে আদৃত করে রাখবে হৃদয়ের চিরন্তন ভাব, ভালোবাসা, সুখ ও দু:খের আবেগে, আবহে। প্রাথমিক ভাবে সাহিত্যের মূল ধারায় গল্প, উপন্যাস ও কবিতাই সাধারণত ভাবনায় আসে যদিও প্রবন্ধ সাহিত্য ও নাটকও সমভাবেই প্রণিধানযোগ্য। এ কথা অনস্বীকার্য। কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর একগুচ্ছ উপন্যাস, ছোটগল্প, বড়গল্প ও প্রবন্ধের জন্য বহুচর্চিত ও বহুনন্দিত। বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে তৎকালীন সমাজের সার্বিক রূপ তিনি অত্যন্ত কুশলী রূপে ফুটিয়ে তুলেছেন। সত্যিকারের ...

মুক্তক গদ্যধর্মী কবিতার ভিড়ে অলৌকিক একাকিত্ব

কবিতা শুধু লেখার নয়। পড়ার এবং হৃদয়ঙ্গম করারও। লিখতে যেমন জানতে হয় তেমনি পড়তেও জানতে হয়। লিখতে গিয়ে যতিচিহ্নগুলির ব্যবহার যেমন জানতে হয় তেমনি পড়তে গিয়ে যতিচিহ্নের ঠিকঠাক ব্যবহার না করলে ঠকতে হয়, হরেকরকমবা হয়। কবি ও পাঠকের মধ্যে তৈরি হয় না যোগসূত্র। ফলত রসকষহীন এক ব্যর্থ পঠনে পর্যবসিত হয় কবিতা। মেলবন্ধন বিহনে হৃদয়ঙ্গমও হয় না। এক্ষেত্রে দায় উভয় পক্ষেরই। কবির যেমন কবিতাকে সর্বজনগ্রাহ্য করে তোলায় সচেষ্ট থাকা উচিত তেমনি পাঠকও নিবিড়তায়, নিমগ্নতায় কবিতা পাঠে রত হওয়া উচিত।   কবি শ্রাবন্তী দাশ পুরকায়স্থ স্বল্পশ্রুত এক নাম। অথচ এমনটা হওয়ার কথা ছিল না। উত্তরপূর্বের কাব্যভুবনে এই তরুণী কবি তাঁর একান্ত নিজস্ব কাব্য-আঙ্গিকে একমেবাদ্বিতীয়ম। এটা বলা যায় হলফ করেই। কিন্তু তাঁর কবিতা হৃদয়ঙ্গম করতে হলে নিমগ্নতায় ডুব দিতে হবে তাঁর কবিতার গভীরে। আবছা পঠনে পাঠক হয়তো তল খুঁজে পাবেন না কবিতার । ৬৪ পৃষ্ঠার আলোচ্য কাব্যগ্রন্থে সন্নিবিষ্ট হয়েছে মোট ৪৭টি কবিতা । এর মধ্যে রয়েছে ‘ অলৌকিক একাকিত্ব ’ সিরিজের একাধিক কবিতা । শুরু হোক গ্রন্থের প্রথম কবিতা ‘ অভিসার ’ দিয়ে । ( ১ ) মহাপথ । ... গ্যালাক্সি মায়া ক্রশ ব...

ধারাবাহিকতার এক প্রত্যয়িত নিদর্শন - ‘সীমান্তরশ্মি’ - ১২শ সংখ্যা

মনোলোভা রঙে চিত্রিত অ্যাবস্ট্রাক্ট আর্টের নান্দনিক চিত্র সংবলিত একটি প্রচ্ছদ প্রথমেই নজর কেড়ে নেয় পাঠকের। ছিমছাম একটি পত্রিকা সংখ্যা হাতে তুলে নিতে দ্বিধা কাটিয়ে তোলে নিমেষে। শ্রীভূমি থেকে নিয়মিত প্রকাশিত ‘সীমান্তরশ্মি’ পত্রিকার দ্বাদশ সংখ্যার এই অপূর্ব প্রচ্ছদের সৌজন্যে মানস ভট্টাচার্য। ৭২ পৃষ্ঠার ১/৪ ট্যাবলয়েড রেগুলার সাইজের পত্রিকার অভ্যন্তরেও যে নান্দনিকতা নেই তা বলা যাবে না মোটেও। ছোটপত্রিকার সম্পাদকের দায়বদ্ধতা ও বাধ্যবাধকতার পাশাপাশি সামান্যকে অসামান্য করে তোলার সম্পাদকীয় প্রচেষ্টা অক্ষুণ্ণ রেখেছেন সম্পাদক। গদ্য ও পদ্যের সমাবেশে পদ্যেরই পাল্লা ভারী অন্যান্য সংখ্যারই মতো। তবে ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়নি, বিশেষ করে কিছু ভিন্নধর্মী কবিতার সন্নিবেশে। সম্পাদকীয়তে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আত্মোপলব্ধি রয়েছে যার সম্যক উল্লেখ প্রাসঙ্গিকতার দাবি রাখে - ‘...আমরা খুব কম সংখ্যক লোক একটি বৃহৎ নৌকার সওয়ার, তবে আমরা এক গোষ্ঠীভুক্ত নই, আমরা বিভক্ত... বিচ্ছিন্ন এবং আত্মম্ভরি মানসিকতা নিয়ে ছোট নৌকার সওয়ার হয়ে বিশাল সাহিত্য নামক নদী পার হওয়া শুধু কঠিন নয়, অসম্ভবও। ...আমরা নিজের মুখ আয়নায় দেখি না। আমাদের অহং নি...

সমকালে প্রকাশিত রাজ্যের দুই প্রান্তীয় পত্রিকার নববর্ষ সংখ্যা

বিদ্যুৎ চক্রবর্তী শারদীয় উন্মাদনার মতোই নববর্ষ আপামর বাঙালির কাছে এক বুকভরা আশার উৎসব। বছরভর সুখশান্তির প্রত্যাশায় মেতে ওঠে বাঙালি আপন সৌষ্ঠবে। আর সেই সৌষ্ঠবের এক নান্দনিক এবং বিশেষ অঙ্গ হচ্ছে বর্ষবরণ উপলক্ষে প্রকাশিত পত্রপত্রিকা। ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের বৈশাখে অসমের দুই প্রান্ত থেকে প্রকাশিত দুটি উৎকৃষ্ট পত্রিকাসংখ্যা উন্মোচিত হয়ে এসেছে পাঠকের দরবারে। আয়োজনে, প্রত্যাশাপূরণে, গরজে ও নিবেদনে যৎপরোনাস্তি সচেষ্ট থেকেছেন উভয় পত্রিকার সম্পাদকবৃন্দ। প্রান্তিক নিম্ন অসমের কোকরাঝাড় থেকে নিয়মিত প্রকাশিত হয় নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনের মুখপত্র এই পত্রিকা। এবারেও ঘটেনি ব্যত্যয়। ১/৪ ক্রাউন সাইজের ৭২ পৃষ্ঠা জুড়ে রয়েছে প্রবন্ধ , কবিতা , গল্পের সম্ভার । প্রবন্ধ বিভাগের শুরুতেই রয়েছে দু’দুটি ব্যতিক্রমী পরিবেশন। সদ্য প্রয়াত সাহিত্যিক শংকর-এর লেখালেখি নিয়ে রচিত দুটি প্রবন্ধই যথাযথ এবং তথ্যনির্ভর। বিপ্লব শর্মার ‘নগর-বাউল শংকর’ একটি সংগ্রহযোগ্য লেখা যেখানে প্রবন্ধকার প্রয়াত সাহিত্যিকের লেখার গভীরতা অনেকখানি ছুঁতে পেরেছেন। জয়দীপ দে’র ‘সাহিত্যিক শংকর - এক অসাধারণ কথাশিল্পী’ বহু চমকপ্রদ তথ্যে ভরপুর। নিখিল ভারত ...

স্বরচিত সাহিত্য ও আত্মোপলব্ধির অনবদ্য পুনরাবলোকন

১৫৬ পৃষ্ঠার গ্রন্থটির টাইটেল ভার্সো পেজে-এ বলা হয়েছে - ‘হৃদয়ে সঞ্চিত জীবনের আরব্ধ বাস্তব অভিজ্ঞতা ও কাল্পনিক আখ্যানসমৃদ্ধ সুচিন্তিত রচনাসমূহের সংকলন।’ আসলে গ্রন্থে সন্নিবিষ্ট অধ্যায় বা বিষয়সমূহকে স্পষ্ট দুটি ভাগে শ্রেণিবদ্ধ করা যায় - স্মৃতিকথা ও স্বরচিত গল্প। গ্রন্থকারের ভাষায় একটি প্রবন্ধ/গল্প সংকলন। লেখক নির্মলেন্দু চট্টোপাধ্যায়, গুয়াহাটির পাণ্ডুস্থিত বিদ্যামন্দির উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যক্ষ। একজন শিক্ষকের জীবন অভিজ্ঞতা ও মূল্যবোধ অপরিমেয়। প্রকৃতার্থেই তাঁরা ‘মানুষ গড়ার কারিগর’। আর এই মানুষ গড়তে গিয়েই জীবনের বিচিত্র সব ঘটনা, পরিঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকেন তাঁরা। তারই এক উৎকৃষ্ট নিদর্শন আলোচ্য গ্রন্থটি। অশীতিপর এই জ্ঞানতপস্বী বড়ই যত্ন করে ধরে রেখেছেন তাঁর জীবনের কখনও ভুলতে না পারা মুহূর্তের বহু ছবি - স্মৃতিমূলক নিবন্ধে, গল্পের ছলে। শুরুতেই ভূমিকায় গ্রন্থের নির্যাস তথা প্রয়োজনীয় তথাদি সংযোজন করে পাঠের খেই ধরিয়ে দিয়েছেন বিশিষ্ট লেখক, সম্পাদক প্রমোদ রঞ্জন সাহা। গ্রন্থকার সম্পর্কে কিছু কথা এখান থেকে - ‘…কর্মজীবনে তিনি ছিলেন একজন কৃতী শিক্ষক। …অবসর প্রাপ্তির পর হাতে তুলে নিয়েছে...

নদীর শিয়রে বৃষ্টির মতো দু:খ ঝরে অহর্নিশ... দুঃখগাথার যতনে কাব্যসুখের প্রকাশ

কিছু দু:খ সারাটি জীবনকে যেন পুড়িয়ে নি:শেষ করে। বিস্মৃতির গর্ভে ফেলে দিতে চাইলেও তা সম্ভব হয় না। ফিরে ফিরে আসে আসে ভিন্ন ভিন্ন আবহে। কিছু দু:খ ভুলে যাওয়া যায় নতুনতর প্রাপ্তির আনন্দে। আবার কিছু দু:খ যত্ন করে তুলে রেখে দিতে হয় স্মৃতির ঝাঁপিতে কারণ সেই ঝাঁপি মাঝে মাঝে খুলে নিয়ে সেইসব দু:খগাথাকে বারবার আত্মস্থ করে নিতে ইচ্ছে হয় সুখের পরশ পেতে। এ বড়ই বিচিত্র এক অনুভূতি যেখানে দু:খের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে সুখের আকর। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ বাংলা সাহিত্য জগতে পুলিন রায় একটি পরিচিত নাম। একাধারে কবি, গদ্যকার ও সিলেট থেকে প্রকাশিত স্বনামধন্য ‘ভাস্কর’ পত্রিকার সম্পাদক তিনি। ইতোমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে তাঁর ছয়টি কাব্যগ্রন্থ। স্মৃতিময় দু:খ আর দু:খের স্মৃতি নিয়ে তাঁর আবেগ-আসক্তি আছে, আছে প্যাশন। স্মৃতিকাতরতা আর দু:খব্যথা পাশাপাশি চলে তাঁর কবিতায়- ...মেঘলার চোখে কেবল দু:খজল ডানা ঝাপটায় গুলিবিদ্ধ রঙিন এক পাখি, যত্ন করে দু:খ পুষি মেঘলার হাসিমুখ দেখার অপেক্ষায়। ৪৮ পৃষ্ঠার গ্রন্থে সন্নিবিষ্ট ৪০টি কবিতায় এভাবেই ফিরে ফিরে এসেছে স্মৃতিকাতরতা আর দু:খব্যথার অনুষঙ্গ। জীবনের ফেলে আসা পথ, কবির অত্যন্ত নিজস্ব পরিসর, তাঁর...

ধোঁয়ায় ভর করে ওড়ে কেতাবি প্রবচন... কবিতায় উদ্ভাসিত সমকালিক চিত্রকল্প

উত্তরবঙ্গের বাসিন্দা, কবি উৎপলেন্দু পাল। চিত্রকল্পের কবি। আগরতলার দৈনিক বজ্রকণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক, কবি রাজেশ চন্দ্র দেবনাথ দ্বারা প্রকাশিত উৎপলেন্দুর সাম্প্রতিকতম ভূমিকাবিহীন, সূচিপত্রবিহীন এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ। ৪৮ পৃষ্ঠার স্যাডল স্টিচ কাব্যগ্রন্থে রয়েছে ৫ থেকে ১৬ পঙ্‌ক্তির মোট ৪৪টি কবিতা। শেষ প্রচ্ছদে ব্লার্ব হিসেবে প্রকাশক লিখছেন - ‘…কবি তাঁর লেখার মধ্য দিয়ে বর্তমান সময়ের বিমূর্ত চিত্র আঁকার চেষ্টা করেন। মানুষ যে স্বাধীনতা নিয়ে জন্মায় ক্রমশ তা হারিয়ে ফেলে একটা ক্ষুদ্র বৃত্তের ভেতর গুটিয়ে যায়…।’ সম্ভবত এই ভাব ও বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে এমন গ্রন্থনাম। প্রকৃতার্থে প্রতিটি কবিতাতেই যেন ভেসে উঠেছে এক একটি বিচিত্র চিত্রকল্প। আর সেইসব অনিয়ম, বেহাল সমাজচিত্র থেকে বেরিয়ে আসার এক তীব্র প্রয়াস। প্রথম কবিতাতেই এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায় - চলো একবার ধ্যান করতে বসি/ ক্লান্ত যাপনের ক্ষতচিহ্নগুলি ফেলে এসে/ শরীরকে টেনে নিয়ে বসাই কোনো নির্জন উপদ্বীপে.../ মুণ্ডিত মস্তকে ডুব দিই কালের ত্রিবেণীসঙ্গমে/ চলো অন্তত একবার ধ্যান করতে বসি। (কবিতা - চলো ধ্যান করতে বসি)। আসলে কবি নিজেই কিছুটা ...

সমৃদ্ধ অতীতের শ্রমসাধ্য পুনরাবিষ্কার ও পুনর্মূল্যায়ন

তত্ত্ব ও তথ্যের যথেষ্ট জ্ঞান বা সম্ভার না থাকলে প্রবন্ধ সাহিত্যের অঙ্গনে অন্তর্ভুক্ত হওয়া বড় সহজ কথা নয়। বিষয়ভিত্তিক তথ্যের উপর যথোচিত প্রজ্ঞা এক্ষেত্রে এক অতি আবশ্যকীয় মাপকাঠি। আর প্রবন্ধ সংকলন যাঁর প্রকাশিত হয় তাঁর চর্চা ও মেধা কতটুকু বিকশিত হলে এমন কার্য সম্পন্ন হয় তা অতি সহজেই বোধগম্য। কবি, লেখক গোপাল চন্দ্র দাসের সদ্যপ্রকাশিত প্রবন্ধ সংকলনটি উপর্যুক্ত যাবতীয় মাপকাঠিকে ছাড়িয়ে গেছে অনায়াসে। লোকসংস্কৃতি বিষয়ক ৮টি প্রবন্ধযুক্ত ১২৮ পৃষ্ঠার সংকলন গ্রন্থে এমন একটি প্রবন্ধ আছে যার ব্যাপ্তি ৪৮ পৃষ্ঠা। অর্থাৎ বলা যেতে পারে একটি তিন ফর্মার একক গ্রন্থই হয়ে উঠতে পারত এই প্রবন্ধটি। বিশেষ করে আজকের দিনে যখন দেখা যায় ৪৮ পৃষ্ঠার কবিতা কিংবা অণুগল্পের সংকলন প্রকাশিত হচ্ছে আকছার। ব্লার্বের প্রথম ফ্ল্যাপে অত্যন্ত গোছানো এবং সার্বিক একটি লেখক পরিচিতি থাকলেও ব্লার্বের দ্বিতীয় ফ্ল্যাপ ও শেষ প্রচ্ছদ খালি থেকে গেছে। কোথাও প্রকাশকের তরফে গ্রন্থ সম্পর্কিত তথ্যাদি সন্নিবিষ্ট করা যেত। অবশ্য এর পরিবর্তে গ্রন্থের নান্দীমুখেই রয়েছে ‘প্রকাশকের কথা’ - যেখানে বিশিষ্ট লেখক অমিত চট্টোপাধ্যায় লিখছেন - ‘...লেখার মধ্যে...

সার্ধশতবর্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি ভাষা-সাহিত্য বিষয়ক আত্মসমীক্ষায় কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

যুগ যুগ ধরে চিরন্তন বাঙালি পাঠক সমাজে কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একচ্ছত্রভাবে যে সিংহাসনে আসীন হয়েছিলেন এবং অবস্থান করছেন সেই উচ্চতায় আজও কেউ পৌঁছোতে পারেননি, এ কথা বলা যায় হলফ করে। গত একশো বছরেরও বেশি সময় ধরে ভাষা পালটেছে, বানান, গদ্যরীতি সবই পালটেছে তবু নিমগ্ন পাঠককূলের হৃদয়তন্ত্রের প্রতিটি ঝংকারে গল্পকার, উপন্যাসকার শরৎচন্দ্রের অমর সাহিত্যকীর্তি প্রতিক্ষণে অনুরণিত হয় - আজও, আবহমান কাল ধরে। নিখাদ সরল বাক্যের সমন্বয়ে রচিত তাঁর সব অমর কীর্তি বাংলা সাহিত্যের ভাণ্ডারে এক অমূল্য সম্পদ। সমকালিক সমাজ ব্যবস্থাকে বাচনশৈলীর আঙ্গিকে তিনি লিপিবদ্ধ করেছেন যা চিরকালীন। তাঁর সৃষ্ট একাধিক চরিত্র আজও অক্ষয় হয়ে আছে বাংলা সাহিত্যের নিমগ্ন পাঠকের মনমানসে। তাঁর ‘মহেশ’ গল্পের গফুর চরিত্রের শেষ সংলাপ আজও অশ্রূভারাক্রান্ত করে তোলে পাঠককে।  কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সমসাময়িক সাহিত্যিক হিসেবে শরৎচন্দ্র আপন সাহিত্য রচনায় যে অসাধারণত্ব এবং স্বাতন্ত্র্যের সৃষ্টি করে গেছেন তা যুগ যুগ ধরে প্রতিটি বাঙালির সাহিত্য উপলব্ধি এবং সাহিত্য সাধনার ক্ষেত্রটিকে পরিপূর্ণতায় ভরিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এখনও অ্যাভা...

কৃশতনু হলেও কেতায় প্রকাশিত ১৬০তম সংখ্যা ‘মজলিশ সংলাপ’

‘ নবর্ষায় স্বস্তিসুখের ঝমঝম বারিধারার মতোই নববর্ষ আবহমান বাঙালির জীবনে বয়ে আনে এক অন্তর্লীন সুখানুভূতির দমক । জীবনে আধুনিকতার ছাপ যতই পড়ুক , যতই আসুক বেলাগাম পরিবর্তনের ঢেউ , চিরন্তন সংস্কারবোধ ও আত্মগরিমার , আত্মোপলব্ধির , আত্মগত যাপনের নির্ঘণ্টযাপন এক ভিন্নতর সন্তুষ্টির জন্ম দেয় হৃদয়ে । আসন্ন বা আগত বৈশাখ তাই অজান্তেই যেন উদ্ ‌ বুদ্ধ করে , উজ্জ্বলিত করে আমাদের বোধের জগৎ । আমাদের অস্থিমজ্জায় সযত্নে লালিত উদ্ ‌ যাপন তাই অবধারিত হয়ে ধরা দেয় মনন জুড়ে । হিন্দোল জাগে মনে , এক নূতনত্বের অদেখা আনন্দে । পুরোনো দু : খব্যথাকে দূরে সরিয়ে নূতনের আবাহনে এক সুখযাপন যেন প্রতিবিম্ব হয়ে জায়গা করে নেয় চোখের মণিতে …. । ’ - এভাবেই নান্দনিক ও ললিত সৌন্দর্যে লিখিত সম্পাদকীয় , ‘ মজলিশ সংলাপ ’ পত্রিকার ধারাবাহিক সম্পদ হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে একের পর এক সংখ্যায় । আর শুধু সম্পাদকীয়ই কেন , সুচয়িত রচনাসম্ভারও এই পত্রিকার নিয়মিত অন্তর্ভুক্তি । একে একে ১৬০তম সংখ্যাও প্রকাশিত হয়ে গেল কিছুদিন আগে - ১৪৩৩ নবর্ষ সংখ্যা হিসেবে । পলাক্ষী দাসের অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক প্রচ্ছদচিত্রটিও ঠিক ততটাই নান্দনিক । সম্ভার বলা...

স্বাধীনতা আমাদের ঈশ্বর - আমাদের ভালোবাসা

দ্বিশততম বর্ষে আজও নমস্য ও সমান প্রাসঙ্গিক হয়ে আছেন কবি ও গদ্যকার রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বিশেষত একটি কালজয়ী কবিতার জন্য। ‘স্বাধীনতা-সঙ্গীত’ শিরোনামে যে কবিতাটি তিনি লিখে গেছেন তাতে একাধারে নিহিত রয়েছে স্বাধীনতার যন্ত্রণা, মন্ত্র ও স্পৃহা। বস্তুত স্বাধীনতা এমন এক শব্দ যার মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে তাবৎ বিশ্বের প্রাণীকুলের মনন-চিন্তনে থাকা এক অদম্য স্পৃহা, আপন ইচ্ছা অনুযায়ী বেঁচে থাকার মন্ত্র। ব্যক্তিগত জীবনে যেমন প্রতিটি প্রাণীই স্বাধীনতাস্পৃহ তেমনি সামাজিক জীবনেও স্বাধীনতা এক অপরিহার্য প্রাপ্তি। আর সামাজিক স্বাধীনতা তখনই আসে যখন নিজ যাপনভূমি স্বাধীন থাকে। আমাদের স্বাধীন ভারতবর্ষের বয়স খুব বেশি নয়। এই স্বাধীনতা ছিল বিদেশি ইংরেজ শাসনের থেকে মুক্তির স্বাধীনতা। দীর্ঘ প্রায় দুশো বছরের পরাধীনতার গ্লানি, দুর্ভোগ ও অত্যাচার সইতে হয়েছে ভারতবাসীকে। কত প্রাণ ঝরে গেছে অকালে। এই পরাধীনতা থেকে মুক্তির উপায় খুঁজে যেমন রাজরোষে পড়েছিলেন অনেক অনেক সংগ্রামী, বিপ্লবী, কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী তেমনি অকথ্য অত্যাচারের বলি হয়েছেন অগণিত সাধারণ মানুষ। স্বাধীনতা একদিনে আসেনি। দীর্ঘকালের লড়াইয়ের ফসল এই স্বাধীনতা। আজ অ...

বনের পাখি

মনোময় বসন্তের প্রারম্ভে চমৎকার এক কবিতার আসর বসেছে প্রকৃতির বনময় অঙ্গনে। উৎফুল্ল আগত অতিথি কবি সাহিত্যিকবৃন্দ। এতদিন ধরে মঞ্চে কবিতা পাঠ করেই সবাই অভ্যস্ত, এবং কিছুটা বিধ্বস্তও। শহর থেকে একে একে সংকীর্ণ হয়েছে এখানে পৌঁছানোর পথ। শেষটায় কিছুটা পথ পায়ে হেঁটেই তাই কবিতাঙ্গনে হাজির হয়েছেন সবাই। চারধারে অসংখ্য জানা অজানা গাছগাছালির সবুজাভা ও সদ্য প্রস্ফুটিত ফুলের গন্ধে এক স্বর্গীয় পরিবেশ। একটি কোকিল অনেকক্ষণ ধরেই সুললিত কণ্ঠে বসন্তের বার্তা ছড়িয়ে যাচ্ছিল চরাচরে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই সঞ্চালক ঘোষণা করলেন - ‘আমাদের আজকের এই আয়োজনে প্রথমেই আমরা মঞ্চে আহ্বান জানাচ্ছি এ অঞ্চলের উঠতি প্রজন্মের খ্যাতিমান কবি অনিরুদ্ধ শর্মাকে।’ দর্শকাসনে সামনের সারিতে নামিদামি কবি, পিছনে নবাগতরা। অনিরুদ্ধ পড়লেন তাঁর কবিতা। আধুনিক কবিতা - বলা ভালো অত্যাধুনিক কবিতা, এআই ঋদ্ধ হাইটেক কবিতা। শুনলেন সবাই - শব্দের কারিকুরি, বলা ভালো জারিজুরি। অধিকাংশেরই মাথার উপর দিয়ে গেল। বনের ঝিঁঝি পোকার একটানা শব্দের মতোই শব্দের অনুরণন বাজতে লাগল মস্তিষ্কে। মনে মনে একেক জন একেক রকম বিশ্লেষণ করছেন কবিতার। তাঁদের দিকে তাকিয়ে অনিরুদ্ধ এক রহস...